সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬)
, ১৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০২ রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ৩১ আগস্ট, ২০২৩ খ্রি:, ১৭ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
নবুওওয়াত প্রকাশের সূচনায়:
নবুওওয়াত প্রকাশের পূর্বে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হেরা পর্বতের গুহায় খালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত বন্দেগী ও মোশাহাদায় নিমগ্ন থাকতেন। সেখানে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য খাবার মুবারক নিয়ে যেতেন। সুবহানাল্লাহ! সঙ্গে উনার খাদিমাহ হযরত উম্মে আয়মান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনিও থাকতেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম ওহী মুবারক নাযিল হওয়ার পর বিষয়টি আরববাসীদের অবগতির জন্য সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত ওয়ারাকা ইবনে নওফল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট নিয়ে গেলেন। তিনি জাহেলী যুগে ঈসায়ী ধর্ম অনুসরণ করতেন। তিনি অতিশয় বৃদ্ধ ছিলেন, উনার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল। তিনি আরবী লিখতে জানতেন এবং ইনজিল কিতাব আরবীতে লিপিবদ্ধ করতেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন: হে চাচাতো ভাই! আপনার ভ্রাতুষ্পুত্র উনার কথা শুনুন। হযরত ওয়ারাকা ইবনে নওফল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন: আপনি কি দেখতে পান? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা দেখেছিলেন তা সবিস্তারে উনাকে বললেন। হযরত ওয়ারাকা ইবনে নওফল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন: ইনি সেই ফেরেশ্তা, যাঁকে আল্লাহ পাক হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট পাঠিয়েছিলেন। আপনার জাতি যখন আপনার সাথে শত্রুতা করে আপনাকে আপনার শহরে থাকতে বাধা দিবে। আহ্, ততদিন যদি আমি জীবিত থাকতাম, যদি আমার শক্তি থাকত! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রশ্ন করলেন:
أوَ مُخْرِجِىْ هُمْ ؟
অর্থ: তারা কি আমাকে থাকতে বাধা দিবে?
হযরত ওয়ারাকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন:
نَعَمْ، لَمْ يَأتِ رَجُلٌ قَطٌّ بِمِثْلِ مَا جِئْتَ بِهِ إلَّا عُوْدِىْ، وَ إنْ يُدْرِكْنِىْ يَوْمُكَ أنْصُرُكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا –
অর্থ: হাঁ, আপনি যা নিয়ে আগমন করেছেন, দুনিয়াতে যখনই কেউ উহা নিয়ে আগমন করেছেন, তখনই বিশ্ববাসী উনার শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি যদি তখন জীবিত থাকি, তবে আপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা করব।
এর অল্প কয়েক দিন পরেই হযরত ওয়ারাকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইনতিকাল করেন। এই রিওয়ায়াত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে শ্রবণ করে বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












