 | সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক, উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম। দেশের জনশক্তি রফতানি কমছেই। বিগত বছরের তুলনায় এ বছরের গত ৭ মাসে জনশক্তি রফতানি প্রায় ২০ ভাগ কমেছে। একই সঙ্গে গত চার মাস ধরেই কমতে শুরু করেছে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবৃদ্ধিও (রেমিটেন্স)। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের প্রথম ৭ মাসে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৫ জন কর্মী বিদেশ গিয়েছিলেন। এ বছরের গত ৭ মাসে এ সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ১৭১ জন। এক বছরে ৫৭ হাজার ৭৫৪ কর্মী কম বিদেশ গেছেন। ২০০৭ সালে ৮ লাখ ৩২ হাজার ৬০৯ জন ও ২০০৮ সালে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৫ জন কর্মী বিদেশ গিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে এ সংখ্যা কমে হয় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৭৮ জন। গত বছরের জানুয়ারিতে ৫০ হাজার ৬৩২ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। এ বছরের জানুয়ারিতে তা কমে হয়েছে ৩৩ হাজার ৮৪৭ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ১৫ ভাগ রফতানি কমেছে। বলাবাহুল্য, হঠাৎ করে একদিনে জনশক্তি রফতানি কমেনি। অনেকদিন ধরেই কমছে। এর মূল কারণ প্রচলিত বাজারগুলো চালু হচ্ছে না। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, কাতার এগুলো বাংলাদেশের আসল বাজার। এ বাজারগুলোর উপরেই নির্ভর করছে জনশক্তি রফতানি খাতের ভবিষ্যত। এ বাজারগুলো চালু হলেই জনশক্তি রফতানি বাড়বে। সঙ্গতকারণেই এই বাজারগুলো চালু করার জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে যৌথ প্রচেষ্টা দরকার। একই সঙ্গে নতুন নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা করা দরকার। সউদী আরব, মালেয়শিয়া, কুয়েতসহ বাংলাদেশের প্রধান কয়েকটি বাজার বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের জন্য গত কয়েক বছরের বিকল্প বাজার ছিলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও লিবিয়া। কিন' গত দুই মাস ধরে হঠাৎ করেই লিবিয়ার বাজার বন্ধ। এ বছরের শুরুতে যেখানে গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার লোক লিবিয়া গেছেন সেখানে জুনে মাত্র ৩৮৯ জন কর্মী লিবিয়া গেছেন। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিলো শূন্য। ২০০৯ সালে দুই লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৮ জন কর্মী সংযুক্ত আরব আমিরাত গিয়েছিলেন। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে সেখানে গিয়েছিলেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৫ জন কর্মী। কিন' এ বছরের গত ৭ মাসে সেখানে গেছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০২ জন কর্মী। অর্থাৎ প্রায় ২০ হাজার কর্মী কম গেছেন। এদিকে কয়েক বছর ধরে প্রায় বন্ধ থাকা সউদী আরব, মালয়েশিয়া ও কুয়েতের বাজার এখনো বন্ধই আছে। একই সময় নতুন কোন বাজারও চালু হয়নি। ফলে শ্রম বাজারও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির বাজার। এ বছরের জানুয়ারিতে ৬ হাজার ৫৮৭ দশমিক ৬৮ কোটি টাকার রেমিটেন্স আসে। পরের মাসে তা কমে গিয়ে হয় ৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা। গত বছরের জুনের তুলনায় এ বছরের জুনে ২ দশমিক ৫০ ভাগ এবং গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে ৩ দশমিক ৮৫ ভাগ রেমিটেন্স কম এসেছে। প্রসঙ্গত প্রশ্ন উঠতে পারে, জনশক্তি রফতানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের উদ্যোগ সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে কিনা? যতটা জোরালো কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন, সেখানে কোন ঘাটতি আছে কিনা? অভিযোগ রয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ কূটনৈতিক তৎপরতার অভাব এবং এ খাতের ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার প্রবণতা। প্রতারণার মাধ্যমে শ্রমিক রফতানির কারণে সৃষ্ট সমস্যার জন্য বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ীকে দায়ী করা হয়েছিল মালয়েশিয়ার কয়েকটি সংবাদপত্রে। এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার তদন্ত করে কোন পদক্ষেপ নিয়েছে কি? জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি ও এক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ মিশনগুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে? এ খাতে অনিয়ম রোধে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ই বা কতটা তৎপর? সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন। জরুরিভিত্তিতে জনশক্তি রফতানি বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করার পাশাপাশি নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ। এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শক্তিশালী অবকাঠামো ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। দেশে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ থাকলে বিদেশে তাদের চাহিদা যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে রেমিটেন্স। এজন্য চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি জেলা শহরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মেরিন টেকনোলজি ইন্সটিটিউট গড়ে তোলা প্রয়োজন। জনশক্তি রফতানি বাড়াতে দেশের ভাবমর্যাদাও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী কর্মীদের ভাবমর্যাদা সঙ্কটে পড়তে হয়েছে। রফতানি ক্ষেত্রে প্রতারণা ছাড়াও বিদেশে কর্মরত কিছু বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেকে চাকরির মেয়াদ শেষের পরও সেখানে বসবাস করে। এসব বিষয় সংশ্ল্লিষ্ট দেশের সরকারের বিরূপ মনোভাবের কারণ হয়, যা জনশক্তি রফতানির উপর প্রভাব ফেলে। এ ধরনের প্রবণতা বন্ধে বাংলাদেশের মিশনগুলো ভূমিকা রাখতে পারে। বিদেশে বাংলাদেশী নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা দেখা যেমন তাদের দায়িত্ব, তেমনি কোন বাংলাদেশীর কারণে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে কিনা, সেদিকেও দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালের করা নীতির উপর ভিত্তি করে এখনো বিভিন্ন মিশন পরিচালিত হচ্ছে। পরে এডহক ভিত্তিতে কিছু করা হয়েছে। এরও সংস্কার করা দরকার। এর চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, যেসব মিশন সরকার পাঠাবে, বিভিন্ন দেশে গিয়ে তারা কতোটুকু প্রবাসীদের কাজে লাগবে তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কারণ ইতোমধ্যে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের মিশনগুলোর ব্যাপারে অসংখ্য অভিযোগ এসেছে। দূতাবাসগুলো যদি বাংলাদেশী শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়ায়, সে দেশের সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে যোগ্য কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করে তাহলে সরকারের পক্ষেও দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন করা সম্ভব। এতে সেসব দেশে জনশক্তি রফতানিও আমাদের জন্য সহজ হয়। তাই বিভিন্ন দেশে দূতাবাস খোলার পাশাপাশি সরকারকে অবশ্যই বর্তমানে অবস্থানরত দূতাবাসগুলোকে সক্রিয় করে তুলতে হবে। প্রবাসীদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে তারা যেন সব সময় সচেষ্ট থাকে সে জন্য তাদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যদি দূতাবাসগুলোকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায় তবে অবশ্যই সরকার যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তা সফল হবে। প্রবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় আনতে হবে। যারা অনেক কষ্ট করে দেশের জন্য অর্থ পাঠাচ্ছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার বদলে প্রতি পদে আমরা সৃষ্টি করে রেখেছি অসংখ্য বাধা। এগুলো অপসারণ করতে হবে এবং প্রবাসীদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। আমরা আর হারাতে চাই না, পেতে চাই। তাই অতীতের সব জীর্ণতা মুছে বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে হবে। সরকার ও বিদেশে অবস্থানরত সরকারের মিশনগুলো তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হলে জনশক্তি রফতানিতে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। মূলত এসব দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী, উনার মুবারক ছোহবত লাভেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন) |