বৈশিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দেশে ভোজ্য তেলের আমদানী সমস্যায় ভূট্টার তেলে উৎপাদনে সমাধান সম্ভব
সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরিকল্পনা মাফিক অগ্রসর হলে ভুট্টার তেল উৎপাদনে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি প্রচুর রফতানি করাও সম্ভব ইনশাআল্লাহ
, ১০ শা’বান শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৩ ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ০৩ মার্চ, ২০২৩ খ্রি:, ১৭ ফাল্গুন, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সম্পাদকীয়
ভুট্টার তেল একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল। প্রায় সব রান্নায় এ তেল ব্যবহার করা যায়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই (১০%) ও ভিটামিন-কে (১%)। এর ফ্যাটি এসিড কম্পোজিশন অনেকটা সূর্যমুখী, চীনাবাদাম, তুলাবীজ, তিল ও তিসি তেলের মতোই।
এই তেল ব্যবহারের ফলে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে। হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমে। হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। সুস্বাদু, মিষ্টি গন্ধ ও সুন্দর রঙের জন্য এই ভোজ্য তেল অধিক জনপ্রিয়। রান্নার তেল ছাড়াও ভুট্টার তেল বায়োডিজেল, সাবান, পেইন্ট, কালি, ওষুধ তৈরিতে ও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ্ববাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
ভোজ্য তেলের বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দিনে দিনে ভোজ্য তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। সরকারের একটি অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয়ভাবে ভোজ্য তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এ জন্য আমন ও বোরো ধানের মাঝে যে সময়টুকু থাকে, ওই সময় স্বল্পমেয়াদি সরিষা চাষ করে সরিষা ও সরিষা তেলের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ধরণের উদ্যোগ সহজ মনে হলেও কাজটি কিন্তু চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্যে নানা ধরণের প্রযুক্তিগত বিষয় রয়েছে।
ভোজ্য তেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ বা আংশিক স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে আরো একাধিক উৎস থেকেও ভোজ্য তেল আহরণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যেহেতু দেশে বিপুল পরিমাণে (৫৬.৬ লাখ টন) ভ্ট্টুা উৎপাদিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এর চাষ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে, তাই ভুট্টার তেল বা কর্ন অয়েল বা কর্ন জার্ম অয়েল উৎপাদন বাংলাদেশের জন্য একটি উজ্জ্বল, সম্ভাবনাময় ও গুরুত্বপূর্ণ খাত।
দৈনিক আল-ইহসানের পর্যবেক্ষণে জানা গেছে দেশে যে পরিমাণ ভুট্টা উৎপাদন হয় তা থেকে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার টন তেল উৎপাদন করা সম্ভব। ভুট্টা থেকে তেল উৎপাদন করা হলে অন্যসব ভেজিটেবল অয়েলের চেয়েও কম দামে তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভুট্টা থেকে তেল উৎপাদন শুরু হলে বিদেশ থেকে তেল আনা সম্পূর্ণ বন্ধ করাও সম্ভব হবে। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি পুষ্টিকর তেল পাবেন ভোক্তারা।
এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছর ১৭ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিন ও পাম তেল আমদানি করে দেশের চাহিদা মেটানো হয়েছে। চাহিদা থাকায় বাংলাদেশের বাজারেও বিদেশ থেকে আমদানি করা ভুট্টার তেল পাওয়া যায়। এসব আমদানি করা ভোজ্যতেলের সঙ্গে সরিষা ও অন্যান্য তেলের ফসল থেকে দেশজ উৎপাদন (প্রায় ৩ লাখ টন) যোগ করে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা নিরূপণ করা যায়, যা কম-বেশি ২১ লাখ টন/বছর (মতান্তরে ২৪ লাখ টন/বছর)। তাই চাহিদার কথা বিবেচনা করে দেশে ভুট্টার তেল উৎপাদনের কথা এখনই ভাবতে হবে। তাহলে ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কিছুটা হলেও কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
বিশ্বের ৫০টির অধিক দেশ বাণিজ্যিকভাবে ভুট্টার তেল উৎপাদন করছে। ওপরে বর্ণিত আমাদের যে শক্তি (ংঃৎবহমঃয) রয়েছে সেসবের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এবং যেসব দুর্বল দিক (বিধশহবংং) রয়েছে তা অতিক্রম/সমাধান করে লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। দেশে বর্তমানে ৫৬.৬ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়। তা থেকে প্রায় ৫.৬ লাখ টন কর্নজার্ম পাওয়া যাবে (১০% হিসেবে) এবং ২ লাখ টন তেল নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। এই দুই লাখ টন ভুট্টার তেলের বাংলাদেশে বাজারমূল্য প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা। কর্নজার্ম আলাদা করার পর বাকি অংশ (প্রায় ৯০%) ব্যবহার করে পোলট্রি, পশু ও মাছের খাদ্য এবং কর্নস্টার্চ উৎপাদন করা সম্ভব। তেল নিষ্কাশনের পর যে খৈল পাওয়া যাবে তাও পোলট্রি, পশু ও মাছের খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। তবে এজন্য প্রয়োজন সুসমন্বিত উদ্যোগ। গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, ভুট্টা ব্রিডিং-এর মাধ্যমে জাত উন্নয়ন করে এর তেলের পরিমাণ ৪% থেকে ১০%-এর অধিক উন্নীত করা যায়। চাষিদের জন্য ভুট্টার বাজার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এর ব্যবহারে ডাইভারসিফিকেশন দরকার। এসবই আমাদের সম্ভাবনার (ড়ঢ়ঢ়ড়ৎঃঁহরঃরবং) বিভিন্ন দিক।
দেশে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ ভুট্টা ব্যবহার করে আমরা মূল্যবান ভুট্টার তেল উৎপাদন করতে পারি। এজন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, পলিসি, গবেষণা ও আর্থিক সাপোর্ট, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রোডাক্ট ডেভেলেপমেন্ট বিভাগ স্থাপনসহ), প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কাজ। আমাদের উচিত হবে আর দেরি না করে এখনই তা আরম্ভ করা। এজন্য এখনই কিছু স্বল্পমেয়াদি ও কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরিকল্পনামাফিক অগ্রসর হলে আমরাও ভুট্টার তেল উৎপাদনে সমস্যা শুধু দেশীয় প্রয়োজনে মিটানোই না পাশাপাশি প্রচুর রফতানীতেও সমৃদ্ধ হব ইনশাল্লাহ। তেল আমদানির্ভরতার পরিবর্তে তেল রপ্তানীকারক দেশে পরিনত হব ইনশাল্লাহ।
ছাহিবু সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রধানমন্ত্রী শুধু রেসিং কার চালিয়ে উৎসাহ দিলেই হবে না। ‘শিমু’, ‘সোলেমানের’ উদ্ভাবিত সেচযন্ত্র তথা সুলভ প্রযুক্তিকেও উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের প্রান্তিক নাগরিকের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি দ্বারাই সঙ্কটে সমাধানের অনুসন্ধানী উদ্দীপনা থাকতে হবে। ইনশাআল্লাহ
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আজ মহিমান্বিত ৮ই যিলক্বদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আত্বওয়ালু ইয়াদান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাবিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আজ ‘বিশ্ব পর্দা দিবস’।
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মহিমান্বিত, মহাপবিত্র ৭ তারিখ উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত পবিত্র ৭ই যিলক্বদ শরীফ আজ। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ হুসনে যন পোশন করত উনার শান-মান মুবারক অনুভব করা, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক জানা, দয়া-ইহসান মুবারক উপলব্ধি করা,ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ ও নেক ছোহবত মুবারক হাছিল করা
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুবারক হো! মহিমান্বিত ৬ই যিলক্বদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা যাওজাতুম্ মুকাররমাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত মুজীরাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
এবার শুধু শাসক গং নয়, বাংলাদেশের গোটা জনসাধারণকেই বশ ও বুদ করার ছক কষছে ভারত প্রতিবেশী দেশের সাথে মিলিতভাবে আগামী পহেলা বৈশাখ পালনের ঘোষণা ভারতীয় ষড়যন্ত্রের সমার্থক। ঈমানদার দেশবাসীকে খুবই সতর্ক এবং সক্রিয় হতে হবে ইনশাআল্লাহ।
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সোনার বাংলার সব কিছুতেই সোনা। এক নারিকেল চাষেই দেশে ৫০ হাজার কোটি টাকা আয় এবং লাখ লাখ লোকের বেকারত্বের অবসান সম্ভব। সহজেই হবে অনেক কর্মসংস্থান, আমদানীর সাশ্রয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার সমৃদ্ধি। ইনশায়াল্লাহ!
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দৈনন্দিন ৩২ বার পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করলেও মুসলমান কি পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ শুধু পাঠের মধ্যেই আবদ্ধ থাকবে? ফিকির আর আমল কী অধরাই থাকবে?
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আজ সুমহান বরকতময় পবিত্র ২রা যিলক্বদ শরীফ! সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊখতু রসূল মিনার রদ্বায়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সূদী ব্যাংক ব্যবস্থা মূলত: আত্মঘাতী এবং শোষক ব্যবস্থা। ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা শত শত শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থো-সামাজিকখাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্থ, লা’নতগ্রস্থ, বেকারত্বে জর্জরিত। বর্তমান সংকটাপন্ন অর্থনীতি বাঁচাতে অতিসত্বর সুদী ব্যাংক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধের ব্যাংক ব্যবস্থা চালু করতে হবে ইনশাআল্লাহ।
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার চিরন্তন ঘোষণা অনুযায়ী কাফির-মুশরিকদের নিকৃষ্ট চরিত্রের একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ : এপস্টিন ফাইলস
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
চলমান সংসদে “সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক উনার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসই হবে রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলীর মূল ভিত্তি- এই অনুচ্ছেদ পূর্ণবহালের প্রতিশ্রুতির সাথে চতুর্থ শ্রেণী থেকে হারাম খেলাধূলায় বাধ্য করার ঘোষণা চরম সাংঘর্ষিক।
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পৃথিবী চাইলেই বাংলাদেশ অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা চাইতে পারেনা। তাহলে সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি প্রমাণ হয়না। শিক্ষামন্ত্রী তথা সরকারকে অবিলম্বে অনলাইন শিক্ষা থেকে সরে আসতে হবে।
১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












