‘বাজান নেই, আমার সব শেষ’- এ আহাজারি নিহত সাব্বিরের পিতার
, ২১ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৭ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ২৫ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ০৯ কার্তিক, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) তাজা খবর
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা:
গত ১৮ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সাব্বির আহমেদ (২৩) ঢাকার উত্তরার আজমপুরে পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ করছিলেন। ওই সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। সাব্বির আহমেদ উত্তরার একটি কোম্পানিতে অফিস সহকারি হিসেবে কাজ করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে।
আমোদ আলী মন্ডল (৬০) ও রাশিদা খাতুন (৪৮) দম্পতির প্রথম সন্তান ছিলেন সাব্বির আহমেদ। সাব্বিরের বাবা কৃষিকাজ করেন। মা সৃহিনী। তিন ভাইবোনের মধ্যে সাব্বির সবার বড়। তার আরো এক ভাই ও এক বোন আছে। সাব্বিরের বোন সুমাইয়া (১৯) পাশ^বর্তী শেখপাড়া দুঃখী মাহমুদ ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছোট ভাই সাদিক আহমেদ (১৭) ঝিনাইদহ শহরের একটি মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে পড়াশুনা করে।
অভাব অনটনের কারণে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর সাব্বির আর পড়তে পারেনি। সাত মাস আগে (মার্চ মাসে) ঢাকায় চলে যান সাব্বির। উত্তরায় একটি টাইলস কোম্পানির অফিসে স্বল্প বেতনে চাকরি নেন তিনি।
চোখের পানি মুছতে মুছতে সাব্বিরের বাবা আমোদ আলী মন্ডল বলেছেন, ১৭ তারিখ আমাদের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয় সাব্বিরের। সে ফোন করে আমাদের খোঁজখবর নিয়েছিল। আমার সঙ্গে কথা শেষ করে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিল। আমরা তো বুঝতেই পারিনি, ওটাই হবে সাব্বিরের শেষ কথা।
তিনি জানান, সাব্বির যে এলাকায় থাকত, তার আশেপাশেই তার মামাতো ভাই তরু (২২) থাকত। ১৮ জুলাই উত্তরার আজমপুরে ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। ওই সময় সাব্বিরের গলায় গুলি লাগে। একপাশ দিয়ে গুলি লেগে তা অন্য পাশ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। আন্দোলনের সময় সাব্বির ছাত্রদের মাঝে পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ করছিল। পুলিশ নিঁখুত নিশানায় তাকে গুলি করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
গত ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাব্বিরের বাবা আবেগাপ্লুত গলায় বলেন- ‘প্রতিমাসে বাজান আমার হাতে ৫/৬ হাজার টাকা দিতো। তাই দিয়ে সংসার চালাতাম। সে অল্প বেতন পেতো, নিজের জন্য সামান্য কিছু টাকা রেখে বাকি সব বাড়িতে পাঠিয়ে দিতো। আজ বাজান নেই, আমার সব শেষ।
নিহত সাব্বিরের বাবা বলেন- ‘আমাদের যা যাওয়ার তা তো চলেই গিয়েছে। আমার কলিজার টুকরো দুনিয়াতে আর নেই। আমি বাপ হয়ে এই কষ্ট কাউকে বুঝাতে পারি না। সারাদিন যে কাজই করি, সব সময় আমার সাব্বিরের মুখ আমার চোখে ভাসে। আমার প্রথম সন্তান। আমি কি করে এই কষ্ট সহ্য করি?’
অনুদান প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা সাব্বিরের পরিবারকে একটি গরু কিনে দিয়েছে। এ ছাড়া জামাত দুই লাখ টাকা ও বিএনপির পক্ষ থেকে ৬২ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছে পরিবারটি। তবে এখন পর্যন্ত সাব্বিরের পরিবার সরকারি কোনো অনুদান পায়নি বলে দাবি সাব্বিরের বাবার।
সরকারের কাছে বিচার চেয়ে সাব্বিরের মা রাশিদা খাতুন বলেন- ‘যারা আমার মতো হাজার হাজার মায়ের বুক খালি করেছে, তাদের বিচার যেন সরকার করে। আমি সন্তানহারা মা, আমি বুঝি এ কেমন যন্ত্রণার। আর কোনোদিন যেন দেশের মানুষের বুকে পুলিশ বা অন্য কেউ গুলি চালাতে না পারে, সেটাই আমাদের দাবি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোটি টাকা জরিমানার বিধান বাদ, পাস হলো সাইবার সুরক্ষা আইন
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১০, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
লোডশেডিংয়ে নাজেহাল মানুষ, বাড়ছে ক্ষোভ
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঋণের লক্ষ্য কমিয়ে মুদ্রানীতি ঘোষণা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জুনে বেড়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব ভায়োলেন্স
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি না হওয়ায় সর্বমহলে হতাশা
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে গ্যাস পাচ্ছে না কেন
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘গো ব্যাক ডিপি ওয়ার্ল্ড’ স্লোগানে প্রকম্পিত নগরী
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুসলিমদের সুবিধামূলক কার্ড বাতিল
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উদ্বোধনের পর থেকে পদ্মা সেতুতে টোল আদায় ৩,৪২৯ কোটি টাকা
৩০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












