চাইল্ড যুদ্ধ:
মুঘলদের কাছে ব্রিটিশদের লজ্জাজনক পরাজয়
, ২৭ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১৮ আউওয়াল, ১৩৯১ শামসী সন , ১৭ জুন, ২০২৩ খ্রি:, ০২ আষাঢ়, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইতিহাস
আওরঙ্গজেব আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গোয়েন্দা মারফত জানতে পারলেন যে, এগুলো ইংরেজদের কাজ। উনার পিতা বাদশাহ শাহজাহান ইংরেজদের ৩০০০ টাকা শুল্কের বিনিময়ে ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছিলেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই পরিস্থিতি ঘোলাটে করছিলো ইংরেজরা। তাই এবার তিনি ইংরেজদের শায়েস্তা করার চিন্তা করেন।
সে সময় বাংলার সুবাদার ছিলেন আওরঙ্গজেব আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মামা মির্জা আবু তালিব ওরফে শায়েস্তা খান। তিনি বুঝতে পারলেন যে, বাদশাহ ইংরেজদের শায়েস্তা করতে চাচ্ছেন। তিনিও চাচ্ছিলেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে বড়সড় একটি পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। কারণ বাংলা অঞ্চলেও অনিয়ম ও অবৈধ ব্যবসার পসরা সাজিয়ে বসেছিলো এরা। পরিকল্পনা মতো শায়েস্তা খান শুল্ক ২% থেকে বাড়িয়ে ৩.৫% করে দিলেন তিনি। শুল্ক বাড়ানোর ঘটনায় বেঁকে বসলো ব্রিটিশরা। তারা ষড়যন্ত্র শুরু করলো। যার নেতৃত্বে ছিলো জোসিয়া চাইল্ড নামের এক অবৈধ ব্রিটিশ ব্যবসায়ী।
এই চাইল্ড জানতো যে বাংলা একটি ধন সম্পদে পরিপূর্ণ দেশ। বাংলা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলেই মুঘলরা যুদ্ধের সাহস পাবে না। সুতরাং যে করেই হোক বাণিজ্যিক আধিপত্য তার এখানে কায়েম করতেই হবে। চট্টগ্রাম তখন ছিলো প্রচুর সমৃদ্ধ, আর বাণিজ্যিক যোগাযোগের জন্য সর্বোত্তম। প্রচন্ড শক্তিশালী এক দুর্গের মতো অঞ্চল ছিলো বলে চট্টগ্রাম দখল করাও ছিলো দুরূহ ব্যাপার। এর উপর আবার শায়েস্তা খানের মতো বিচক্ষন শাসক বিদ্যমান।
এরপরও একবার চেষ্টা করে দেখতে চাইলো ব্রিটিশরা। চাইল্ড শায়েস্তা খানের নতুন করনীতিকে প্রত্যাখান করে বাংলা দখলের জন্য মুঘলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো এবং আওরঙ্গজেব আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিলো। বাংলা দখল করবার জন্য চাইল্ড তার সেনাবাহিনী পাঠালো। চাইল্ডকে সহযোগীতার জন্য তৎকালীন ইংল্যান্ডের শাসক কিছু যুদ্ধজাহাজ পাঠায়। এর পাশাপাশি চাইল্ড মাদ্রাজ থেকে আরও ৪০০ জন সৈন্য, ২০০ টি কামান এবং ৬০০ জন পুরুষের একটি বাহিনী পাঠায়। তার নির্দেশ ছিলো চট্টগ্রাম দখল করতেই হবে। এদিকে সে সময়ের অন্যতম শক্তিশালী মুঘল সেনাবাহিনী নিয়ে চট্টগ্রামে অপেক্ষা করতে লাগলেন শায়েস্তা খান। এ সময় ভারতের হুগলিতে ব্রিটিশদের নৌবহর এসে পৌছায়।
ঠিক এমন সময় একটি ঘটনা ঘটে যায়। শায়েস্তা খান কিছুটা সময় নিয়ে ব্রিটিশদের আক্রমন করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু হুগলী নদীর কাছে ৩ ব্রিটিশ সেনার খারাপ আচরণের কারণে তাদের বেধড়ক মারধর করে মুঘল সেনারা। যার প্রতিশোধ নিতে হুগলিতে মুসলমানদের ৫০০ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় ব্রিটিশ সেনারা। এতে শায়েস্তা খান প্রচন্ড রেগে যান। তিনি দ্রুত ইংরেজ শিবিরে আক্রমণ করার আদেশ দেন এবং তাদেরকে পরাজিত করে পিছু হটতে বাধ্য করেন।
হুগলিতে পরাজয়ের পর ব্রিটিশ সন্ত্রাসীরা এর প্রতিশোধ নিতে সমুদ্রে হাজ্বীদের জাহাজে হামলা চালায় এবং লুট করে। এ খবর শুনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নৌযুদ্ধ ঘোষণা করেন আওরঙ্গজেব রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি উনার নৌবহর নিয়ে মাদ্রাজে ইংরেজ দুর্গ অবরোধ করেন। সিদ্দীক ইয়াকুব এর নেতৃত্বাধীন নৌ বহর এবং উনার সাথে হাবিশ ফৌজের আক্রমণে ব্রিটিশরা ধরাশয়ী হয়। পালিয়ে যায় ব্রিটিশরা। এই যুদ্ধ ১৬৮৬ থেকে ১৬৮৯ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। ধূর্ত চাইল্ডের কারণেই মূলত এই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো। তাই ইতিহাসে একে চাইল্ড যুদ্ধ নামেই অভিহিত করা হয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলিম নির্যাতনের প্রতিশোধ হিসেবে বাংলার সুলতান যেভাবে নেপাল বিজয় করেছিলেন
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আধুনিক কাগজ শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা মুসলমানগণই
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা নিয়ে ইতিহাসের আলোকে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
তাতারস্তানে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং মুসলমানদের স্বর্ণালী ইতিহাস
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












