ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২৩)
, ২৬শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২০ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন , ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ০৪ ফাল্গুন, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আইন ও জিহাদ
বনু কুরায়যাকে শাস্তিদানের ব্যাপারে রায় দানকারী ছাহাবী হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক:
সম্মানিত উহুদের জিহাদে অংশ গ্রহণ:
উহুদের জিহাদে হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অবস্থান¯া’ন মুবারক পাহারার দায়িত্ব পালন করেন। উহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ১৫ জন ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাশেই অবস্থান করেছিলেন, উনাদের মধ্যে হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একজন। এই উহুদের জিহাদে উনার ভাই হযরত আমর ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইনতিকাল করেন। (তাবাকাত-২/৩০)।
খন্দকের জিহাদে অংশ গ্রহণ:
হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি অংশগ্রহন করেন। খন্দকের জিহাদের সময় হিববান ইবন আবদি মানাফ উনার দিকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়ে। কোন বর্ণনায় হিববানের পরিবর্তে আবু উসামা ইবনে আসিম অথবা খাফাজা ইবন আসিমের নাম এসেছে। তীরটি উনার হাত মুবারকে লেগে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে। (সীরাতু ইবন হিশাম ২/২২৬-২২৮,উসুদুল গাবা- ২/২৯৬)।
খন্দক জিহাদে কুরাইশরা পরাজয় বরণ করলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহুদী গোত্র বনু কুরাইজাকে শাস্তি দানের সিদ্ধান্ত নেন। আর এই শাস্তির রায়ের ব্যাপারে ইহুদিদের আবেদনক্রমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের মিত্র গোত্রের সন্তান হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মনোনিত করলেন। এই শাস্তির রায় দিতে হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, আমি আমার রায় ঘোষণা করছিঃ তাদের মধ্যে যারা যুদ্ধ করার উপযুক্ত তাদেরকে হত্যা করা হোক, তাদের নারী ও শিশুদেরকে মুসলমানদের গোলাম বাঁদীতে পরিণত করা হোক এবং তাদের ধন-সম্পদ মুসলমানদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হোক।
হযরত সা‘দ ইবনে মুয়াজ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এই রায় শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করলেন। (উসুদুল গাবা-২/২৯৭,আল-ইসাবা-২/৩৮)।
পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ:
বনু কুরায়যার ব্যাপারে হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার রায় বাস্তবায়িত হওয়ার পর অল্প কিছু দিন তিনি হায়াতে জিন্দেগী মুবারকে ছিলেন। খন্দকের ক্ষত হওয়া অংশ মুবারক থেকে রক্ত মুবারক পড়া বৃদ্ধি পাওয়ার দরুণ তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন। তিনি ৬ষ্ঠ হিজরীতে পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন। পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণকালে উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৩৭ বছর। হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়। (আল-আ’লাম-৩/১৩৯) (চলবে)।
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৯)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৮)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৭ম পর্ব)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












