সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে রজম বা ছঙ্গেছারের বিধান (১)
, ১৪ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৪ হাদি আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রি:, ৩০ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
রজম আরবী শব্দ এর অর্থ প্রস্তর নিক্ষেপ করা। সম্মানিত শরীয়ত মতে- বিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হলে, যদি পুরুষ হয় তাকে কোন উঁচু স্থানে রেখে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা। আর যদি নারী হয় তবে তাকে বুক পর্যন্ত মাটির নিচে রেখে তারপর পাথর মেরে তাকে হত্যা করাকে রজম বা ছঙ্গেছার বলা হয়।
৪র্থ হিজরীতে রজম বা ছঙ্গেছারের বিধান জারি হয়। তা হলো- এক লোক কোন এক ইহুদী নারীর সঙ্গে ব্যাভিচারে লিপ্ত হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এ বিষয়ে সমাধান চাওয়া হলে তিনি প্রস্তর নিক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাভিচারকারীকে হত্যার নির্দেশ মুবারক দিলেন। তারা উভয়ে যেহেতু অমুসলিম। তাই তারা বললো, আমরা আমাদের ধর্মানুসারে সমাধান করবো। আমাদের তাওরাত শরীফের বিধান এরকম যে, ব্যাভিচারী নারী ও পুরুষ উভয়কে মুখে কালি মেখে উটের উপর বসিয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘোরাতে হবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘তোমরা মিথ্যা বলছো। তাওরাত কিতাবেও ব্যাভিচারের শাস্তি ছঙ্গেছার (তথা প্রস্তর নিক্ষেপের মাধ্যমে হত্যা করার বিধান রয়েছে)। পবিত্র কুরআন শরীফ ও তাওরাত শরীফের মধ্যে এ ব্যাপারে কোন ভিন্নতা নেই। ’ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ইহুদীদের বড় আলিম ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার পর তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনিও ইহুদীদের কথা মিথ্যা প্রতিপন্ন করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে ইহুদীরা তোমরা তাওরাত শরীফ নিয়ে আসো। তারা তাওরাত শরীফ এনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুমতি মুবারক নিয়ে তা পাঠ করতে লাগলো। যখন রজম বা ছঙ্গেছারের বিষয়ে আসলো, তখন সেই বিষয়ের উপর হাত রেখে তারা সামনে পাঠ করতে লাগলো। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সেই তাওরাত শরীফের বাক্যটি পাঠ করে শুনালেন। তারা আর রজম বা ছঙ্গেছার থেকে বাঁচতে পারলো না। ’ সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মাদারেজুন নুবুওওয়াহ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـى عَنْهُ، وَحَضْرَتْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـى عَنْهُ، وَحَضْرَتْ شِبْلٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـى عَنْهُ، قَالُوا كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَنْشُدُكَ اللَّهَ إِلاَّ قَضَيْتَ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ. فَقَالَ خَصْمُهُ وَكَانَ أَفْقَهَ مِنْهُ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَائْذَنْ لِي حَتَّى أَقُولَ. قَالَ " قُلْ". قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا وَإِنَّهُ زَنَى بِامْرَأَتِهِ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَخَادِمٍ فَسَأَلْتُ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فَأُخْبِرْتُ أَنَّ عَلَى ابْنِي جَلْدَ مِائَةٍ وَتَغْرِيبَ عَامٍ وَأَنَّ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا الرَّجْمَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم" وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ الْمِائَةُ الشَّاةُ وَالْخَادِمُ رَدٌّ عَلَيْكَ وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَاغْدُ يَا أُنَيْسُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـى عَنْهُ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا". قَالَ هِشَامٌ رحمة الله عليه فَغَدَا عَلَيْهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত যায়িদ ইবনে খালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত শিবলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের থেকে বর্ণিত। উনারা বলেন, আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন উনার কাছে এক ব্যক্তি এসে বললো, আমি আপনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম করে বলছি যে, দয়া করে আমাদের মধ্যে কিতাবুল্লাহ উনার বিধান অনুযায়ী মীমাংসা করে দিন। তার তুলনায় অধিক বিচক্ষণ তার প্রতিপক্ষ বললো, হ্যাঁ আমাদের মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব অনুসারে ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে বক্তব্য পেশের অনুমতি মুবারক দান করুন। তিনি বললেন, বলো। লোকটি বললো, আমার পুত্র এই ব্যক্তির শ্রমিক ছিলো, সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যাভিচার করেছে। আমি তার পক্ষ থেকে একশত বকরী এবং একটি গোলাম পরিশোধ করেছি। অতঃপর আমি কতক বিজ্ঞ লোককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলা হয় যে, আমার পুত্রকে এক শত বেত্রাঘাত করতে হবে এবং এক বছরের জন্যে নির্বাসন দিতে হবে, আর এই ব্যক্তির স্ত্রীকে রজম বা ছঙ্গেছার করতে হবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, সেই খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যার হাতে আমার নূরুল আমর তথা মহাসম্মানিত প্রাণ মুবারক! আমি অবশ্যই তোমাদের দু’জনের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব তথা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ অনুযায়ী ফায়সালা মুবারক করবো। তুমি তোমার একশত বকরী ও গোলাম ফেরত নাও এবং তোমার পুত্রকে এক বছরের নির্বাসনসহ এক শত বেত্রাঘাত করা হবে। আর হে উনাইস! আপনি আগামীকাল সকালে উনার আহলিয়ার নিকট যাবেন। তিনি যদি স্বীকারোক্তি করেন তবে উনাকে রজম বা ছঙ্গেছার করবেন। অধস্তন রাবী হযরত হিশাম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত উনাইস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু পরের দিন সকালে তার নিকট গেলেন এবং সে স্বীকারোক্তি করলে তিনি তাকে রজম (তথা ছঙ্গেছার) করেন। ’ (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ) (ইনশাল্লাহ চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খছম বা ঝগড়া কু-স্বভাবটি পরিহার করা অপরিহার্য কর্তব্য
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১০)
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা (২)
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (১)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












