মহিলাদের পাতা
মহিলাদের জন্য মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া জায়িয নয়
, ২৯ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৫ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ০৩ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ১৮ আশ্বিন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
হযরত উম্মু হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণিত। তিনি আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা মহিলারা আপনার সাথে নামায পড়তে ইচ্ছুক কিন্তু আমাদের আহাল বা স্বামীরা আমাদেরকে নিষেধ করেন। অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের জন্য সাধারণ ঘরে নামায পড়ার চেয়ে, খাছ ঘরে নামায পড়া উত্তম এবং সাধারণ ঘরে নামায পড়া জামে মসজিদে জামায়াতে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম। ” (সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, জাওহারুন নক্বী)
এ সমস্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা দ্বারা স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আহাল বা স্বামী কর্তৃক মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার নিষেধকে সমর্থন করেছেন। যদি তিনি সমর্থন না করতেন, তবে অবশ্য তিনি বলতেন, বাধা দেওয়া ঠিক হবে না। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, মহিলাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করা নাজায়িয নয় বরং জায়িয।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
হযরত উম্মু হুমাইদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার সাথে নামায পড়তে অধিক আগ্রহী। অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “অবশ্যই আমি জানি আপনি আমার সাথে নামায পড়তে পছন্দ করেন বা অধিক আগ্রহী। কিন্তু আপনার, আমার মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে আপনার গোত্রের মসজিদে নামায পড়া উত্তম এবং গোত্রের মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে হুজরায় নামায পড়া আরো উত্তম এবং হুজরায় নামায পড়ার চেয়ে ঘরে নামায পড়া উত্তম। ” (আহমদ, ইবনে হাব্বান, ত্ববারানী)
এ হাদীছ শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মসজিদে নামায পড়ার চেয়ে ঘরে নামায পড়া উত্তম বলা হয়েছে। যেখানে মহিলাদের জন্য ঘরে নামায পড়া মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম, সেখানে অন্য মসজিদে নামায পড়তে যাওয়া কি করে ফযীলতের আশা করা যায়? অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এক রাকায়াত নামায পড়া লক্ষ-কোটিগুণ রাকায়াত নামাযের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। কাজেই যদি জামায়াতের ফযীলতের জন্য মহিলাদের মসজিদে আসার অনুমতি দেওয়া হতো, তবে ঘরে নামায পড়া সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নামায পড়ার চেয়ে উত্তম বলা হতো না। মূলতঃ এর দ্বারা এটাই সাব্যস্ত হয় যে, মহিলাদের মসজিদে বা ঈদগাহে যাওয়ার অনুমতি ইলিম অর্জনের জন্যই দেওয়া হয়েছিল। নামাযের জন্য নয়।
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
হযরত আবূ আমর শাইবানী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি দেখেছেন হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে জুমুআর দিন তিনি মহিলাদেরকে মসজিদ হতে এ কথা বলে বের করে দিতে যে, “হে মহিলারা! তোমরা তোমাদের ঘরে চলে যাও, কারণ নামাযের জন্য তোমাদের ঘরই উত্তম। ” (ত্ববারানী শরীফ)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহের আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই শুধু মহিলাদের ঘরে নামায পড়ার জন্য কার্যতঃ উৎসাহ প্রদান করেননি বরং ঘরে নামায পড়ার বহু ফযীলতও বর্ণনা করেছেন।
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আবূ সাফওয়ান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে খাছ সুন্নত অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধাচরণ করা অপপ্রচার মাত্র; * মুসলিম সমাজে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নোংরামী, অনৈতিকতা ছড়িয়ে দেয়াই যার মূল লক্ষ্য। * চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অল্প বয়সে বিবাহ ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী। (২য় অংশ)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (৩)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে খাছ সুন্নত অল্প বয়সে বিবাহের বিরুদ্ধাচরণ করা অপপ্রচার মাত্র; * মুসলিম সমাজে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নোংরামী, অনৈতিকতা ছড়িয়ে দেয়াই যার মূল লক্ষ্য। * চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অল্প বয়সে বিবাহ ক্ষতিকর নয়, বরং উপকারী।
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সন্তানসম্ভাবা মহিলাদের বেশি বেশি খেজুর বা খুরমা খাওয়া প্রয়োজন
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১১)
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: সর্বোত্তম ঈমান উনার অধিকারী হওয়ার শর্তাবলী (২)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (২)
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












