ঘটনা থেকে শিক্ষা:
সম্মানিত খিলাফত ব্যবস্থা; জমিনটাই যেন জান্নাত!
, ১০ ই জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৬ সাদিস, ১৩৯২ শামসী সন , ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ২৮ কার্তিক, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রথম খলীফা, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খিলাফতকাল। সবদিকে চলছে ইনসাফপূর্ণ শাসন ব্যবস্থা। তারপরও খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার একজন বিচারক প্রয়োজন বোধ করলেন। তিনি আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার বিচারক মনোনিত করলেন।
বিচারক হিসেবে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক বছর কাটিয়ে দিলেন। কিন্তু বিচার প্রার্থী হিসেবে নালিশ নিয়ে একজনও আসলেন না। একটি বিচার বসানোরও প্রয়োজন পড়েনি। এজন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বিচারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইলেন। তিনি খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার কাছে আরজ করলেন। তিনি উনার কাছে জানতে চাইলেন, বিচারের কোনো সমস্যার কারণে কি আপনি অব্যাহতি চাচ্ছেন?
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উত্তর দিলেন, খলীফাতুল মুসলিমীন! না। কারণ বিচারক হিসেবে এখানে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। সবাই উনাদের হক্ব সম্পর্কে সচেতন। উনাদের কেউ নিজের হক্বের বেশি আশা করেন না। আর উনাদের উপর যে দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে, তাও সঠিকভাবে পালন করেন। উনারা নিজেদের জন্য যা পছন্দ করেন, উনাদের ভাইয়ের জন্যও তাই পছন্দ করেন।
কারো সঙ্গে দেখা না হলে উনারা উনার খোঁজখবর নেন। কেউ অসুস্থ হলে উনার সেবা করেন। কেউ অসহায় হয়ে পড়লে উনাকে সাহায্য করেন। কারো কোনো প্রয়োজন পড়লে উনার প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে আসেন। কেউ বিপদে পড়লে উনাকে সান্ত¡না দিয়ে বিপদ কমানোর চেষ্টা করেন। উনাদের চরিত্র হলো, সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও মন্দ কাজে নিষেধ করা। তাই উনারা কেন ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হবেন। উনাদের বিচারকের-ই বা কী প্রয়োজন?
নছীহত মুবারক: সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার খিলাফত ব্যবস্থা যখন জারী ছিলো তখন সবাই এত ইতমিনান ছিলেন যে কারো কোন অভিযোগ ছিলো না। সম্মানিত খলীফা উনার পক্ষ হতে সকল বিষয়ের সবার দেখাশোনা করা হতো। সবার চাহিদা পূরণ করে দেয়া হতো। জনসাধারণও এমন ছিলেন যারা তাক্বওয়া-পরহিযগারীতে বেমেছাল। যার ফলে জমিনটাই ছিলো জান্নাতের নিয়ামতের মতো পরিপূর্ণ। আবার যখন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে সম্মানিত খিলাফত মুবারক কায়েম হবে তখন জমিনে ইনসাফ আবার কায়িম হবে এবং জান্নাতের মতো নিয়ামত দ্বারা জমিন পরিপূর্ণ হবে।
-উম্মু মুদ্দাসসির।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সন্তানসম্ভাবা মহিলাদের বেশি বেশি খেজুর বা খুরমা খাওয়া প্রয়োজন
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১১)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: সর্বোত্তম ঈমান উনার অধিকারী হওয়ার শর্তাবলী (২)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (২)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












