মহিলাদের সম্মানিত সুন্নতী লিবাস মুবারক, অলংকার ও সাজ-সজ্জা-৪
, ২৬শে জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২২ সামিন, ১৩৯০ শামসী সন, ২০ই জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ০৫ মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
উক্ত বিষয়সমূহ সম্পর্কে নিম্নে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলো-
পূর্বে প্রকাশিতের পর...
ফুতহা বা গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাড়া অংশটি বুকের উপর হওয়া সুন্নত
পবিত্র সুন্নতী ক্বমীছ উনার গলাবন্ধনীর নীচে সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশটিকে ফুত্হা বলে। এ প্রসঙ্গে যিনি খালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নূর শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ-
অর্থ: মহিলারা যেন তাদের গলা ও বক্ষদেশ উড়না দ্বারা ঢেকে নেয়।
উল্লেখিত جُيُوبِهِنশব্দ মুবারক উনার অর্থ প্রসঙ্গে তাফসীর গ্রন্থসমূহে বলা হয়েছে-
جُيُوبِهِنَّ يعني موضع الجيب وهو النحر والصدر-
অর্থ: جُيُوبِهِنَّ (জুয়ূবিহিন্না) অর্থাৎ জামায় “গলা বন্ধনী ও বক্ষের উপর ফাঁড়া অংশ” এই দু’টি স্থানকে জেব বলা হয়। (তাফসীরে ইবনে আব্বাস পৃ:২৯৫, তাফসীরে কুরত্ববী ১২/২৩০, ফতহুল ক্বদীর লিশ-শাওকানী ৪/২৪, তাফসীরে খাযিন ৩/২৯২, তাফসীরে জালালাইন পৃ: ৪৬২ ইত্যাদি)
আইসারুত তাফাসীর লিল-জাযায়ির ৩য় খ- ৫৬৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
على جيوبهن: أي ولَتَضْرِبُ الْمَرْأَةُ الْمُسْلِمَةُ الْحُرَّةُ بِخِمَارِهَا عَلَى جُيُوْبِ أي فُتَحَاتِ الثِّيَابِ فِي الصَّدْرِ وغَيْرِه حَتّى لَا يَبْدُوْ شَيْءٌ مِنْ جِسْمِهَا-
অর্থ: “আলা জুয়ূবিহিন্না” অর্থাৎ অবশ্যই স¦াধীনা মুসলিমা মহিলাগণ উনারা উড়না দ্বারা উনাদের জুয়ূব অর্থাৎ জামার গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট বক্ষের ফাঁড়া অংশ এবং অন্যান্য অংঙ্গগুলিকে ঢেকে রাখবেন। যাতে শরীরের কোন অংশ প্রকাশ না হয়ে যায়।
তাফসীরুল ওয়াসীত্ব ৬ষ্ঠ খ- ১৪০৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
والجيوب جمع الجيب وهو فتحة في أعلى القميص يبدو منها بعض الجسم كما قال الآلوسى-
অর্থ: “আল-জুয়ূব” শব্দটি জাইবুন শব্দের বহু বচন।, কামীছের একেবারে উপরে গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট ফাঁড়া অংশকে জেব বলা হয়। যে ফাঁড়া অংশ দিয়ে শরীরের কিছু অংশ প্রকাশ পায়। এমনটি হযরত আলুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও বলেছেন।
আত-তাইসীরু ফী আহাদীছিত তাফসীর- ৪র্থ খ- ২৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
على جيوبهن أي على صدورهن، يعني مواضع جيوبهن، فقد كانت الجيوب عند العرب تجعل في الثوب عند الصدر
অর্থ: “আলা জুয়ূবিহিন্না” অর্থ হলো উনাদের বক্ষ সমূহের উপর। অর্থাৎ উনাদের জুয়ূব সমূহের স্থান। আরবগণ উনাদের কামীছের ফাঁড়া অংশটি বক্ষের উপরে করা হতো।
মাছাবীহুত তাফাসীরিল কুরআনিয়্যাতিল জামিয়ি’-১১খ- ১০৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
فِي هَذِهِ الْآيَةِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْجَيْبَ إِنَّمَا يَكُونُ فِي الثَّوْبِ مَوْضِعَ الصَّدْرِ.
অর্থ: উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত হলো- নিশ্চয়ই কামীছের গলাবন্ধনী সংশ্লিষ্ট নীচের ফাঁড়া অংশটি বক্ষের উপরে হবে।
তাফসীরে কুরতুবী ১২তম খ- ২৩১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
فِي هَذِهِ الْآيَةِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ الْجَيْبَ إِنَّمَا يَكُونُ فِي الثَّوْبِ مَوْضِعَ الصَّدْرِ. وَكَذَلِكَ كَانَتِ الْجُيُوبُ فِي ثِيَابِ السَّلَفِ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ، عَلَى مَا يَصْنَعُهُ النِّسَاءُ عِنْدَنَا بِالْأَنْدَلُسِ وَأَهْلُ الدِّيَارِ الْمِصْرِيَّةِ مِنَ الرِّجَالِ وَالصِّبْيَانِ وَغَيْرِهِمْ. وَقَدْ تَرْجَمَ الْبُخَارِيُّ رَحْمَةُ اللَّهِ تَعَالَى عَلَيْهِ (بَابَ جَيْبِ الْقَمِيصِ مِنْ عِنْدِ الصَّدْرِ وَغَيْرِهِ)
অর্থ: উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত, নিশ্চয়ই জেব শুধুমাত্র ক্বামীছের বক্ষের উপরেই হবে। কেননা, হযরত ছলফে ছালেহীন রিদ্বওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাইনগণ উনাদের পোশাকে তদ্রুপ বক্ষের উপরেই জেব থাকত। উক্ত কারণেই আমাদের স্পেনের মহিলাগণ এবং মিশরের পুরুষ, বালক এবং অন্যান্যগণ উনারা বক্ষের উপরেই জেব রাখেন। অবশ্যই ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বুখারী শরীফে একটি অধ্যায়ের শিরোনাম করেন- এই অধ্যায় কামীছের জেব বক্ষের উপরে এবং অন্যান্য অংশে হওয়া প্রসঙ্গে।
ফাতওয়া আশ-শাইখ মুহম্মদ আলী ফারকুস-৯ম খ-, ৪৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
ولْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ والمراد بالجيب هو موضع القطع من الدِّرع والقميص، أي: الفتحة من
الأعلى التي يبدو فيها شيءٌ من الصدر والعنق-
অর্থ: ولْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত جيب (জেব) শব্দ মুবারক উনার দ্বারা পুরুষ ও মহিলাগণ উনাদের ক্বামীছের গলা সংশ্লিষ্ট কাটা অংশটি উদ্দেশ্য। ফুতহা অর্থাৎ ক্বমীছের উপর থেকে খোলা অংশটি উদ্দেশ্য, যে স্থান দিয়ে গলা ও বক্ষের কিছু অংশ প্রকাশ পায়।
الجيب. وهو موضع القطع من الدرع والقميص-
অর্থ: পুরুষ ও মহিলাগণ উনাদের ক্বমীছের কর্তিত স্থানটিকে জেব বলা হয়। (আল-জামিউ’ লি-আহকামিল কুরআন-১২/২৩০, হুসনুল উসওয়াতি বিমা-ছাবাতা মিনাল্লাহি ওয়া রাসূলিহি ফীন্নিসওয়াতি- পৃ:১৫৩)
ইজহারুল হাক্কি ওয়াছ ছাওয়াব ফী-হুকমিল হিজাব- ৪৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-
الجيب- موضوع القطع من الدرع والقميص وهو من الأمام كما تدل عليه الآية. لا من الخلف كما تفعله نساء الإفرنج-
অর্থ: পুরুষ ও মহিলাগণ উনাদের ক্বমীছের গলা সংশ্লিষ্ট কর্তিত স্থানটিকে জেব বলা হয়। উক্ত কর্তিত ফাঁড়া অংশটি সামনের দিকে হবে, এটা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারাই প্রমাণিত। উক্ত কর্তিত ফাঁড়া অংশটি পিছনের দিকে হবে না, যেমনটি ইউরোপীয় বা পাশ্চাত্যের মহিলারা পরিধান করে থাকে। (চলবে)
-মুহম্মদ মুফীদ্বুর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই (১)
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পিতা-মাতা হারাম খেলে, তার তাছীর সন্তানের উপরও পড়ে
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১২)
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে খাছ সুন্নত অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধাচরণ করা অপপ্রচার মাত্র; * মুসলিম সমাজে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নোংরামী, অনৈতিকতা ছড়িয়ে দেয়াই যার মূল লক্ষ্য। * চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অল্প বয়সে বিবাহ ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী। (২য় অংশ)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












