সারাদেশে চলছে ভুয়া প্রকল্প ও ভুয়া বিলের ছড়াছড়ি তথা সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে হাজার রকমের দুর্নীতি (৪৩০)
, ২৬শে জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২২ সামিন, ১৩৯০ শামসী সন, ২০ই জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ০৫ মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) দেশের খবর
দেশে ও জনগণের টাকা প্রকল্পের নামে হয় চুরি। পুকুর চুরি নয়; সাগর চুরি। কিন্তু জনগণ থাকে অন্ধকারে। বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি কোনো পর্যায়েই দুর্নীতি বন্ধ নেই। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা সবক্ষেত্রেই শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতি। দেশ ও জনগণের সচেতনতার জন্য ধারাবাহিকভাবে এখানে উল্লেখ করা হলো:
বায়তুল মোকাররমকেও ছাড়েনি দুর্নীতি
দুর্নীতি ছাড়েনি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদকেও। কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে ইমাম নিয়োগে বিভিন্ন জালিয়াতি হয়েছে গত দেড় যুগে। ১৪ মাসে তিনবার কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের পর তদন্তে দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও ব্যবস্থা নেয়নি ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। ১৫ মাস পড়ে আছে তদন্ত প্রতিবেদন। শাস্তি না দিয়ে দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার নেপথ্য আয়োজন চলছে বলে অভিযোগ।
ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠান দেশের প্রধান মসজিদে যে ইমামদের পেছনে লাখো মানুষ নামাজ আদায় করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের চারজনের নিয়োগ হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে। আরেকজন এসেছে 'পেছনের দরজা' দিয়ে। এক ইমামের পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ করে আরেক ইমাম উচ্চ আদালতে রিট করেছে। নিয়োগের অনিয়ম নিয়েও চলছে মামলা।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, উপসচিব পদমর্যাদার পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়া সিনিয়র পেশ ইমাম মিজানুর রহমানের চাকরিতে আবেদন করার যোগ্যতা ছিল না। খতিবের পরই সিনিয়র পেশ ইমামের অবস্থান। তার বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতি, স্বীকৃতিহীন সনদে চাকরি এবং অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তদন্তে।
আরেক পেশ ইমাম এহসানুল হকেরও চাকরিতে আবেদনের যোগ্যতা ছিল না। সে ইফার সাবেক মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের ভাগ্নে। সন্দেহযুক্ত অভিজ্ঞতার সনদে সরাসরি সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার ষষ্ঠ গ্রেডে সে নিয়োগ পায়।
মন্ত্রণালয় ও ইফা সূত্র বলছে, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের অনীহার কারণে তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেওয়া যায়নি। ফলে দায়ী ব্যক্তিরা আসেনি শাস্তির আওতায়।
জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী সমকালকে বলে, 'এখন এগুলো নিয়ে আলোচনা না করাই বেটার (ভালো)। সব সুস্থভাবে চলছে, সুস্থভাবে চলতে দেন। নির্বাচন পার হোক, তখন এগুলো নিয়ে আসেন। যদি কোনো কিছু (অনিয়ম) থাকেও ভবিষ্যতে দেখা যাবে।'
তদন্তের নামে ইঁদুর-বিড়াল খেলা : ২০১৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর ইমাম নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ২০২০ সালের ২১ জুলাই তিন উপসচিবের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পরে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ নিয়ে ২০২১ সালের ৩০ মে ফাউন্ডেশন সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আরেকটি কমিটি করে ইফা। তবে দুই কমিটি তদন্তই করেনি।
এনামুল হক হাইকোর্টে রিট করলে ২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কমিটি পুনর্গঠন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পুনর্গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন ও ইফা পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম সই করে ওই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ধর্ম সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। বাকি তিন সদস্য আলাদা প্রতিবেদন দেবেন বলে জানানো হয়।
সংশ্নিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতিবেদন জমা নিলে দায়ীদের চাকরিচ্যুত করতে হবে- এ কারণে দুই সদস্যের দেওয়া প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি মন্ত্রণালয়। কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে কমিটির অন্য তিন সদস্য প্রতিবেদনে সই করেননি। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ছয় দিন পর অফিস আদেশে বলা হয়, উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। তবে ইফা সূত্রটি সমকালকে জানিয়েছে, দায়ীদের রক্ষার জন্য মামলার অজুহাত দেওয়া হয়েছে।
অথচ কমিটি পুনর্গঠনের আদেশে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, 'বায়তুল মোকাররমে ইমাম পদে জাল সনদ ও অবৈধ পন্থায় নিয়োগের বিষয়ে হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট হয়েছে। ওই অনিয়মের অভিযোগসহ বায়তুল মোকাররমে ইমামদের নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পাঁচ সদস্যের কমিটি পুনর্গঠন করা হলো।' গত ২২ সেপ্টেম্বর পদোন্নতিতে অনিয়ম-সংক্রান্ত আরেকটি রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন চেয়েছে ইফা।
কমিটির দুই সদস্যের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাকি তিন সদস্য আলাদা প্রতিবেদন দেবে। তবে মামলার অজুহাত দেখিয়ে তারা আলাদা তদন্ত করেনি, প্রতিবেদনও দেয়নি। তাঁদের কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতেও রাজি হয়নি। ইফা সচিব আবদুল কাদের শেখ বলেন, 'সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি নেই আমার।' কমিটির আরেক সদস্য সৈয়দ শাহ এমরান বলেন, 'আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। অনেক আগের কথা, আমার মনে নেই।'
কমিটির আহ্বায়ক মো. সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন, 'তিন সদস্যের কিছু বিষয়ে দ্বিমত ছিল। পরে প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দেন পাঁচ সদস্য মিলে প্রতিবেদন দিতে। তবে হাইকোর্টে মামলা থাকায় আর প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি। মামলা থাকলে অন্য কিছু করা যায় না।' কমিটির সদস্য তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ইমাম নিয়োগে বয়স চুরি, সনদ জালিয়াতি, স্বজনপ্রীতি, নম্বর অনিয়মের প্রমাণ মেলে তদন্তে।
দুর্নীতির বীজ ১৮ বছর আগের : তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইফা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা সমমর্যাদার ইমাম নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেয় ২০০৫ সালের ৩ আগস্ট। এই পদে নিয়োগে শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় দ্বিতীয় শ্রেণিতে কামিল অথবা সরকার স্বীকৃত দাওরায়ে হাদিস পাস। শর্ত ছিল, বয়স হতে হবে ৩০ বছরের কম।
মিজানুর রহমান বেফাকুল মাদ্রাসিল আরাবিয়ার (বেফাক) দাওরায়ে হাদিসের সনদ জমা দিয়ে আবেদন করে। তবে সেই সময়ে বেফাকের দাওরায়ে হাদিসের সনদের সরকারি স্বীকৃতি ছিল না। শুধু ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দসহ কয়েকটি মাদ্রাসার সনদকে দুই বছর মেয়াদি স্নাতক সমমান দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমতা কমিটি।
২০০৫ সালে ওই নিয়োগ পরীক্ষায় মিজানুর রহমান ছাড়াও ৩১ জন আবেদন করে। তাদের অধিকাংশ স্নাতকোত্তর সমমানের আলিয়া মাদ্রাসার কামিল ডিগ্রিধারী ছিলেন। দারুল উলুম দেওবন্দের দাওরায়ে হাদিস সনদধারী প্রার্থীও ছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বীকৃতিহীন সনদের মাধ্যমে মিজানুর রহমানের নিয়োগের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত। তদন্তের সময় মিজানুর রহমান বলেছিল, ১৯৯৮ সালের সার্ভিস রুলে ইফা দাওরায়ে হাদিসের সনদকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কমিটির তিন সদস্যের অভিমত ছিল, সরকারি স্বীকৃতি না থাকলেও দাওরায়ে হাদিসের সনদ গ্রহণ করা যেতে পারে।
বয়স জালিয়াতি : মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ ছিল বয়স চুরির। ইলমুল কিরাত, ফজিলত, তাকমিল এবং হিফজের সনদ অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ১৯৭৪ সালের ১৬ মে। তবে চাকরির আবেদনপত্রে জন্মতারিখ লেখেন ১৯৭৭ সালের ১৬ মে। ইলমুল কিরাত সনদের বয়স বদল করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ছয় দিন পর, অর্থাৎ ২০০৫ সালের ৯ আগস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরিতে আবেদনের জন্যই জন্মতারিখ পাল্টায় মিজানুর রহমান। তদন্ত কমিটি বেফাক কার্যালয়ে নথি পরীক্ষা করেছে। এতে দেখা যায়, ইলমুল কিরাত পরীক্ষার নিবন্ধনে মিজানুর রহমানের জন্মতারিখ ১৯৭৪ সালের ১৬ মে। ২০০৫ সালের ৯ আগস্ট আবেদন করে তা ১৯৭৭ সালের ১৬ মে করা হয়। বাকি তিনটি সনদে জন্মতারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে ২০১৮ সালের ২৭ জুলাইয়ের পর কোনো এক সময়ে।
প্রধানমন্ত্রী যে তন্ত্রের উপর নির্ভর করে, যে প্রশাসনের উপর নির্ভর করে, যে আর্থ-সামাজিক আবহের উপর নির্ভর করে দুর্নীতি বন্ধ করতে চায় তাতে রয়েছে গলদ, অপূর্ণতা ও ভ্রান্তি।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যমীনে এবং পানিতে যা ফিতনা-ফাসাদ রয়েছে সবই মানুষের হাতের কামাই।” অপরদিকে সবকিছুর সমাধান সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই এই পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আমি সবকিছু বর্ণনা করেছি।”
অর্থাৎ কেবলমাত্র পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যস্থিত হুকুম-আহকাম মুতাবিক চললেই দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল সম্পূর্ণ সম্ভব। কিন্তু দেশের সরকার তা কবে বুঝবে? জনগণই বা কবে উপলব্ধি করবে? (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বৃষ্টি-ঢলে ২০ হাজার কৃষকের শতকোটি টাকার ধান পচে নষ্ট
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সুনামগঞ্জে বাসের ধাক্কায় বাবা-মেয়েসহ নিহত ৫
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বৃষ্টির দাপট থাকতে পারে আরও কয়েকদিন
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বস্তিতে মিলল সুড়ঙ্গপথ, ভেতরে বিলাসবহুল কক্ষ
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
চট্টগ্রামে একীভূত ৫ ব্যাংকের শাখায় তালা দিয়েছেন আমানতকারীরা
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বগুড়ায় হচ্ছে ফ্লাইং একাডেমি -বিমান প্রতিমন্ত্রী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
স্বাধীন গণমাধ্যমই গণতন্ত্রের জবাবদিহিতার প্রধান হাতিয়ার -তথ্যমন্ত্রী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই থেকে আংশিক বাস্তবায়ন হতে পারে
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিনিয়োগকারীদের টানতে প্রকল্প অনুমোদন সহজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দ্রব্যমূল্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে ডিসিদের সহায়তা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
অটোরিকশা-রিকশায়ও শেয়ার রাইড অ্যাপ
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘মৎস্যজাত অপ্রচলিত পণ্যের রফতানিতে সহযোগিতা করছে সরকার’
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












