শীতে পরিযায়ী পাখিরা কীভাবে সহস্র মাইল পথ চিনে যায়-আসে?
, ১৭ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২২ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ০৫ পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) বিদেশের খবর
সাইবেরিয়া বা রাশিয়া থেকে আসে ওয়েডার্স ও ডাক। ইউরোপ থেকে আসে ইউরোপিয়ান ফ্লাইক্যাচার, ব্রাউন-ব্রেস্টেড ফ্লাইক্যাচার, বার্ন সোয়ালের মতো আরও কত সব পাখি! খাবারের অভাব কিংবা প্রজননের সমস্যার মতো নানা কারণেই তাদের এই ‘অনন্ত’ সফর। তবে আসল কারণ হয়তো উষ্ণতা। এই সময়ে আসা। আর মার্চ-এপ্রিলের দিকে ফিরে যাওয়া। এটাই তাদের সারা বছরের রুটিন।
তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো-এই পাখিরা কিভাবে এত দীর্ঘ পথ চিনে আসে? তাদের এই দূরপাল্লার যাত্রার পেছনে কি রহস্য লুকিয়ে আছে?
পরিযায়ী পাখিদের দীর্ঘ যাত্রা সম্পন্ন করতে সাহায্য করে তাদের অভ্যন্তরীণ নেভিগেশন সিস্টেম। বিজ্ঞানী দাবিদারদের কথা অনুযায়ী, পাখিদের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক কম্পাস রয়েছে যা তাদের সঠিক দিক নির্দেশ করতে সক্ষম। পাখিরা তাদের যাত্রার পথে সূর্য্য, তারকা, চাঁদ এবং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সাহায্যে দিক নির্ধারণ করে। বিশেষ করে পাখিরা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন অনুভব করতে সক্ষম, যা তাদের সঠিক দিক নির্ধারণে সাহায্য করে। এই চৌম্বক ক্ষেত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে তারা তাদের যাত্রাপথের অভ্যন্তরীণ স্মৃতিকে কাজে লাগিয়ে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
বিজ্ঞানীরা একটি পরীক্ষায় দেখেছে যে, পাখিরা মহাকাশের তলা থেকে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সিগন্যাল ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান নির্ধারণ করে। এটি একটি প্রাকৃতিক ‘জিপিএস সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করে, যা পাখিদের যাত্রার পথে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়। পাখির শরীরে বিশেষ ধরনের সেল থাকে, যা চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রতি সংবেদনশীল এবং তা পাখিদের চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সেলের মাধ্যমে তারা পৃথিবী থেকে আসা চৌম্বক তরঙ্গ অনুভব করে এবং তাদের যাত্রাপথে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহার করে।
পাখিরা যে যাত্রাপথ অনুসরণ করে, তা তাদের পূর্বপুরুষদের অভিজ্ঞতা ও অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। পাখিরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট এলাকার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে থাকে। তারা পূর্ববর্তী যাত্রায় যে পথে চলেছিল, তা পুনরায় চিনে নিয়ে ফেরত আসে। ফলে একটি অতিথি পাখি যখন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে চলে আসে, তখন সে একই পথে ফিরে আসার অভ্যাস অর্জন করে। এভাবে পাখিরা পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের পথ চিনে নিতে পারে। এছাড়া নতুন পাখিরা অভিজ্ঞ পাখিদের অনুসরণ করে পথ চিনে নেয়, যা তাদের যাত্রার সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
পরিযায়ী পাখিরা শুধু দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয় না, তারা বিভিন্ন কৌশলও ব্যবহার করে যাত্রার সঠিকতা নিশ্চিত করতে। একে বলা হয় ‘ফ্লক ফ্লাইং’ বা ঝাঁকভাবে উড়ান। পাখিরা একত্রে দলবদ্ধ হয়ে উড়ে, যার ফলে তাদের পথ অনুসরণ করা সহজ হয় এবং তারা একে অপরের কাছ থেকে সঠিক দিক নির্দেশনা পায়। একই সঙ্গে তাদের গতি নিয়ন্ত্রণও সম্ভব হয় এবং ক্লান্তি কম হয়। এতে করে পাখিরা আরও দ্রুত এবং সঠিকভাবে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ভারতে আসা ইসরায়েলি সন্ত্রাসী সেনাকে আটকের দাবি
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র আল আকসাকে ‘পর্যটন কেন্দ্র’ বানানোর ষড়যন্ত্র!
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যুদ্ধ শেষ করতে চাইছে ট্রাম্প, কিন্তু পিছু হটছে না ইরান
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যুক্তরাষ্ট-ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজে ইরানের হামলা
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইউক্রেনে রাশিয়ার তুমুল হামলায় নিহত ১১
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে মানা
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেউলিয়া হচ্ছে চীনা সোলার কোম্পানিগুলো
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হিজবুল্লাহর হামলায় কথিত আয়রন ডোম ধ্বংস
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হামাসের বীরত্ব:
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হিজবুল্লাহর হামলায় কথিত আয়রন ডোম ধ্বংস
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দখলদারদের ট্যাংকগুলো এভাবেই আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সন্ত্রাসী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের তীব্র নিন্দা
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












