ইসলামী ঐতিহ্য:
ফেনীর প্রাচীন ঐতিহ্য বহনকারী চাঁদগাজি ভূঁইয়া জামে মসজিদ
, ১৮ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৩ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ০৬ পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) বিদেশের খবর
ইতিহাস:
মোঘল আমলে তৈরি এই মসজিদটি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়া নামক ইউনিয়নে অবস্থিত। বলা হয় ১২ ভূঁইয়াদের এক ভূঁইয়া চাদগাজী ভূঁইয়া ১৭০০ খ্রিস্টাব্দের কিছু পূর্বে নির্মাণ করেন। প্রায় ২৮ শতক জমির উপর এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। ইতিহাসের পাতা আমাদের জানায়, মোঘল আমলে চাদগাজি ভূঁইয়া ছিলেন প্রভাবশালী জমিদার। বার ভূইয়াদের কোন এক বংশের উত্তরসূরী ছিলেন চাঁদগাজী ভূঁইয়া। তিনি মেঘনা তীরবর্তী অঞ্চল থেকে লোক লস্কর নিয়ে এসে বসতি স্থাপন করেন।
চাঁদগাজী ভূঁইয়া সম্পর্কে অনেকে ধারণা করে- তিনি ছিলেন মজ্জুব হালের লোক। ত্রিপুরা রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তিনি আধিপত্য বিস্তার করেন। তার নাম অনুসারে ছাগলনাইয়া উপজেলা দপ্তরের অদূরে চাঁদগাজি বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
মসজিদের স্থাপত্যশৈলী:
কারুকার্য খচিত এই মসজিদটি মোঘল স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি করা হয়েছে যা দেখে মুগ্ধ হয় সবাই। মসজিদটির অপূর্ব কারুকার্যশৈলী দেখতে মানুষের ভীড় জমে।
মসজিদের মূল গেইট এমনভাবে তৈরি যেন মাথা নিচু করে প্রবেশ করতে হয়। গেইটের দক্ষিণ পাশে উপরে উঠার একটি সিড়ি রয়েছে। উপরে উঠে পাটাতনের উপর দাঁড়িয়ে আযান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গেইটের সাথে লাগোয়া মসজিদের তিন পাশে মুসল্লিদের বসার জন্য পাকা সিড়ি তৈরি করা হয়েছে, যা এখনও স্থানীয়রা ব্যবহার করছে।
মসজিদটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইট ও চুন সুরকি দিয়ে নির্মান করা হয়েছে। এর দেয়ালগুলো প্রায় ৪ ফুট পুরু। নানান কারুকার্য শোভিত এই মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪৮ ফুট, প্রস্থ ২৪ ফুট এবং উচ্চতা ৩৫ ফুট।
মসজিদের সামনে শ্বেতপাথরের একটি নামফলক রয়েছে। সেখানে আরবিতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম ও কালিমা শরীফ লেখা আছে। এবং মসজিদের প্রধান দরজার উপরে কালো কষ্টি পাথরে খোদাই করা ফারসি ভাষায় মসজিদের নির্মাণকাল, প্রতিষ্ঠা কাল ও ফারসি কবিতার দুই লাইন লেখা রয়েছে।
মসজিদটির উপরে রয়েছে ৩টি গম্বুজ। মাঝখানেরটি আকারে অন্যগুলোর চেয়ে বড়। গম্বুজের উপরে পাতা ও কলসের নয়াভিরাম নকশা সৌন্দর্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া একই রকম স্থাপত্যশৈলীর আরো ১২টি মিনার রয়েছে। এর ভিতরে প্রবেশ করলে উপরে সুন্দর টেরাকোটার নকশা করা রয়েছে। মসজিদের চারপাশের দেওয়ালে রয়েছে ফুল পাতার চিহ্ন।
মসজিদের ভিতর প্রবেশ করলে প্রাচীন ঐতিহ্যের সব চিহ্ন চোখে পড়ে। অতীতে মসজিদে প্রবেশের জন্য একটি সুদৃশ্য কারুকার্য খচিত দরজা ছিল বর্তমানে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনটি কাঠের দরজা দেওয়া হয়েছে। এই মসজিদে কয়েকশ মানুষ একসাথে নামায আদায় করতে পারে।
মসজিদের পাশেই ১৮ শতক জায়গাজুড়ে একটি বিস্তৃত দিঘী রয়েছে। চাঁদগাজি ভূঁইয়া এই দীঘি খনন করেছিলেন। যার স্বচ্ছ টলটলে পানি মসজিদের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।
ঐতিহাসিক এই মসজিদটি ১৯৮৭ সালে প্রতœতত্ত্ব বিভাগে গেজেট ভুক্ত হয়। ১৯৯৩ সালে মসজিদটিতে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে মেরামত করা হয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসরাইলি সন্ত্রাসী বাহিনীর সক্ষমতা মারাত্মক হ্রাস
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হামাসের বীরত্ব:
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
৪০ দিনের যুদ্ধের পর আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় পরিবর্তন
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আল-আকসা মসজিদে ইহুদীবাদী হামলা; মালয়েশিয়ার নিন্দা
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হরমুজ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি বাড়ছে
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইরানে বোমা হামলার ছক বানচাল, ৬ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মিয়ানমারের যুদ্ধজাহাজে রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো শুরু করছে মালয়েশিয়া
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নেপালে ফের ভূমিধস, নিহত ৩০
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইসরায়েল থেকে পালানোর প্রবণতা বাড়ছে; চলে যাচ্ছে কথিত বিশেষজ্ঞরাও
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাধারণ মানের অস্ত্র দিয়েই দখলদারদের কুপোকাত করেছেন যোদ্ধারা।
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ইসরাইলি সন্ত্রাসী সেনাদের পদত্যাগের হিড়িক
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ভারতে স্বাধীনতাকামীদের হামলায় হতাহত ৫ সেনা
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












