বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান:
আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানসহ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত মুকুটস্বরূপ
, ১৬ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২১ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ০৪ পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান
সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার প্রবর্তনকৃত অঙ্গুলী চুম্বনে রয়েছে চোখের জন্য বহুরূপী কুদরতী শিফা। ‘মাকাছিদুল হাসানাহ’ সহ অনেক কিতাবে উল্লেখ করা হয়, যে ব্যক্তি পবিত্র আযানের সময় কালিমায়ে শাহাদাত শুনে অঙ্গুলী চুম্বন করতঃ চোখে লাগাবে এবং পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে তার চোখ কখনও ব্যাথায় আক্রান্ত হবে না। তার চোখে কখনো যন্ত্রণা হবে না। সে কখনো অন্ধ হবে না। তার চোখে কোনো রোগও হবে না। সুবহানাল্লাহ! হযরত নাসিরুদ্দীন খোরাসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চোখের রোগে আক্রান্ত হলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে মুবারক স্বপ্নে বলেন, আপনি পবিত্র আযানের সময় আমার নাম মুবারক শুনে বৃদ্ধাঙ্গুলী চুম্বন করে চোখে লাগান। ঘুম থেকে উঠে তিনি সেই আমল শুরু করেন এবং তিনি ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত চোখের যাবতীয় রোগ হতে হিফাযত থাকেন। (নাহজুস সালামাহ)
অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি এমন আমলের প্রচলন করেছেন, যার মাধ্যমে চোখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রয়েছে সীমাহীন উপকারিতা।
কিতাবে উল্লেখ করা হয়, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সর্বপ্রথম চুল ও দাড়ি মুবারকে মেহেদী ব্যবহার করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরের জন্য মেহেদীর বহুমুখী উপকারিতা রয়েছে। চুল পড়া, পাকা, ফেটে যাওয়া ইত্যাদি রোধে মেহেদী খুবই উপকারী। তাছাড়া বার্ধক্যজনিত চামড়ার বলি রেখা, মুখের রোগ, জন্ডিস, শ্বেতী বা কুষ্ঠ রোগসহ বিভিন্ন রোগে মেহেদীতে রয়েছে শিফা। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি এমন একটি উদ্ভিদের আবিষ্কার করেছেন, যা চিকিৎসা শাস্ত্রে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ।
স্বপ্ন মানব জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য বিষয়। বলা হয়, ঘুমের ঘোরে মানুষের রূহ ঘুরে বেড়ায়। তখন অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত অনেক কিছুই তার নিকট প্রস্ফুটিত হয়। তখন মানুষ যা আয়ত্ব করে রাখতে পারে, তা স্বপ্ন নামে অভিহিত হয়। সঙ্গতকারণে স্বপ্ন সংক্রান্ত জ্ঞান তথা স্বপ্নের তাবীর বা ব্যাখ্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলম। যা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি প্রচার প্রসার করেছেন এবং উম্মাহর মাঝে বিস্তার ঘটিয়েছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, হযরত সামুরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে স্বপ্নের তাবীরের ব্যাপারে দায়িত্বশীল বানাতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করবেন। আর সত্য স্বপ্ন নুবুওয়াতের অংশ। (তাবরানী, জামিউল আহাদীছ)
ইসলাম পূর্ব যুগে যুদ্ধবন্দীদেরকে হত্যা করা হতো বা গোলাম বানানো হতো। সম্মানিত বদর জিহাদের যুদ্ধ বন্দীদের ব্যাপারে পরামর্শ চাওয়া হলে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পরামর্শ অনুযায়ী যুদ্ধবন্দীদের জন্য মুক্তিপণের সুযোগ প্রদান করা হয়। অর্থাৎ, সামরিক ক্ষেত্রের অন্যতম দিক যুদ্ধবন্দীদেরকে মুক্তিপণ আদায় করে মুক্তি লাভ করার সুযোগ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনারই আবিষ্কার ও দান।
এ কথা ব্যাপক আলোচিত যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যাকাতের জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করে বলেন, “যে ব্যক্তি নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি তাকে হত্যা করবো। যে ব্যক্তি যাকাতের একটি রশি দিতেও অস্বীকার করবে তার বিরুদ্ধে আমি জিহাদ ঘোষণা করবো। ” সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যাকাতের জন্য জিহাদ করে একদিকে মুসলমানদের মাল ও জানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে যাকাতভিত্তিক ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে তিনি ইসলামী অর্থনীতির মূল রূপকার হিসেবে অভিহিত হয়েছেন। কিতাবে উল্লেখ করা হয়, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সর্বপ্রথম বাইতুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন। যাকাতের ব্যাপক প্রচলনের মাধ্যমে যাকাতভিত্তিক ইসলামী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর বাইতুল মালের মাধ্যমে অর্থনীতি সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্ত হয়েছে। যা উনার অনন্য দান ও ইহসান মুবারক।
মূল কথা হচ্ছে, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি চিকিৎসা, সমর, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ের সূচনা ও উদ্ভব করেছেন। আর তাই তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রধান পৃষ্ঠপোষকদের সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
-মুহম্মদ ইমাদুদ্দীন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৫)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিখ্যাত মুসলিম প্রকৌশলী রিদওয়ান আল-সাতীর আবিষ্কার করা উমাইয়া মসজিদের ঘড়ি
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সভ্যতার বিকাশে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার উইন্ডমিল বা বায়ুকল
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৩)
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (২)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও শল্যবিদ আবু মারওয়ান আবদুল মালিক ইবনে আবীল আলা ইবনে যুহর
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানরা আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: কৃষিতে মুসলমানদের অবদান
২৭ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলমানদের সমস্ত কিছু চুরি করেই কাফির-মুশরিকরা আজ বিজ্ঞানী সেজেছে
২২ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানরা আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: পদার্থ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান
২৫ জুলাই, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলিম স্বর্ণালী যুগের লাইব্রেরির ধরণ ও পরিচালনা
২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












