সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা সারা কায়িনাত
, ১৯ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৪ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ০৭পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
হযরত খাব্বাব ইবনে আরত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বেনযীর দৃষ্টান্ত মুবারক
(২য় অংশ)
হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন-
ولقد أخذوني يومًا فأوقدوا لي نارًا ثم سَلَقوني فيها ثم وَضَع رجلٌ رِجلَه على صدري
অর্থ: “কাফিররা একদিন আমাকে জোর করে ধরে নিয়ে গেল। তারপর আমার জন্য তারা (কাঠের স্তূপের উপর) আগুন জ্বালালো। (যখন তা অঙ্গারে পরিণত হলো, তখন তারা আমার শরীর মুবারক থেকে কাপড় খুলে ফেললো। তারপর) তারা আমাকে জ্বলন্ত আগুনের (আঙ্গারের) উপর চিৎ করে শুইয়ে দিয়ে একজন তার একটি পা আমার বুক মুবারক উনার ওপর উঠিয়ে আমাকে চাপ দিয়ে ধরে রাখলো। ” না‘ঊযুবিল্লাহ! (মিরআতুয যামান ৬/৩৩২)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন, হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি পেশাগত দিক দিয়ে দা-বঠি, ছুরি-তরবারী ইত্যাদি তৈরীতে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। আস ইবনে ওয়াইল নামক কাট্টা মুশরিক একসময় উনার দ্বারা বাকীতে কিছু কাজ করালো। পরে যখন তিনি উনার প্রাপ্য পারিশ্রমিক চাইলেন, তখন উনাকে আস ইবনে ওয়াইল কঠোর ভাষায় বললো, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যে আপনি সম্মানিত ঈমান এনেছেন যতক্ষণ তা অস্বীকার না করবেন; ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার পাওনা আমি দিবো না। যদি উনার থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নেন, তাহলে আপনার পাওনা আপনাকে সম্পূর্ণ পরিশোধ করে দিবো; অন্যথায় এক পয়সাও দিবো না। ’ না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এই কথা মুবারক বলে ঐ কাফিরের মুখ বন্ধ করে দিলেন-
إِنِّي لَنْ أَكْفُرَ بِسَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتّٰى تَمُوْتَ ثُمَّ تُبْعَثَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি কখনোই অস্বীকার করবো না; এমনকি তুই মারা যাওয়ার পর আবার তোকে পুণর্জীবিত করা হলেও অর্থাৎ ক্বিয়ামতের পর হশরের ময়দান ক্বায়িম হলেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি কখনোই অস্বীকার করবো না। ” সুবহানাল্লাহ! )মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ, বাইহাক্বী শরীফ ইত্যাদি)
উত্তরে ঐ কাট্টা কাফির বললো, ‘আমি যখন আমার সম্পদ ও সন্তানসহ পুনর্জীবন লাভ করবো, তখন আপনার পাওনা পরিশোধ করবো। ’ না‘ঊযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালের ঘটনা। একদিন হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট গেলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত সম্মান প্রকাশ করে হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে একখানা বিশেষ আসন মুবারক-এ বসিয়ে বললেন-
فما أحد أحق بهذا المجلس منك إلا سيدنا حَضْرَتْ بلال رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ
‘একমাত্র সাইয়্যিদুনা হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনি ব্যতীত এই স্থানে বসার জন্য আপনার থেকে অধিকতর উপযুক্ত ব্যক্তিত্ব আর কেউ নেই। ’
হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি (পরবর্তী উম্মতদের ইবরত-নছীহত লাভের জন্য একটি বিষয় প্রকাশ করে) বললেন- ‘সাইয়্যিদুনা হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আমার সমান হতে পারেন কিভাবে? উনাকে যখন মুশরিকগুলো যুলুম করতো, তখন উনাকে সাহায্য করার মত লোক ছিল।
ولم يكن لي أحد يمنعني
“আর একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত আমাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না। ’
তারপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট মুশরিকদের হাতে তিনি যেই যুলুম-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে জানতে চাইলেন। কিন্তু হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সে সম্পর্কে বলতে সংকোচ বোধ করলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বার বার বলার কারণে হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার পিঠ মুবারক থেকে চাদর সরিয়ে দিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার পিঠ মুবারক উনার দিকে দৃষ্টি দিয়ে দেখতে পেলেন, পিঠ মুবারক-এ গোশত নেই। শুধু হাড় দেখা যাচ্ছে। এই কঠিন অবস্থা দেখে তিনি কেঁদে ফেলেন এবং জিজ্ঞসা করলেন, এটা কিভাবে হলো?
হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন- ‘মুশরিকরা কাঠের স্তূপের উপর আগুন জ্বালাতো। যখন তা অঙ্গারে পরিণত হতো, তখন তারা আমার শরীর মুবারক থেকে কাপড় খুলে ফেলতো। তারপর তারা জোর করে টেনে নিয়ে ঐ অঙ্গারের উপর আমাকে চিৎ করে শুইয়ে দিতো এবং আমার বুক মুবারক উনার উপর তাদের পা দিয়ে কঠিন চাপ দিয়ে ধরে রাখতো। আমি কোনোভাবেই নড়াচড়া করতে পারতাম না। তখন আমার পিঠ মুবারক উনার হাড় থেকে গোশত খসে পড়তো। আর আমার পিঠ মুবারক উনার গলিত চর্বি দ্বারাই সেই আগুন নিভে যেতো। এ কারণে আপনি আমার পিঠ মুবারক-এ শুধু হাড় দেখতে পাচ্ছেন। গোশত দেখতে পাচ্ছেন না। ’
অন্য বর্ণনায় রয়েছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে উনার ত্যাগ ও আনুগত্যতার কারণে অত্যন্ত মুহব্বত করতেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারককালে একবার তিনি উনার আসন মুবারক-এ হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে বসিয়ে মুশরিকদের হাতে তিনি যেই কঠিন যুলুম-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তখন হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার পিঠ মুবারক থেকে কাপড় সরিয়ে দিলেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি দেখতে পেলেন যে, উনার পিঠ মুবারক-এ গোশত নেই। শুধু হাড় দেখা যাচ্ছে। এই কঠিন অবস্থা দেখে তিনি কেঁদে ফেলেন এবং বলেন,
مَا رَأَيْتُ كَالْيَومِ ظَهْرُ رَجُلٍ
অর্থ: “আমি আজ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির পিঠ এরূপ দেখিনি। ”
জবাবে হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এই কথা মুবারকগুলি বলেন-
لَقَدْ أَوْقَدَتْ نَارًا وَسَحَبَتْ عَلَيْهَا فَمَا أَطْفَأَهَا إِلَّا وَدَّكَ ظَهْرِي
অর্থ: “আগুন প্রজ্বলিত করে সেই উত্তপ্ত আগুনে আমাকে টানাহেঁচড়া করা হতো। আমার পিঠ মুবারক উনার চর্বি দ্বারাই সেই আগুন নিভে যেত। ” (আত ত্বাবাক্বাতুল কুবরা ৩/১৬৪-১৬৫)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৪)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবার
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের খুশি মুবারক প্রকাশ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৫)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার বিশেষ বিশেষ নিসবত মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












