ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৬২¬)
, ২৩ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ মে, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তিনি পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করতে পারতেছিলেন না। উনাকে যতই বলা হচ্ছে তিনি বলতে পারতেছিলেন না। সে বিষয়টা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জানানো হলো। তখন তিনি দয়া করে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে, হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে, হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে, হযরত আম্মার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের চার জনকে পাঠালেন যে, আপনারা দেখেন কি হয়েছে?
হযরত আলকামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারকের সময় পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করতে পারতেছেন না। তিনি বিশিষ্ট ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এটা কি করে সম্ভব। উনারা গেলেন সত্যিই উনাকে যতই তালক্বীন দেয়া হচ্ছে তিনি পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করতে পারতেছেন না। এই সংবাদ জানানো হলো মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে। তিনি বললেন, উনার পিতা-মাতা কেউ আছে কি? উনার পিতা নেই, তবে মাতা আছেন। ঠিক আছে উনার মাতাকে ডাকুন, আসতে বলুন। তিনি না আসলে আমি নিজেই যাবো। উনার মাতা আসলেন তিনি ছাহাবীয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনার সন্তান উনার প্রতি কি আপনি সন্তুষ্ট আছেন? তিনি বললেন, আমার সন্তানতো খুব ভালো। নামায, কালাম, যিকির-ফিকির, আপনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়া, ঈমান, আক্বীদা সবদিক থেকে আমি সন্তুষ্ট। একটা বিষয় আমি অসন্তুষ্ট। নাউযুবিল্লাহ! কোন বিষয়টা? আমার সন্তানের যে আহলিয়া তার সাথে যখন কোন ইখতিলাফ হয়, মতোবিরোধ হয় তখন সে আমার পক্ষ না নিয়ে তার আহলিয়ার পক্ষ নেয়। এজন্য আমি অসন্তুষ্ট। নাউযুবিল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তাহলে আপনি ক্ষমা করে দেন। তিনি বললেন যে, আমি ক্ষমা করবো না। সে আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। তিনি বললেন যে ঠিক আছে, হযরত আলকামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইন্তেকাল করলেতো জাহান্নামে যাবে। তাহলে আগেই আমরা উনাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেই। আপনারা লাকড়ী জমা করুন, আগুন জ্বালান। উনাকে যিন্দা আগুনে ফেলে দিব। যখন বলা হলো লাকড়ী জমা করার জন্য তখন উনার মাতা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি বিষয়টা বুঝতে পারি নাই। কি বুঝতে পারেন নাই, ব্যপারটা কি হবে। যে, আপনি অসন্তুষ্ট হলে সে জাহান্নামে যাবে। সে পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করতে পারবে না। পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করতে না পারলে জাহান্নামে যাবে, আপনার সন্তান। এখন আপনি কি করবেন? তিনি বললেন, আমিতো বুঝতে পারিনি। আমি উনাকে ক্ষমা করে দিলাম। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি অসন্তুষ্ট হলে আমার সন্তানকে জাহান্নামে যেতে হবে সেটা আমি বুঝতে পারি নাই। আমি এখন ক্ষমা করে দিলাম। সত্যিই ক্ষমা করে দেয়ার পর উনারা যখন চলে গেলেন তিনি আফসেআপ পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করে বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করলেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই যে বিষয়টা, এটা ফিকির করতে হবে।
মাতা অসন্তুষ্ট থাকলে এই একটা কারণে সন্তান বেঈমান হয়ে মারা যায়। তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারকে যারা চূ-চেরা, কীল-কাল করে, উনাদেরকে যারা কষ্ট দেয় তারা কোথায় যাবে? সেটাইতো বলা হচ্ছে-
مَنْ مَّاتَ عَلٰى بُغْضِ اٰلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ كَافِرًا
মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি যারা বিদ্বেষ পোষণ করে মারা যায় সে কাফির হয়ে মারা যায়। নাউযুবিল্লাহ! উনাদের প্রতি যারা বিদ্বেষ পোষণ করবে সে কাফির হয়ে মারা যাবে। নাউযুবিল্লাহ! শুধু এতটুকু না আরো কঠিন অবস্থা। সেটাই বলা হচ্ছে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: رِضَا الرَّبِّ فِي رِضَا الْوَالِدِ، وَسَخَطُ الرَّبِّ فِي سَخَطِ الْوَالِدِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, পিতা-মাতার সন্তুষ্টি যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি। আর পিতা-মাতার অসন্তুষ্টি যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি। নাউযুবিল্লাহ! তাহলেতো ফিকির করতে হবে উনাদের বুযূর্গী, সম্মান মুবারক কি? উনাদের শান-মান তাহলে কতটুকু।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফিররা যতই মাল-সম্পদ খরচ করুক, তারা মুসলমানদের নিকট পরাস্ত হবেই হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমানী বা হারাম কাজ থেকে খালিছ তওবা করে উনার যিকির ও ইবাদতে খালিছভাবে মনোনিবেশ করলে কুদরতী রিযিক লাভ করা যায়
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৭ম পর্ব)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












