ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৬১¬)
, ২২ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ মে, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تعالى عَنْهُ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ صَحَابَتِي قَالَ رَسُول اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُمُّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ أُمُّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ أُمُّكَ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ثُمَّ أَبُوكَ. وَفِى رِوَايَةٍ اُخْرٰى أُمَّكَ ثُمَّ أُمَّكَ ثُمَّ أُمَّكَ ثُمَّ أَبَاكَ ثُمَّ أَدْنَاكَ أَدْنَاكَ.
হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন ছাহাবী আসলেন। এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সবচাইতে আমাদের কাছে সবচাইতে বেশি উত্তম ব্যবহার পাওয়ার যোগ্য কে? উত্তম ব্যবহার পাওয়ার, উত্তম ছোহবত মুবারক পাওয়ার হক্বদার কে তিনি? মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, প্রথম আপনার মাতা। যে, আপনার মাতা, এরপর আপনার মাতা, এরপর আপনার মাতা, তিন বার। এরপর আপনার পিতা। পরবর্তীতে একইভাবে বলা হচ্ছে আপনার মাতা, আপনার মাতা, আপনার মাতা এরপর আপনার পিতা। এরপর যারা পর্যায়ক্রমে নৈকট্যলাভকারী তারা। মাতা উনার তিন হক্ব, পিতার এক হক্ব। তাহলে দেখা যাচ্ছে এদিক থেকে অনেক ফিকিরের বিষয়। মানুষতো ফিকির করে না। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ বিষয় পবিত্র হাদীছ শরীফ ইরশাদ মুবারক করেছেন। যেটা এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেছেন।
عَنْ حَضْرَتْ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: "لَوْ أَدْرَكْتُ وَالِدَيَّ أَوْ أَحَدَهُمَا وَأَنَا فِي صَلَاةِ الْعِشَاءِ، وَقَدْ قَرَأْتُ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ تُنَادِي يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَأَجَبْتُهَا لَبَّيْكِ"
হযরত ত্বল্ক্ব ইবনে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে। (উম্মতকে নছীহত করার জন্য তিনি বলছেন।) তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মহাসম্মানিত পিতা-মাতা উনাদেরকে যদি পেতাম একজন অথবা উনাদের দু’জন, আমি ছলাতুল ইশায় থাকতাম এবং সম্মানিত সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করতে থাকতাম আর এমতাবস্থায় উনারা আমাকে এই বলে ডাকতেন, হে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে অবশ্যই অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (নামায ছেড়ে দিয়ে) আমি উনাদের সম্মানিত ডাক মুবারকে সাড়া দিয়ে ইরশাদ মুবারক করতাম, লাব্বাইক, হে আমার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম! হে মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম! আমি আপনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারকে হাযির, উপস্থিত। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
وَقَدْ قَرَأْتُ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পড়তে থাকতাম। এরপর বলছেন-
تُنَادِي يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
এর অর্থ আমার মহাসম্মানিত মাতা তিনি আমাকে সম্বোধন করতেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
لَأَجَبْتُهَا لَبَّيْكِ
অবশ্যই অবশ্যই ওই অবস্থায় থেকেও (নামায ছেড়ে দিয়ে) আমি উনাদের সম্মানিত ডাকে সাড়া দিয়ে ইরশাদ মুবারক করতাম, লাব্বাইক- হে আমার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম! হে আমার মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম! আমি আপনাদের খিদমত মুবারকে হাযির, উপস্থিত। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফে এ শব্দ মুবারক আছে। আমরা বলি
لَأَجَبْتُهُ وَلَبَّيْكَ
দু’টাই। এই যে বিষয়টা, আমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উনার আম্মা আলাইহাস সালাম উনাকে এ বিষয়টা প্রাধান্য দিয়েছি। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে সেদিক থেকে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের খুছূছিয়াত-বৈশিষ্ট্য, ফযীলত মুবারক ফিকির করতে হবে। যেটা আমরা আগেও অনেকবার আলোচনা করেছি। আমাদের পত্রিকায়ও গেছে পিতা- মাতার হক্ব। সেখানে একজন ছাহাবী হযরত আলকামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার একটা ওয়াক্বিয়া মুবারক রয়েছে। উনার যখন বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় হলো উনাকে তখন তালক্বীন দেয়া হচ্ছিল। তিনি কিন্তু পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করতে পারতেছিলেন না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অকাট্য দলীল দ্বারা সুস্পষ্টভাবে “গান-বাজনা” হারাম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফিররা যতই মাল-সম্পদ খরচ করুক, তারা মুসলমানদের নিকট পরাস্ত হবেই হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমানী বা হারাম কাজ থেকে খালিছ তওবা করে উনার যিকির ও ইবাদতে খালিছভাবে মনোনিবেশ করলে কুদরতী রিযিক লাভ করা যায়
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












