১০০ টি চমৎকার ঘটনা
ঘটনা-৭৬ : সূর্য যাঁর তাবেদার
, ২৬ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১১ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ০৯ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ২৫ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহিলাদের পাতা
‘তাযকিরাতুল আউলিয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে, হযরতুল আল্লামা মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার পীর সাহেব, হযরত শামস তাবরিজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ইন্তিকালের পূর্বে মহান আল্লাহ পাক প্রদত্ত নিয়ামত আল্লামা রুমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রদান করার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ইলহাম প্রাপ্ত হয়ে রোম দেশের দিকে রওয়ানা করেন। পথিমধ্যে এক জঙ্গলের পার্শ্বে দেখতে পেলেন যে, এক বৃদ্ধা মহিলা সম্মুখে একটি মৃত যুবক ছেলেকে নিয়ে খুব কান্নাকাটি করছে। তখন হযরত শামস তাবরিজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বৃদ্ধা মহিলাকে তার কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। মহিলাটি বললো, “হুযূর! এ যুবক আমার একমাত্র নাতি। আমার জীবিকা একমাত্র সেই নির্বাহ করতো। সে ব্যতীত আমার কেউই নেই। যার কারণে তার মৃত্যুশোকে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কান্নাকাটি করছি, যাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে কোনো ব্যবস্থা করে দেন।” বৃদ্ধা মহিলার হৃদয় বিদারক কথাগুলো শুনে হযরত শামস তাবরিজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ব্যথিত হয়ে বললেন, “হে যুবক! তুমি জিন্দা হয়ে যাও।” একথা বলার সাথে সাথে মৃত যুবকটি জিন্দা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো। পরে উক্ত বৃদ্ধা মহিলা ও যুবক ছেলেটি হযরত শামস তাবরিজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার জন্য দোয়া করে চলে গেলো। পরের দিন এ ঘটনা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লো যে, অমুক স্থানে এক দরবেশের হুকুমে এক মৃত যুবক জীবিত হয়েছে।
সেই এলাকার বাদশাহ এরূপ ঘটনা শুনে উক্ত দরবেশ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে তার রাজ দরবারে উপস্থিত করার জন্য লোকজনকে নির্দেশ দিলো। হযরত শামস তাবরিজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাদশাহর এরূপ ফরমান শ্রবণ করে নিজেই যথাসময় রাজ দরবারে হাযির হলেন। বাদশাহ হযরত শামস তাবরিজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে চিনতে না পেরে ও উনার মর্যাদা না বুঝেই বললো যে, “হে দরবেশ সাহেব! আপনি কি সেই যুবকটিকে আপনার হুকুমে জীবিত করেছেন?” উত্তরে হযরত শামস তাবরিজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “আমি এরূপ বলেছি।” তৎশ্রবণে বাদশাহর দরবারি আলিমরা বললো, “তাহলে আপনি শিরক করেছেন। কাজেই শরীয়ত উনার ফায়সালা অনুযায়ী আপনার সমস্ত শরীরের চামড়া খুলে ফেলা হবে।” তখন হযরত শামস তাবরিজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার নিজ হাতেই পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল থেকে শুরু করে সমস্ত শরীরের চামড়া খুলে বাদশাহর সামনে রেখে চলে গেলেন। পরের দিন সকালে যখন সূর্য উঠলো, তখন উনার শরীর মুবারকে চামড়া না থাকায়, সূর্যের আলোতে কষ্ট হওয়ার কারণে তিনি সূর্যকে লক্ষ্য করে বললেন, “হে সূর্য! তুমি আমাকে কষ্ট দিওনা।” একথা বলার সাথে সাথেই উদিত হওয়া সূর্য তৎক্ষনাৎ ডুবে গেলো এবং চতুর্দিক অন্ধকার হয়ে গেলো। এলাকার সমস্ত লোক ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে গেলো। চতুর্দিকে হাহাকার পড়ে গেলো। বাদশাহ ও তার লোকজন বুঝতে পারলো যে, নিশ্চিত সেই দরবেশ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বড় বুযুর্গ ও ওলীআল্লাহ হবেন এবং উনার সাথে আমাদের বেয়াদবী হওয়ার কারণেই আমরা এরূপ মুছীবতে পড়েছি। তখন বাদশাহ তার লোকজনসহ হযরত শামস তাবরিজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে গিয়ে উনার হাত মুবারক ধরে ক্ষমা চাইলো এবং সূর্যকে আবার যথাস্থানে উঠিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলো। হযরত শামস তাবরিজী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি সূর্যকে বললেন, “হে সূর্য! আমি বলেছি যে, তুমি আমাকে কষ্ট দিওনা। কিন্তু তুমি কেন সমস্ত লোককে কষ্ট দিচ্ছো?” একথা বলার সাথে সাথে পুনরায় সূর্য যথাস্থানে উঠে গেলো; কিন্তু উনার শরীর মুবারকে রোদের তাপ লাগলো না। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












