ঐতিহাসিক সম্মানিত বদর জিহাদ (পর্ব-২৫)
, ৩০ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২০ ছানী, ১৩৯১ শামসী সন , ১৯ জুলাই, ২০২৩ খ্রি:, ০৪ শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
পূর্ব প্রকাশিতের পর
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-
قَالَ حضرت ابْنُ إسْحَاقَ رحمة الله عليه، ثُمّ عَدّلَ رَسُولُ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ الصّفُوفَ وَرَجَعَ إلَى الْعَرِيشِ فَدَخَلَهُ وَمَعَهُ فِيهِ حضرت أَبُو بَكْرٍ الصّدّيقُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ، لَيْسَ مَعَهُ فِيْهِ غَيْرُهُ وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يُنَاشِدُ رَبَّهُ مَا وَعَدَهُ مِنَ النَّصْرِ وَيَقُوْلُ فِيْمَا يَقُوْلُ اَللّٰهُمَّ إِنْ تَهْلِكْ هَذِهِ الْعِصَابَةُ الْيَوْمَ لَا تُعْبَدْ وَحضرت أَبُو بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلاَمُ يَقُوْلُ يَا نَبِيَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ كَفَاكَ مُنَاشَدَتُكَ رَبُّكَ، فَإِنّ اللهَ مُنَجّزٌ لَكَ مَا وَعَدَكَ صَلَّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَفْقَةً وَهُوَ فِي الْعَرِيشِ ثُمّ انْتَبَهَ فَقَالَ " أَبْشِرْ يَا حضرت أَبَا بَكْرٍ الصّدّيقَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ، أَتَاكَ نَصْرُ اللهِ هَذَا حَضْرَتْ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ آخِذٌ بِعَنَانِ فَرَسٍ يَقُودُهُ عَلَى ثَنَايَاهُ النّقْعُ،
অর্থ: “হযরত ইবনে ইসহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত মুসলিম মুজাহিদ কাফিলা উনাদেরকে সুশৃঙ্খলভাবে কাতারবন্দি করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করালেন। (অপরদিকে কুরাইশ কাফির মুশরিকরাও প্রস্তুত। এরপর শুরু হলো উভয়পক্ষের যুদ্ধ। তুমুলভাবে জিহাদ মুবারক চলছে।) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁবুতে তাশরিফ মুবারক গ্রহণ করেন। (সেখানে দুই রাকায়াত ছলাত মুবারক আদায় করেন। ছলাত মুবারক শেষে) তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মহাসম্মানিত নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) উঠিয়ে মুনাজাত মুবারক করেন, “আয় বারে ইলাহী! আজ আপনি যে সাহায্য করার অর্থাৎ বিজয়ের যে ওয়াদা মুবারক করেছেন, তা পূর্ণ করুন। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দোয়ার মধ্যে যা ইরশাদ মুবারক করেছেন তা হলো: “আয় বারে ইলাহী! আজ যদি আপনি এই মুজাহিদ বাহিনীকে বিজয়ী না করেন, তাহলে আপনার জমিনে ক্বিয়ামত পর্যন্ত ইবাদত করার মতো কোন লোক থাকবে না। (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এতো গভীর মনোযোগ সহকারে দোয়া করেন যে, উনার মহাসম্মানিত নূরুল মুজাসসাম মুবারক থেকে (জিসিম মুবারক থেকে) চাদর মুবারক পড়ে যায়। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি চাদর মুবারক পুনরায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (জিসিম মুবারক) উনার উপর সুন্দরভাবে আচ্ছাদিত করে দেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বার বার উক্ত দোয়া করেন।) সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি, উক্ত দোয়া মুবারক শুনে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আরজু মুবারক করলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ্্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার দোয়া মুবারক যথেষ্ট হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে আজ সাহায্য মুবারক করবেন বলে যে ওয়াদা মুবারক করেছেন, তিনি অবশ্যই তা পূরণ করবেন। সুবহানাল্লাহ! দোয়ার এক পর্যায়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নূরুত তাক্বরীর মুবারক (মহাপবিত্র তাবাস্সুম মুবারক) প্রকাশ করে (মুচকি হাসি মুবারক হেসে) সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম! আপনি সংবাদ শ্রবণ করুন; মহান আল্লাহ পাক উনার গায়েবী মদদ এসেছেন। হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি (এতক্ষণ ধরে ঘোড়ার পিঠে আরোহন করে আসমান ও জমিনের মাঝখানে অবস্থান করছিলেন। এখন তিনি নিচে নেমে এসে আমাকে বললেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ্্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার দোয় মুবারক কবুল করেছেন এবং একমাত্র আপনারই সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সাহায্য পাঠিয়েছেন।) সুবহানাল্লাহ্্! হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি উনার ঘোড়ার লাগাম ধরে আছেন। আর উনার ঘোড়ার সামনের দাঁতে ধুলা-বালি লেগে রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে মাযহারী, সীরাতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইবনে হিশাম, জিলদ- ২ পৃষ্ঠা ২৮৭-২৮৮, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, সীরাতে হালাবিয়্যাহ)
-আল্লামা মুহম্মদ জাহাঙ্গীর হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












