তাদক্বীক্বুল আহাদীছ ফিছ্ ছহীহ ওয়াদ্ব দ্বায়ীফ ওয়াল মাওদ্বূ’:
সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনাকে বয়স মুবারক দান সংক্রান্ত হাদীছ শরীফ উনার তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ (৭)
, ২৪শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১৮ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন , ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ০২ ফাল্গুন, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
উছূলুল ফিক্বহ এর নির্ভরযোগ্য কিতাব নূরুল আনওয়ার-এর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে-
واما الباطن فنوعان بأن يكون الاتصال فيه ظاهرا ولكن وقع الخلل بوجه اخر وهو فقد شرائط الراوى اومخالفته لدليل فوقه فان كان لنقصان في النأقل فهو على ماذكرنا من عدم قبول خبر الکافر والفاسق والصبى والمغفل وان كان بالعرض بأن خالف الكتاب كحديث" لأصلوة الابفاتحة الكتاب "يخالف لعموم قوله" فاقرؤا ماتيسر من القران" وكحديث "من مس ذكراه فليتوضأ " يخالف قوله تعالي" فيه رجال يحبون ان يتطهروا " لانه فی مدح قوم يستنجون بالماء وفيه مس الذكر - والسنة المعروفة كحديث القضاء بشاهد و يمين يخالف قوله "البينة على المدعى واليمين على من انكر" وهو مشهور- او الحادثة المشهورة كحديث الجهر بالتسمية في الصلوة الذي رواه ابوهريرة رضى الله تعالى عنه فأن حادثة الصلوة مشهورة مستمرة كان يحضرها الوف من الرجال لم يسمع التسمية الا ابوهريرة رضى الله تعالى عنه وهذا شئ عجيب- وأعرض عنه الايمة من الصدر الأول يعنى ان الصحابة رضى الله تعالى عنهم اذا تكلموا فيمابينهم بالراى ولم يلتفتوا الى الحديث كان ذلك دليل انقطاعه الخ " کان مردودا منقطعا ايضاجواب ان اى يكون الخبر في كل من هـذه المواضع الاربعة مردودا-
অর্থ: আর (ইনকেতায়ে) বাতেন অর্থাৎ ঐ সকল হাদীছ শরীফ যা ব্যহ্যত মুত্তাছিল, কিন্তু অন্য কোন কারণে তার মধ্যে ত্রুটি সৃষ্টি হয়েছে-যা দু’ প্রকার। যথা- ১. রাবীর জন্য যেসব শর্ত নির্ধারিত রয়েছে-তা পাওয়া না যাওয়া। অথবা ২. এমন কোন দলীলের বিপরীত হওয়া যা তদাপেক্ষা প্রবল ও শক্তিশালী। যদি এ ত্রুটি উদ্ধৃতি দাতার মধ্যে কোন অসম্পূর্ণতার কারণে হয়ে থাকে, তাহলে এর হুকুম তাই যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। অর্থাৎ কাফের, ফাসিক, শিশু ও উদাসীন ব্যক্তির খবর যদ্রুপ গ্রহণযোগ্য নয়, এও তদ্রুপ গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যদি এ ত্রুটি কোন আনুষাঙ্গিক কারণে বা মূলনীতির বিপরীত হওয়ার কারণে হয়ে থাকে, উদাহরণ স্বরূপ- যেমন - যদি তা কিতাবুল্লাহ উনার বিপরীত হয়। যেমন - “পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ না করলে তার নামাযই হবেনা”। এ পবিত্র হাদীছ শরীফখানা “পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে যা সহজ হয় তাই পাঠ করো”। এ আয়াত শরীফ উনার খিলাফ।“যে লজ্জাস্থান স্পর্শ করে সে যেন ওযু করে”। এ পবিত্র হাদীছ শরীফখানা “তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছেন যারা পবিত্রতা অর্জনকে পছন্দ করেন”। এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার খিলাফ। এ পবিত্র আয়াত শরীফখানা, যারা পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করেন তাদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছেন। আর সেক্ষেত্রে লজ্জাস্থান স্পর্শ করার বিষয়টিও রয়েছে।
অথবা মশহুর সুন্নাহ শরীফ উনার বিপরীত হয়। যেমন – সাক্ষী ও শপথ সংক্রান্ত হাদীছ শরীফখানা “দাবীকারী দলীল দিবে আর অস্বীকার কারী শপথ করবে” এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার খিলাফ।
অথবা মশহুর ঘটনার বিপরীত হয়। যেমন- হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কতৃক বর্ণিত “নামাযের মধ্যে প্রকাশ্যে বিসমিল্লাহ শরীফ পাঠ করতে হবে” এ পবিত্র হাদীছ শরীফখানা মশহুর ঘটনার বিপরীত। নামায় আদায় করা একটা যাহিরী ইবাদত। যাতে লক্ষ লক্ষ লোক নামায আদায় করেছেন। একমাত্র হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ব্যতীত আর কেউই ইহা শ্রবণ করেন নি। ইহা একটি আশ্চর্য ব্যাপার।
অথবা প্রথম যুগে অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ তা প্রত্যাখ্যান করে থাকেন। তাহলে এসব অবস্থায় ইনকেতা বাতিল বা প্রত্যাখ্যাত ও মুনকতিয়’ হবে। (নূরুল আনওয়ার)
কাজেই উপরোক্ত হাদীছ শরীফের বর্ণনা সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারক উনার খিলাফ, পবিত্র কুরআন শরীফ,পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ। সুতরাং উপরোক্ত বর্ণনা অবশ্যই বাতিল ও পরিত্যাজ্য বা অগ্রহণযোগ্য।
উল্লেখ্য যে, অনেকেই পূর্ববতী ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের লিখিত কিতাবাদিতে থাকার কারণে তাহক্বীক্ব না করেই যে কোন বিষয়কে নির্ভরযোগ্য ও সঠিক বলে মনে করে থাকে। অথচ একথা সর্বজন স্বীকৃত যে, অনেক বড় বড় তাফসীর, হাদীছ শরীফ ও ফিক্বাহর কিতাবসমূহে অসংখ্য ইজরাঈলী রেওয়ায়েত বা মাওজূ’ হাদীছ পাওয়া যায়, যা সরাসরি পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ তথা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদার খিলাফ। যা ইহুদী, নাছারা ও মুনাফিকরা গভীর ষড়যন্ত্র করে উক্ত কিতাবসমূহে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছে।
কাজেই বড় কিতাব ও বড় লিখক হলেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবসম্মত কথা হলো- খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান-মান মুবারক উনার খিলাফ বর্ণনা যত বড় কিতাবেই থাকুক না কেন, যত বড় ইমাম মুজতাহিদ উনাদের লিখিত হোক না কেন, যত ছহীহ সনদই থাকুক না কেন, যত ছিক্বাহ রাবীই বর্ণনা করুক না কেন; সে সকল বর্ণনাগুলো বাতিল, সেগুলো পরিত্যাজ্য, সেগুলো মাওযূ’। পক্ষান্তরে উনাদের শান-মান মুবারক প্রকাশের বর্ণনাগুলো দ্বয়ীফ হিসেবে বর্ণনা থাকলেও সেগুলোই ছহীহ হিসেবে গ্রহণীয় হবে। (চলবে)
-হাফিযুল হাদীছ মুহম্মদ ফদ্বলুল হক্ব।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাট্টা কাফির (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২০)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












