ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৩৭)
, ২০ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১১ আউওয়াল, ১৩৯১ শামসী সন , ১০ জুন, ২০২৩ খ্রি:, ২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আইন ও জিহাদ
মুনাফিকরা সবই বুঝলো। তাদের দলের মা’তাব ইবনে কুশাইর আমেরী প্রকাশ্যে বলেই বসলো, হে আল্লাহ পাক উনার রসূল! আপনি তো অঙ্গীকার করেছেন, আমাদের দখলে আসবে রোম ও পারস্যের ধনভা-ার। কিন্তু এখন তো আমাদের কঠিন অবস্থা। আমরা তো জঙ্গলে গিয়েও আর প্রাণরক্ষা করতে পারবো না। তাহলে আপনার এবং আপনার যিনি রব তা’আলা মহান আল্লাহ পাক উনার ওয়াদা কি স্বাভাবিকের বিপরীত নয়? আর এক মুনাফিক আউস ইবনে কিবতী বললো, হে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতিনিধি! আমার গৃহ অরক্ষিত। বাড়িও বেশ দূরে। আমাকে এবার বাড়ি ফিরে যাবার অনুমতি দেয়া হোক। এভাবে বিভিন্ন বাহানায় অন্য মুনাফিকরাও সরে পড়তে লাগলো।
হযরত কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গের ঘটনাটি কা’ব তার গোত্র নেতাদেরকে ডেকে জানালো। ওই গোত্র নেতাদের মধ্যে ছিলো- যুবায়ের ইবনে বালতা, নাব্বাশ ইবনে কায়েস, উকবা ইবনে যায়েদ ও আরো অনেকে। তারা সকলেই কা’বের কথা শুনে মনোক্ষুণœ হলো। কেউ কেউ ভৎসর্না করলো কা’বকে। সঙ্গী সাথীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখে কা’বও হয়ে গেলো কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কিন্তু তখন সে আর প্রত্যাবর্তনের কোনো পথই খুঁজে পেলো না।
বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, হযরত যুবায়ের ইবনে আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আদেশ মুবারক করলেন, আপনাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছেন, যে আমাকে এই মুহূর্তে বনী কুরায়জার সংবাদ এনে দিতে পারবেন? একথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি উঠে দাঁড়ালাম। তৎক্ষণাৎ রওয়ানা দিলাম বনী কুরায়জার বসতির দিকে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে এসে জানালাম তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের তথ্য। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনাদের জন্য উৎসর্গীকৃত হোক আমার সম্মানিত হযরত পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা।
হযরত কাজী ছানাউল্লাহ পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বনী কুরায়জার বসতিতে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন হযরত সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের প্রত্যাবর্তনের পর। প্রথম রওয়ানাটি ছিলো অঙ্গীকার ভঙ্গের সংবাদ যাচাইকল্পে এবং পরের রওয়ানা ছিলো তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতির খবর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।
হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এসে জানালেন, বনী কুরায়জা তাদের দুর্গ সংস্কার করছে। আশে পাশের রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে। গৃহপালিত পশুগুলোকেও আবদ্ধ করছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সংবাদ সংগ্রহের সঠিক ফিরিস্তি শুনে খুব খুশী হলেন। এবং বললেন, প্রত্যেক হযরত নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের একজন বিশ্বস্ত বন্ধু ছিলেন। আর আমার বিশ্বস্ত বন্ধু হচ্ছেন হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি। সুবহানাল্লাহ ! (তাফসীরে মাযহারী)
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৪)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১২তম পর্ব)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৩)
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












