সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (১৩
, ২১ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৯ রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ২৪ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
এককভাবে উনার ফযীলত ও মর্যাদা মুবারক:
দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পর সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সমুদয় ধন-সম্পদ মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রচার ও প্রসারের জন্য ওয়াক্ফ করে দেন। উনার বিশাল ধন সম্পদ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মক্কা শরীফে অবস্থানকালীন সময়ে দীন ইসলাম উনার বিরাট খিদমতে কাজে লাগে।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার উল্লেখযোগ্য মুবারক বৈশিষ্ট্যসম‚হের মধ্যে একটি এই ছিল যে, তিনি পঁচিশ বছর পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে কাটান এবং একমাত্র হযরত আন নুরুর রাবী (হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম) আলাইহিস সালাম ব্যতীত নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সকল আওলাদই উনার পবিত্র হুজরা শরীফে বিলাদতি শান মুবারক প্রকাশ করেন। (ইবনে সা’দ)। এতদ্ব্যতীত এই সৌভাগ্যও তিনি লাভ করেন যে, তিনি হায়াত মুবারকে থাকতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আর দ্বিতীয় কোন নিসবাতুল আযীম শরীফ করেন নি।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আভিজাত্য, সম্মান ও মর্যাদা মুবারক সর্বজন স্বীকৃত। হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে উনার জন্য সালাম মুবারক নিয়ে আসতেন। এক হাদীছ শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, একবার হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন -
هذه حضرت جديجة عليها السلام، قد اتتك بإناء فيه طعام أو إدام أو شراب، فإذا هى أتتك فاقرأ عليها السلام من ربها و منى و بشرها ببيت فى الجنة من قصب لا صخب فيه ولا نصب -
অর্থ: এই যে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি একটি পাত্র মুবারক নিয়ে আসছেন, উহাতে খাওয়ার দ্রব্য, তরকারী অথবা পানীয় রয়েছে। তিনি যখন আপনার নিকট আসবেন, তখন আপনি উনাকে উনার মহান রব তায়ালা উনার পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম বলবেন এবং উনাকে জান্নাতের মধ্যে মুক্তা খচিত এমন একটি ঘরের সুসংবাদ প্রদান করবেন, যেখানে না কোন শোরগোল রয়েছে, আর না কোন কষ্ট রয়েছে (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)।
তাবারানী শরীফে উল্লেখ আছে, এই খাদ্য বা পানীয় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম হেরা পাহাড়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট নিয়ে যাচ্ছিলেন (শরহে যারক্বানী আলাল মাওয়াহিব)।
সীরত গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার খাদিমাকে সঙ্গে নিয়ে খাদ্য ও পানিয় হেরা পাহাড়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমতে দিয়ে আসতেন। হেরা পাহাড় মক্কা শরীফ থেকে তিন মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে একটি উঁচু পাহাড়। ইহার সর্বোচ্চ চ‚ড়া যেখানে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবস্থান মুবারক করছিলেন তা একেবারে সোজা, ঢালু ও পিচ্ছিল। সেখানে উঠা কোন পুরুষের পক্ষেও খুব কষ্টকর ছিল। ১৯৮৩/৮৪ সনে দেখা গিয়েছে, এই পাহাড়ের চ‚ড়ায় উঠতে প্রায় দুই ঘন্টার বেশী সময় লাগত এবং তা অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। এটা ভাবতেও আশ্চর্য লাগে যে, যখন এই পাহাড়ে উঠার কোন ব্যবস্থাই ছিল না, তখন কিভাবে এবং কত কষ্ট করে এই পাহাড়ের চ‚ড়ায় উঠে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খেদমতে খাদ্য ও পানীয় দিয়ে আসতেন? ইহা শুধু উনার সম্মানার্থে তিনি করতেন, নতুবা খাদ্য পৌঁছানোর জন্য উনার খাদিমের তো কোন অভাবই ছিল না। (চলবে)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












