প্রতিক্রিয়া:
বেপর্দা থেকেই আসে অশ্লীলতা: ফ্যাশন হাউস ও পোশাকের স্বাধীনতা
, ২৪ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৭ আশির, ১৩৯১ শামসী সন , ০৬ মার্চ, ২০২৪ খ্রি:, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
এক্ষেত্রে দেখা যায় ফ্যাশন হাউসগুলো যে মডেলদের ব্যবহার করে তাদের পোশাকের মার্কেটিং করে সেই মডেলের বিরুদ্ধেও অনেকে কথা বলে, কিন্তু যে ফ্যাশন হাউস পোশাকটি তৈরী করলো তাদের বিষয়টি কেন যেন সবার দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। বাংলাদেশে আসলে নিয়ম-ই এটা। কেউ মদ খেলে, নেশা করলে তাকে ধরা হয়, কিন্তু সেই মদ-নেশা বাংলাদেশে ঢুকলো কিভাবে, কারা আনলো বা তৈরী করলো তাদেরকে ধরা হয় না।
বাংলাদেশে কিছু ফ্যাশন হাউস আছে, যাদের কাজ হচ্ছে দেশীয় মূল্যবোধ বিরোধী অশালীন পোশাক তৈরী করা। এরপর বিভিন্ন ৫ তারকা হোটেলে মডেল দিয়ে ফ্যাশন শো ক্যাটওয়াক করা কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান-নাটক-মুভিতে অভিনেত্রীদের সেসব পোশাক পরিয়ে জনগণের কাছে তা প্রচার করা, অতঃপর তাদের শোরুমে সেগুলো বিক্রি করা। দেশীয় মূল্যবোধ বজায় রাখতে এসব ফ্যাশন হাউসগুলোকে আইনের আওতায় আনা এবং নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা খুব জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন দিয়েই এসব ফ্যাশন হাউসগুলোকে ধরা যায়। যেমন- পেনাল কোড, ১৮৬০ এর ধারা ২৯২-২৯৩ এবং পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ অনুসারে ফ্যাশন হাউসগুলো যে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে, তা দ-নীয় অপরাধ।
আমি জানি, ‘ফ্যাশন হাউসগুলো পোশাক বানিয়ে অশ্লীল-অশালীনতা ছড়াচ্ছে’ এই কথা বললেই, কিছু মানুষ পোশাকের স্বাধীনতা চেয়ে বসবে। বলবে- বাংলাদেশের আইন পোশাকের স্বাধীনতা দিয়েছে।
এটা আসলে ভুল কথা। বাংলাদেশের আইন দেশীয় প্রচলিত মূল্যবোধ সমৃদ্ধ পোশাক পরতে অনুমতি দিলেও জনসম্মুখে দেশীয় মূল্যবোধ বিরোধী পোশাক এর অনুমতি দেয় না। এ ধরনের পোশাক নিয়ে গত ১৬ই আগষ্ট, ২০২২ তারিখ একটি মামলার পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালত পোশাকের স্বাধীনতার নাম দিয়ে যারা পশ্চিমা অপসংস্কৃতি আমদানী করছে, তাদের বিরুদ্ধে বলেছেন। আদালত প্রশ্ন তুলে বলেছেন, “সভ্য দেশে এমন পোশাক পরে রেলষ্টেশনে যাওয়া যায় কি-না? কৃষ্টি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করার অধিকার আছে। পোশাক সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে না?”
আসলে, বাক স্বাধীনতার অর্থ যেমন অন্যকে গালি দেয়া নয়, ঠিক তেমনি পোশাকের স্বাধীনতার অর্থ অন্যকে বিরক্ত করা নয়। পোশাকের স্বাধীনতার নামে এমন পোশাক পরা কখনই ঠিক না, যা পাবলিক নুইসেন্স বা গণ উৎপাত বা বিরক্তি তৈরী করে। কারণ পাবলিক নুইসেন্স এক ধরনের ক্রাইম। প্রাইভেট প্লেস আর পাবলিক প্লেসের পোশাক কখনো এক না। অনেকে পোশাকের স্বাধীনতার নামে পশ্চিমা অপসংস্কৃতি আমদানি করে পাবলিক প্লেসে মানুষকে কষ্ট দেয়, এটা অবশ্যই অন্যায়। সে তার বাড়িতে সেই স্বাধীনতা পালন করুক, পাবলিক প্লেসে সবার মূল্যবোধ মেনেই তাকে চলতে হবে।
আবার, অনেকে পাবলিক প্লেসে পোশাকের স্বাধীনতার আড়লে বিপরীত লিঙ্গকে সিডিউস (যৌন প্ররোচিত) করার চেষ্টা করে। পাবলিক প্লেসে কাউকে সেক্সুয়ালী সিডিউস করা মানসিক নির্যাতন শামিল। একজনকে মানসিক নির্যাতনের অধিকার অবশ্যই অন্যজনকে দেয়া হয়নি।
হ্যাঁ, সংস্কৃতি অবশ্যই পরিবর্তনশীল। কিন্তু আমরা যে সংস্কৃতি গ্রহণ করবো, সেটা অবশ্যই আমাদের দেশীয় মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আজকাল পোশাকের স্বাধীনতার নামে যে পশ্চিমা অপসংস্কৃতি আমদানি করা হচ্ছে, তা আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে। এটা এক ধরনের কালচারাল টেরোরিজম। বাংলাদেশের সভ্য সমাজে কখনই তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
-উম্মু হাবীবা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
একজন উত্তম নারীর গুণাবলী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত তামাযির খুনসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৩)
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দান-ছদকাহ বালা-মুসিবত দূর করে
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












