পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তুমি এমনভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করো, যেন তুমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখতে পাচ্ছো। আর যদি তুমি উনাকে দেখতে না পাও, তবে বিশ্বাস রাখবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাকে দেখছেন।”
ইহসান উনার মাক্বামই শ্রেষ্ঠ মাক্বাম। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করে উনাদের দেয়া সবক অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে রূহানী কুওওয়াত অর্জন ও ইহসান উনার মাক্বাম হাছিল করতঃ ইখলাছ অর্জন করে হাক্বীক্বী ওলীআল্লাহ হওয়া।
, ০৮ ছফর শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৬ ছালিছ, ১৩৯২ শামসী সন , ১৪ আগষ্ট, ২০২৪ খ্রি:, ৩০ শ্রাবণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা যারিয়াত শরীফ-এর ৫৬ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, আমি জ্বীন এবং ইনসানকে একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। এখন ইবাদত করতে হবে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহাব্বত-মা’রিফাত, তায়াল্লুক-নিসবত, কুরবত হাছিল করার মাধ্যমে। এটা সম্ভব হবে ইলমে তাসাউফ তথা উপকারী ইলম অর্জন করার দ্বারা। আর ইবাদত কিভাবে করতে হবে সে সম্পর্কে পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘তুমি এমনভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করো, যেন তুমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখতে পাচ্ছো। আর যদি তুমি উনাকে দেখতে না পাও, তবে বিশ্বাস রাখবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাকে দেখছেন।’
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ইহসান কি? উত্তরে তিনি উদ্ধৃত পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ বর্ণনা করেন। উক্ত পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফের মধ্যে দু’টি অবস্থা বা মাক্বামের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই মাক্বাম দু’টিই হচ্ছে ইহসানের মাক্বাম। যা সর্বশ্রেষ্ঠ মাক্বাম। এটাকে আবদিয়াতের মাক্বামও বলা হয়।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, প্রথম মাক্বাম হলো: মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখে দেখে ইবাদত করা। যাকে বলা হয় বেলায়েতে কুবরা। অর্থাৎ এই মাক্বাম বেলায়েতে কুবরার অন্তর্ভূক্ত। দ্বিতীয় মাক্বাম হলো: মহান আল্লাহ পাক উনাকে বান্দা দেখতে না পেলেও বিশ্বাস রাখা যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে দেখছেন। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে দেখছেন এই ভয়-ভীতি রেখে ইবাদত করা। এই স্তরকে বলা হয় বেলায়েতে ছুগরা। অর্থাৎ এই মাক্বাম বেলায়েতে ছুগরার অন্তর্ভূক্ত।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, ইলমে তাসাউফের তরীক্বার সবক আদায় করার মাধ্যমে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরের সবক আদায় করার মাধ্যমে প্রথমতঃ বেলায়েতে ছুগরা অর্জন করতে হয়। বেলায়েতে ছুগরা অর্জনের পরে সবক আদায় করতে করতে একসময় বেলায়েতে কুবরায় পৌঁছা সম্ভব হয়। যার বেলায়েত যত বেশি হবে তার রুহানী কুওওয়াত বা শক্তি তত বেশি হাছিল হবে। আর বেলায়েতে ছুগরা অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়-ভীতি অর্জন করার জন্য একজন রুহানী কুওওয়াত সম্পন্ন ওলীআল্লাহ উনার শরণাপন্ন হয়ে উনার ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করতঃ নির্দেশিত যিকিরের সবক আদায় করার মাধ্যমে চির শত্রু শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হবে। তবেই শয়তানের কুমন্ত্রণা হতে বেঁচে থেকে খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে উনার ইবাদত করা সম্ভব হবে। তখনই ইহসানের মাক্বাম হাছিল হবে।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, কাজেই, প্রত্যেক মুসলমানের দ্বায়িত্ব-কর্তব্য হলো- ওলীআল্লাহগণ উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করে উনাদের দেয়া সবক অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে রূহানী কুওওয়াত অর্জন ও ইহসান উনার মাক্বাম হাছিল করতঃ ইখলাছ অর্জন করে হাক্বীক্বী ওলীআল্লাহ হওয়া।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুকরণে নাম রাখা দুনিয়ায় যেমন রহমত, বরকত ও সাকীনার কারণ, তেমনি আখিরাতে ও শাফায়াত মুবারক, নাযাত ও ফযীলত লাভের উছীলা।
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মূল্যহীন।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শয়তান আদম সন্তানের ক্বলবে আসন পেতে বসে থাকে। যখন সে যিকির করে, তখন শয়তান পালিয়ে যায়। আর যখন সে যিকির থেকে গাফিল হয়, তখন শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়।” মহান আল্লাহ পাক উনার যকিরি সমস্ত কামযি়াবীর সোপান।
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি যার অন্তরকে প্রসারিত করেন তাকেই হিদায়েত দান করেন। কিভাবে হিদায়েত লাভ করা যাবে আর কি কারণে হিদায়েত থেকে মাহরূম হয়ে যাবে সে বিষয়ে হাক্বীক্বী ইলম হাছিল করতে হলে কামিল শায়েখ বা আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার ব্যতীত কারো জন্য কোন বিকল্প নেই।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নসবনামাহ মুবারক দৈনিক পাঠ করা সকলের জন্য আবশ্যক।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- প্রত্যেকের জন্য হালাল কামাই করা, হালাল কাপড় ও দ্রব্য সামগ্রী ব্যবহার করা এবং হালাল ও পবিত্র খাদ্য খাওয়া ফরয। তাই, সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে সম্মানিত শরীয়ত কর্তৃক নির্দেশিত তারতীবে নিজে হালাল কামাই করা, হালাল কাপড় ও দ্রব্য সামগ্রী ব্যবহার করা, হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণ করা। একই সাথে অধীনস্তদেরকে হালাল কামাই, হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণে বাধ্য করা।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক বা পবিত্র জীবনী মুবারক জানা ও বেশি বেশি সর্বত্র আলোচনা করা এবং প্রতিক্ষেত্রে উনাকে পরিপূর্ণরূপে অনুসরণ-অনুকরণ করা সকলের জন্যই ফরয।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরকারী ব্যক্তি জীবিত আর যে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করেনা সে ব্যক্তি মৃত।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অন্তর থেকে বদ খাছলতসমূহ দূর করে দিয়ে পবিত্র নেক খাছলতসমূহ পয়দা করার মাধ্যমেই হাক্বীক্বী ইছলাহ বা পরিশুদ্ধতা লাভ সম্ভব। মুহলিকাতের (বদ খাছলত) কারণে ক্বলব বিনষ্ট হয়। আর মুনজিয়াতের (নেক খাছলত) কারণে ক্বলব পরিশুদ্ধ হয়।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হায়াত, মাল-সম্পদ এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হক্ব যারা আদায় করবেনা, তাদেরকে কিয়ামতের দিন অসহায় বকরীর ন্যায় উপস্থিত করা হবে।
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই কামিল শায়েখ বা মুরশিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করা, ছোহবত ইখতিয়ার করা, তরীক্বার সবক্ব আদায় করা ফরযে আইন। যার মাধ্যমে ইছলাহ বা আত্মশুদ্ধি লাভ হয়। ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে নিসবত স্থাপিত হয়। সুবহানাল্লাহ!
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পর্দা বা বোরকা মুসলমানগণ উনাদের দ্বীনি অধিকার আর খাছ করে মুসলিম মহিলাগণ উনাদের সম্মান এবং ব্যক্তিত্বেরও প্রতীক।
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












