ঘটনা-৭৫
১০০ টি চমৎকার ঘটনা
ক্বাছীদাতুল বুরদা
, ২৪ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৯ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ০৭ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ২৩ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
হযরত ইমাম হাসান আল বুসিরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স যখন ষাট বৎসর, তখন তিনি মারাত্মক পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হন। উনার শরীর মুবারকের নিম্নাংশ একেবারে অবশ হয়ে যায়। অনেক চিকিৎসার পরও তিনি কোনো উপকার পেলেন না। বরং দিন দিন উনার শরীর মুবারক আরও ভেঙ্গে পড়তে থাকে। এমতাবস্থায় উনার মনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে একটি ক্বাছীদা শরীফ রচনা করার ইচ্ছা জাগ্রত হয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, এই ক্বাছীদার ভাষাতেই তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উসীলায় মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফে রোগ মুক্তির জন্য দোয়া চাইবেন।
ক্বাছীদা শরীফটি রচনার পর হযরত হাসান আল বুসিরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি এক জুমুআর রাতে ক্বাছীদা শরীফটি কয়েকবার আবেগ ভরে পাঠ করে শুয়ে রইলেন। স্বপ্নে দেখলেন, তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাক দরবার শরীফে কবিতাটি আবৃত্তি করছেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সন্তুষ্টচিত্তে তা শ্রবণ করছেন। এক পর্যায়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সন্তুষ্ট হয়ে হযরত বুসিরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার গায়ে পাড়যুক্ত একখানা ইয়ামানী চাদর জড়িয়ে দেন। সুবহানাল্লাহ!
তারপর হযরত বুসিরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি জাগ্রত হলেন এবং দেখলেন, সত্যি সত্যিই একখানা ইয়ামানী চাদর উনার গায়ে জড়ানো এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। এমন মনে হচ্ছে যেন উনার শরীরে কোনো দিন কোনো অসুখই ছিল না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোয়া মুবারক পাওয়ায় এবং কুদরতীভাবে সুস্থ হওয়ায় তিনি প্রাণভরে মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করলেন।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়! পরদিন হযরত ইমাম বুসিরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার চলার পথ আগলে দাঁড়ালেন এক বুযুর্গ দরবেশ। তিনি ছিলেন হযরত শেখ আবু রজা রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বললেন, ‘আপনি যে ক্বাছীদাটি গতরাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে পাঠ করছিলেন, সেটা আমাকে লিখে দিতে হবে।’ হযরত বুসিরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা আপনি কি করে জানলেন?’ দরবেশ বললেন, ‘আপনি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে তা পাঠ করছিলেন, তখন সেখানে আমিও উপস্থিত ছিলাম।’
শেষ পর্যন্ত এই মুবারকময় স্বপ্নের কথা আর গোপন রইলো না। মিশরের তদানীন্তন শাসক মালিক তাহেরের উযীর শায়েখ বাহাউদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কানে এই সংবাদ পৌছলো। একদিন তিনি হযরত বুসিরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বাড়িতে এসে হাযির হলেন ক্বাছীদা শরীফটি শুনার জন্য। এই বরকতময় ক্বাছীদা শরীফটির কথা জানতে পেরে বহু আশিকে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা নিত্যপাঠ্য ওযীফা হিসাবে গ্রহণ করলেন। বহুস্থানে ইমারত গাত্রে এই কবিতাটি সোনার হরফে লিপিবদ্ধ হয়েছে। তুর্কী সুলতানগণ মসজিদে নববী শরীফের গায়েও পূর্ণ ক্বাছীদা শরীফটি সোনালী হরফে লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, ‘বুরদাহ’ শব্দের অর্থ পাড়যুক্ত ইয়ামানী চাদর। হযরত বুসিরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ক্বাছীদাটির পুরষ্কার স্বরূপ ইয়ামানী চাদরটি লাভ করেছিলেন বলেই এর নামকরণ হয়েছে ‘ক্বাছীদাতুল বুরদা’ শরীফ। হযরত বুসিরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সমস্ত কাব্যসম্ভার দীওয়ানে বুসিরী নামে প্রকাশিত হয়েছে।
ইনশাআল্লাহ চলবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি যার অন্তরকে প্রসারিত করেন তাকেই হিদায়েত দান করেন
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (৪)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের- সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভের জন্য সন্তান প্রতিপালন করা সুন্নত (৪)
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“যিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে বিশেষ মর্যাদা দিলেন, তিনি মূলত দ্বীন ইসলাম উনাকেই পুনরুজ্জীবিত করলেন”
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে সম্মানিত শাফায়াত মুবারক লাভ
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












