মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্ মুবারক (৩)
, ১৫ ই জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২১ সাদিস, ১৩৯২ শামসী সন , ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ০৩ অগ্রহায়ণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
১. মুসলিম হওয়া, ২. বালিগ হওয়া, ৩. স্বাধীন হওয়া, ৪. দৈহিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া, ৫. শাসিত অঞ্চলকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করা, ৬. অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করার মতো প্রয়োজনীয় ক্ষমতার অধিকারী হওয়া, ৭. বীরত্বের অধিকারী হওয়া, ৮. মনোনীত হওয়া,
৯. পুরুষ হওয়া: এই ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইজমা বা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মহাসম্মানিত খলীফা উনাকে অবশ্যই পুরুষ হতে হবে। মহিলারা কখনোই খলীফা হতে পারে না। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
لَنْ يُّفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا اَمْرَهُمُ امْرَاَةً
অর্থ: “ওই সম্প্রদায় কখনোই সফলতা লাভ করতে পারবে না, যেই সম্প্রদায়ের শাসক হবে মহিলা। ” না‘ঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, নাসাঈ শরীফ, তিরমিযী শরীফ ইত্যাদি)
১০. ন্যায় বিচারক হওয়া: মহাসম্মানিত খলীফা উনাকে পূর্ণ ন্যায় বিচারক হতে হবে। অর্থাৎ যিনি মহাসম্মানিত খলীফা হবেন তিনি হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা যেরূপভাবে ন্যায়বিচার করেছেন, অনুরূপ ন্যায়বিচার করবেন।
১১. মুজতাহিদ হওয়া: মহাসম্মানিত খলীফা উনাকে অবশ্যই মুজতাহিদ হতে হবে।
১২. আলিম হওয়া: তিনি আলিম অর্থাৎ পরিপূর্ণরূপে ইলমে লাদুন্নী প্রাপ্ত হবেন।
১২. কুরাঈশ বংশীয় হওয়া: কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اَلْاَئِمَّةُ مِنْ قُرَيْشٍ
অর্থ: “মহাসম্মানিত খলীফা হবেন কুরাঈশ বংশ থেকে। ” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ ৩/১৮৩, বাযযার ১২/৩২১, ত্বয়ালাসী ২/২২৪, নাসাঈ শরীফ ৫/৪০৫, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ৬/৩২১ ইত্যাদি)
তাই যিনি মহাসম্মানিত খলীফা হবেন উনাকে অবশ্যই সম্মানিত কুরাঈশ বংশীয় হতে হবে। এই সম্পর্কে হযরত আল্লামা মাওয়ারদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
اِنْعِقَادُ الْاِجْـمَاعِ عَلَيْهِ
অর্থ: “এর উপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ” সুবহানাল্লাহ! (আহকামুস সুলত্বানিয়্যাহ্ ৫ নং পৃষ্ঠা)
১৩. যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হওয়া: যিনি মহাসম্মানিত খলীফা হবেন তিনি উনার যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হবেন।
১৪. হাক্বীক্বী মুত্তাক্বী হওয়া: যিনি মহাসম্মানিত খলীফা হবেন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কর্তৃক সমস্ত প্রকার গুনাহের কাজ থেকে পরিপূর্ণরূপে মাহফুয (সংরক্ষিত) থাকবেন। শুধু তাই নয়; তিনি গুনাহের কাজ করা তো দূরের কথা, এমনকি তিনি কোনো মুস্তাহাব সুন্নত মুবারকও তরক করবেন না। সুবহানাল্লাহ!
১৫. ফাসিক্ব না হওয়া: ফাসিক্ব ওই ব্যক্তি- যে ফরয, ওয়াজিব এবং সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আমল তরক করে থাকে, হারাম-নাজায়িয কাজ করে থাকে। আর ফাসিক্ব কখনোই খলীফা হতে পারে না। এই সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنّـِــىْ جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ اِمَامًا قَالَ وَمِنْ ذُرِّيَّـتِىْ قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِى الظّٰلِمِيْنَ
অর্থ: “আমি আপনাকে সমস্ত মানুষের জন্য মহাসম্মানিত ইমাম হিসেবে মনোনীত করেছি। তখন (সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম) তিনি বলেন, আর আমার সম্মানিত বংশধর উনাদের মধ্য থেকেও (মহাসম্মানিত ইমাম মনোনীত করুন)। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আমার অঙ্গীকার যালিমদের নিকট পৌঁছবে না। অর্থাৎ যালিম-ফাসিক্বরা কখনোই খলীফা হতে পারবে না। ” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১২৪)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় হানাফী মাযহাবের বিশ্বখ্যাত ফক্বীহ্ ইমাম আবূ বকর জাছ্ছাছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
فَـثَــبَتَ بِدَلَالَةِ هٰذِهِ الْاٰيَةِ بُطْلَانُ اِمَامَةِ الْفَاسِقِ وَاَنَّهٗ لَا يَكُوْنُ خَلِيْفَةً
অর্থ: “এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ফাসিক্ব ব্যক্তির ইমামত অর্থাৎ খিলাফত বাতিল। সে কখনোই খলীফা হতে পারে না। ” (আহকামুল কুরআন লিল জাছ্ছাছ ১/৮৬)
১৫. সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া: যিনি মহাসম্মানিত খলীফা হবেন তিনি দায়িমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার কর্তৃক সম্মানিত ইলহাম-ইলক্বা মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবেন। সুবহানাল্লাহ!
এগুলো হলো একজন খলীফা হওয়ার নূন্যতম যোগ্যতা। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে যদি কেউ খলীফা হন, উনার বিষয়টি তো সম্পূর্ণরূপে ব্যতিক্রম।
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ দাওয়াত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












