সম্পাদকীয় (১)
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির প্রচারণা দেশের উন্নয়নের চিত্র নয়। বর্তমানে আয়বৈষম্য স্বাধীনতার চেতনার মূলে কুঠারাঘাত।
, ২০ ছফর শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৮ ছালিছ, ১৩৯২ শামসী সন , ২৬ আগষ্ট, ২০২৪ খ্রি:, ১১ ভাদ্র , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৭৮৪ মার্কিন ডলার, যা গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল দুই হাজার ৭৪৯ ডলার, এক বছরের ব্যবধানে এই আয় ৩৫ ডলার বেড়েছে। ডলারের দাম ১০৯ টাকা ৯৭ পয়সা ধরে এই মাথাপিছু আয় টাকার হিসাবেও গণনা করা হয়েছে। বর্তমানে টাকার অঙ্কে মাথাপিছু গড় আয় তিন লাখ ছয় হাজার ১৪৪ টাকা।
দৈনিক আল ইহসান পত্রিকার অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশে বৈষম্যের কারণে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ায় মাথাপিছু আয় কথিতভাবে বাড়লেও দেশের সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় না বেড়ে উল্টো কমেছে।
মাথাপিছু আয় বাড়লেই সব মানুষের আয় সমানভাবে বাড়বে, বিষয়টি তেমন নয়। যেহেতু এটি গড় হিসাব করে বের করা হয়, সুতরাং কারো আয় অনেক বাড়লেও মাথাপিছু আয় বাড়তে পারে। আর সেক্ষেত্রে মানুষ এই তথ্যের সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন না এটাই স্বাভাবিক।
যেহেতু বাংলাদেশে আয় বৈষম্য অনেক বেশি, তাই সাধারণ মানুষের আয় কমলেও মাথাপিছু আয় বাড়তে পারে।
কোনো দেশের আয়বৈষম্য কতটা তা পরিমাপ করা হয় গিনি সহগ দিয়ে। গিনি সহগের মান শূন্য হলে বোঝায়, দেশের সবার মধ্যে চরম সমতা বিরাজ করছে; আর এর মান বাড়তে বাড়তে শূন্য দশমিক পাঁচ (০.৫) বা বেশি হলে বোঝায় যে, দেশে আয়বৈষম্য চরমতম অবস্থায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘খানা আয় ও ব্যয় জরিপ, ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ধনীদের আয় আরও বেড়েছে। এতে আয়বৈষম্য আরও বেড়েছে। যেমন দেশের সবচেয়ে বেশি ধনী ১০ শতাংশ মানুষের হাতে এখন মোট আয়ের ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে গরিব ১০ শতাংশ মানুষের আয় দেশের মোট আয়ের মাত্র ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। সব মিলিয়ে সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ আয় যাচ্ছে দেশের ধনী ৩০ শতাংশ মানুষের হাতে। বাকি ৭০ শতাংশ মানুষের আয় মোট আয়ের বাকি এক ভাগ।
নানা পরিসংখ্যানে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশ একটি উচ্চ আয়বৈষম্যের দেশ। আর এই আয়বৈষম্যের কারণে মানসম্পন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ জীবনমান উন্নত করার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকছে গরিব পরিবারগুলো। তাই মাথাপিছু গড় আয় বৃদ্ধি আয়বৈষম্য বৃদ্ধি সেরকমই হতাশার খবর।
সরকারের কর্মব্যাক্তিরা এমন প্রচারণা চালায় যে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি মানেই দেশ অনেক উন্নত হয়েছে, কিংবা মানুষের জীবনমানের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বাস্তবে তারা লুকিয়ে রাখতে চান মাথাপিছু আয় বেশি হওয়া মানেই যে কোনো দেশের মানুষ খুব ভালো আছে, তা নয়। ধরা যাক, একজনের আয় ৯ হাজার টাকা। আরেক জনের আয় এক হাজার টাকা। এর অর্থ দুজনের মাথাপিছু গড় আয় পাঁচ হাজার টাকা। তার মানে তো এই নয় যে, দুজনেরই আয় সমান। সুতরাং এখানেই আয়বৈষম্যের বিষয়টি চলে আসে। সুতরাং মনে রাখতে হবে, জাতীয় আয় বৃদ্ধিই উন্নয়ন নয়।
বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে প্রভূত উন্নতি করেছে, প্রবৃদ্ধির হিসাবে অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির সুফল বৃহত্তর জনগোষ্ঠী পায়নি। পেয়েছে গুটিকয়েক মানুষ।
কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি জিডিপি হিসাব করার সময় গণ্য করা হয়। কিন্তু কৃষক ন্যায্যমূল্য না পেয়ে যে সর্বস্বান্ত হয়, সেটা কোনো বিবেচনায় আনা হয় না। একটি দেশকে আধা উন্নত বা উন্নতÑএই খেতাব দেয়ার আগে দেখা উচিত যে দুর্বল ও বঞ্চিত শ্রেণির নাগরিকের সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের ভিত কতটা মজবুত হয়েছেÑমৌলিক চাহিদা মেটানোর পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কি না।
মাথাপিছু আয় বাড়ার খবরটি তাই জনগণের জন্য ভালো খবর নয়। সরকারকে আয়বৈষম্যের ব্যাপারটিতে মূল লক্ষ্য রাখতে হবে। সরকারের আসল উদ্দেশ্য হতে হবে, সুষম সামাজিক উন্নয়ন ও বাজেটের সুষম বণ্টন।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চাইলে ভারতের সঙ্গে আলোচনা হবে’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতিকে আরো সমুন্নত করে ‘শক্ত প্রতিবাদ’ ও ‘প্রতিহতের কথা’ সংযুক্ত করতে হবে।
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আজ বিশেষ সম্মানিত, ফযীলত এবং রহমত, বরকতযুক্ত তথা ঐতিহাসিক ২৪শে যিলক্বদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! তেরো হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শিশু কিশোরদের মাঝে ডায়াবেটিসের প্রকোপ ভয়াবহ যা মারাত্মকভাবে বাড়ছে। শিশু-কিশোরদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ও প্রতিরোধে জরুরীভাবে নজর দেয়া উচিত।
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নির্বাচন, গণতন্ত্র শুধু বাংলাদেশে নয় ভারতেও হারাম। সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদও কাট্টা হারাম। মমতাই কৌশলে তার শিষ্য ও চরম যালিম কুভেন্দুকে বসিয়ে তার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদ প্রচারের ব্যবস্থা করে দিলো। হারাম থেকে বাচলে মুসলমান মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতী হেফাজত পাবে- ‘ইনশাআল্লাহ’।
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিগত জালেমশাহী সরকারগুলোর মত শুধু লবন প্রদানেই আর চামড়া সংরক্ষণেই নজর দিলে হবে না। চামড়ার দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে লাখ লাখ মাদরাসা, তালিব ইলম-ইয়াতীমদের সারা বছর ভালোভাবে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে ইনশাআল্লাহ
১০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সংখ্যালঘুদের উৎসব স্থানগুলিতে নিরাপত্তা দেয়া হলেও ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের কুরবানীর পশু ব্যবসায়ীদের জন্য এবং কুরবানীর হাটে যথাযথ নিরাপত্তাও থাকে না কুরবানীর হাটকে কেন্দ্র করে এবং কুরবানীর পশু বিক্রির সময় ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে। হাটের হাসিলের টাকা সরকারী কোষাগার থেকেই ব্যবস্থা করতে হবে।
০৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
‘সবার আগে বাংলাদেশ’- শ্লোগানই যথার্থ। সব সমস্যার সমাধান সবার আগে বাংলাদেশেই আছে। জ্বালানী সংকটের উপায় পাওয়া যাচ্ছে কুষ্টিয়ার মনিরুল আবিস্কৃত বিকল্প ও সাশ্রয়ী ডিজেল উদ্ভাবনে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় এর সুফল সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে ইনশাআল্লাহ
০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
অতীতের মত উচ্চাভিলাসী বাজেট দিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ালে জনজীবন আরো বিপর্যস্থ হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাজেটের পরিবর্তে মানব সম্পদ উন্নয়ন ও জনসেবায় ব্যায় বাড়াতে হবে।
০৬ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আজ মহিমান্বিত ১৬ই যিলক্বদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কোনো বিদেশি কোম্পানি সাড়া দেয়নি বলে এতো হা হুতাশ কেনো? বাপেক্সকেই সমুদ্রেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেয়ার দায়িত্ববোধ- কেবলমাত্র খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমাই সম্ভব ইনশাআল্লাহ
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুবারক হো- মহিমান্বিত ১১ই যিলক্বদ শরীফ! যা ইমামুল আউলিয়া, হাবীবে ওয়া মাহবুবে রহমান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সিবতু সুলত্বানিন নাছীর, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, মহাসম্মানিত ইমাম হযরত সাইয়্যিদুল উমাম আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাদের মহিমান্বিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। সুবহানাল্লাহ!
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সৌর বিদ্যুৎ প্রসারে প্রধান বাধা হলো উচ্চ কর ও শুল্ক। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের মনে একটা বদ ধারণা তৈরি করার জন্য একটা গোষ্ঠী খুব তৎপর। বড় বিনিয়োগকারীরা সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু সাধারণ জনগণ পিছিয়ে পড়ছে। এটি সৌর বিদ্যুতের গণমুখী বিস্তারকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকারের উচিৎ সহায়ক নীতিকাঠামো দিয়ে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা।
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












