সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৫)
, ১৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০১ রবি’ ১৩৯১ শামসী সন , ৩০ আগস্ট, ২০২৩ খ্রি:, ১৬ ভাদ্র, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
বাণিজ্য হতে প্রত্যাবর্তনের প্রায় তিন মাস পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল উলা কুবরা আলাইহাস সালাম নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হযরত নাফিসাহ বিনতু মুনিয়াহ নামে উনার এক বান্ধবীর মাধ্যমে নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব পাঠান। উল্লেখযোগ্য যে, উম্মুল মু’মিনীন আল উলা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পিতার ইনতিকালের পর উনার চাচা আমর ইবনে আসাদ জীবিত ছিলেন। নির্ধারিত দিনে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চাচা খাজা আবু তালিব উনার গোত্রের সকল নেতৃবর্গকে সঙ্গে নিয়ে, যাঁদের মধ্যে সাইয়্যিদুশ শুহাদা সাইয়্যিদুনা হযরত হামযা আলাইহিস সালামও ছিলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার গৃহে গমন করেন। খাজা আবু তালিব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার খুত্বা পাঠ করেন। সুবহানাল্লাহ!
যখন খাজা আবু তালিব উনার খুতবা শেষ হলো, তখন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চাচাত ভাই হযরত ওয়ারাকা ইবনে নওফল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খুতবা দেন। সুবহানাল্লাহ! (কিতাবুল আমালী)।
অতঃপর খাজা আবু তালিব বলেন: হে ওয়ারাকা ইবনে নওফল! আমর ইবনে আসাদ (হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চাচা) এখানে উপস্থিত আছেন। আমি ভাল মনে করি যে, তিনিও আপনার খুতবায় শরীক হোন। তখন আমর ইবনে আসাদ বলে উঠেন: “আমিও হযরত খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ আলাইহাস সালাম উনাকে হযরত মুহম্মদ ইবনে আবদিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফে সোপর্দ করলাম”। এ কথার উপর উভয় পক্ষ ইজাব কবুল করেন। সুবহানাল্লাহ! (আসাহহুস সিয়ার, আল্লামা আবদুর রউফ দানাপুরী ক্বাদেরী)।
বর্ণিত আছে এই নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠানে তশরীফ আনয়নের সময় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে উম্মুল মু’মিনীন আল উলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম এত অর্থ ব্যয় করেছিলেন যে, যেখানে নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয় সেখান থেকে উনার সম্মানিত হুযরা শরীফে তাশরীফ আনয়ন পর্যন্ত প্রতি কদমে একটি সোনার থালা মুবারক বিছিয়ে দিয়েছিলেন, যার উপর কদম মুবারক রেখে পবিত্র হুযরা শরীফে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তশরীফ মুবারক আনয়ন করেন। সুবহানাল্লাহ! যদি ১০০টি সোনার প্লেট বসানো হয়ে থাকে এবং প্রতি প্লেট ৫ থেকে ৭ কেজি ওজন ধরা হয়, তা হলে দেখা যায় ৫০০ থেকে ৭০০ কেজি স্বর্ণ, বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ৩৫০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি টাকা। সুবহানাল্লাহ! এ থেকে অনুমান করা যায় যে, উম্মুল মু’মিনীন আল উলা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি কত বেশী সম্পদশালিনী ছিলেন এবং কত বেশী তা’যীম তাকরীমের সাথে তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আপ্যায়ন করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












