ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (২২)
, ১৯ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১৩ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন , ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ২৮ই মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আইন ও জিহাদ
বনু কুরায়যাকে শাস্তিদানের ব্যাপারে রায় দানকারী ছাহাবী হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক:
হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন অন্যতম ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন। যিনি সম্মানিত বদর, উহুদ ও খন্দকের জিহাদে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সম্মানিত হিজরতের পূর্বে মদীনা শরীফে তিনি নিজ গোত্র আওসের আমীর ছিলেন। পবিত্র মদীনাবাসীদেরকে পবিত্র দ্বীন ইসলাম শিক্ষা দেয়ার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মুসয়াব ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পাঠালে উনার পবিত্র হাত মুবারকে তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম ইসলাম গ্রহণ করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বনু কুরায়যাকে অবরোধ করলে তারা হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সিদ্ধান্ত মানতে মত দেয়। তখন হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বনু কুরায়যার যুদ্ধ উপযোগী সকল পুরুষকে হত্যা, তাদের নারীদেরকে বাঁদী এবং তাদের সম্পদ ও ভূমি মুসলমানদের মাঝে বণ্টনের সিদ্ধান্ত দেন। এ ঘটনার অল্প কিছুদিন পরেই তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (সীরাতু ইবনে হিশাম-২/২৫২)।
নাম মুবারক ও বংশ পরিচয়:
হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ডাক নাম ছিলো “আবূ আমর”,“লক্বব” এবং উপাধি ছিলো সাইয়্যিদুল আউস অর্থ আউস গোত্রের সাইয়্যিদ। (তাবাকাত-(৩/৪২০)
তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বিখ্যাত আউস গোত্রের আবদুল আশহাল শাখার সন্তান ছিলেন। পিতার নাম মুয়ায ইবনে নুমান, মাতার নাম কাবশা মতান্তরে কুবাইশা বিনতু রাফি। হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মা প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত আবূ সা’ঈদ আল খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চাচাতো বোন ছিলেন। হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পিতা স্বীয় গোত্রের মধ্যে নেতা পর্যায়ের অবস্থানে ছিলেন এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম প্রকাশের পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (উসুদুল গাবা-২/২৯৬, তাহযীবুত তাহজীর - ৩/৪৮১)
হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র ইসলাম গ্রহণ:
১ম আকাবার ঘটনার পরেই হযরত মুসয়াব ইবনে উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দাওয়াতে হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। (তাবাকাত-৩/৪২০, ৪২১, সীরাতু ইবনে হিশাম -১/৪৩৫, ৪৩৭, ৪৭৯, আল-বিদায়া-৩/১৫২, উসুদুল গাবা - ৩/২৯৬)
সম্মানিত হিজরতের পর হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে হযরত আবূ উবাইদা ইবনুল জাররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মতান্তরে হযরত সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয়। (তাবাকাত)
হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিত বদরের জিহাদে অংশগ্রহণ:
সম্মানিত বদরের জিহাদের পূর্বে হিজরী ২য় সনে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূর মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরাইশ নেতা উমাইয়া ইবনে খালফের নেতৃত্বাধীন ১০০ লোকের একটি কাফিলার সন্ধানে বের হন। ইতিহাসে এটা বাওয়াত অভিযান নামে খ্যাত। একটি বর্ণনা মতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বীয় প্রতিনিধি হিসেবে হযরত সা‘দ ইবনে মুয়ায রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পবিত্র মদীনা শরীফে রেখে যান। (আনসাবুল আশরাফ-১/২৮৭)।
সম্মানিত বদরের জিহাদে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি কিছু হযরত আনছারী ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আরীশের দরজা নামক একটি দরজা পাহারার দায়িত্ব পালন করেন। একটি বর্ণনা মতে, এ জিহাদে তিনি উনার একজন গোলামকে সঙ্গে নিয়ে আমর ইবনে উবাইদুল্লাহকে হত্যা করেন। (আনসাবুল আশরাফ-১/২৯৭, ৪৭৯)।
-মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৯)
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৮)
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উম্মাহর মাঝে শ্রেষ্ঠতম মর্যাদায় আসীন
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৭ম পর্ব)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সকল কাফিররাই মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৭)
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ফাতহে মক্কা অর্থাৎ পবিত্র মক্কা শরীফ বিজয় দিবস
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












