সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক থেকে সংগৃহীত
মহিমান্বিত দশ দিন ও দশ রাত্রি (পর্ব-১০)
, ০৭ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ১৬ আউওয়াল, ১৩৯২ শামসী সন , ১৪ জুন, ২০২৪ খ্রি:, ৩১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহিলাদের পাতা
প্রসঙ্গত, কিতাবে একটি ওয়াকিয়া বর্ণিত আছে, পূর্ববর্তী যামানায় এক ব্যক্তি ছিল, যে মোটামুটি স্বচ্ছল ছিল। সে কুরবানী না করে কুরবানীর টাকা গরীব-মিসকীনদেরকে দিয়ে দিত। ঐ ব্যক্তি একদিন স্বপ্নে দেখল, ক্বিয়ামত সংঘটিত হয়ে গেছে এবং জান্নাত-জাহান্নামের ফায়ছালাও হয়ে গেছে। পুলছিরাত পার হয়ে যারা জান্নাতী উনারা জান্নাতে চলে যাবেন, আর যারা জাহান্নামী তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। দেখা গেল, একটি করে বাহন আসলো এবং সেই বাহনে চড়ে অনেকে পুলছিরাত পার হয়ে গেল। কিন্তু ঐ লোকের কোনো বাহন আসল না। জিজ্ঞাসা করা হল, তার বাহন কোথায়? বলা হল, তার কোন বাহন নেই কারণ সে কুরবানী করেনি। এ কথা শুনে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে লোকটার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে তওবা ইস্তেগফার করে পূর্বের কুরবানীগুলির কাফফারা আদায় করে এবং পরবর্তীতে সে আর কুরবানী করা বাদ দেয়নি।
বলার বিষয় হল, যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব তারা তো অবশ্যই কুরবানী করবে। আর যাদের উপর কুরবানী ওয়াজীব না তারাও অনেকে মিলে সামর্থ্য অনুযায়ী গরু-ছাগল, বকরী-ভেড়া যেটাই সম্ভব কুরবানী করলে প্রত্যেকের জন্যই পুলছিরাত পার হওয়া সহজ হবে।
পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্তাবলী:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مِخْنَفِ بْنِ سُلَيْمٍ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كُنَّا وُقُوْفًا مَعَ رَسُوْلِ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَفَةَ فَسَمِعْتُه يَقُوْلُ يَا اَيُّهَا النَّاسُ اِنَّ عَلٰى كُلِّ اَهْلِ بَيْتٍ فِىْ كُلِّ عَامٍ اُضْحِيَّةٌ
অর্থ: হযরত মিখনাফ ইবনে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আরাফার দিন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে অবস্থান করছিলাম। অতঃপর আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, “হে লোক সকল! নিশ্চয়ই প্রত্যেক আহলে বাইত তথা প্রত্যেক মালিকে নিসাবের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব”। (মিশকাত শরীফ)
হানাফী মাযহাব মতে, কুরবানীর ক্ষেত্রে মালিকে নিসাব ঐ ব্যক্তিকে বলা হয়, যার কাছে পূর্ণ এক বছর নয়; বরং কুরবানীর তিন দিন অর্থাৎ যিলহজ্জ শরীফ উনার ১০ তারিখ ছুবহে ছাদিক হতে ১২ তারিখ মাগরিব পর্যন্ত যে কোনো সময় সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমপরিমান টাকা থাকবে..। এছাড়া এসময়ের মধ্যে কারো কাছে হাওয়ায়েযে আছলিয়া তথা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ ‘নিসাব পরিমাণ’ থাকলে সেও মালিকে নিসাব হবে। আর এধরণের মালিকে নিসাবের উপর কুরবানী ওয়াজিব।
কিন্তু বর্তমানে দেখা যায়, সূক্ষ্মভাবে কুরবানীদাতাকে কুরবানীর অশেষ ফযিলত থেকে মাহরুম করে রাখার জন্য কুরবানীর টাকা গরিব-মিসকীনদের মাঝে দান করে দিতে উৎসাহিত করা হয়। নাঊযুবিল্লাহ! এটা শরীয়তসম্মত না। কারণ ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াজিব আমল তরক করা কবীরাহ গুনাহ।
আবার এও দেখা যায়, ছেলে মালিকে নিসাব কিন্তু পিতা-মাতা মালিকে নিসাব না, তা সত্ত্বেও ছেলেকে বলা হয় পিতা-মাতার পক্ষ থেকে কুরবানী না দিয়ে নিজের পক্ষ থেকে কুরবানী দেয়া যাবেনা। নাঊযুবিল্লাহ! এটাও সম্মানিত শরীয়ত বহির্ভূত।
কারণ সম্মানিত শরীয়ত উনার উছূল হলো, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব তাকে অবশ্যই কুরবানী দিতে হবে। এরপর সম্ভব হলে পরিবারের অন্যান্যদের পক্ষ থেকে কুরবানী দিতে পারবে।
আর কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার পরও যারা কুরবানী করবে না তাদের সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللّٰهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرُبَنَّ مُصَلَّانَا
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তির কুরবানী করার সামর্থ্য রয়েছে, সে যদি কুরবানী না করে, তাহলে সে যেন ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয় অর্থাৎ ঈদগাহে না আসে”। (মুসনাদে আহমাদ শরীফ)
মূলত: মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা বান্দা-বান্দী, উম্মতকে বিভিন্নভাবে ছওয়াব দান করতে চান, কিন্তু বান্দা-বান্দী এই সমস্ত আমল থেকে গাফিল থাকার কারণে রহমত থেকে মাহরুম থাকে। নাঊযুবিল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে তাক্বওয়া হাছিলের মাস, নেক দোয়া করার মাস এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে বেশী বেশী বদ দোয়া করার মাস
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












