সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ
প্রসঙ্গ: পুরুষ ও মহিলার নামাযের পার্থক্য
, ১০ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০২ হাদি ‘আশির, ১৩৯০ শামসী সন , ০২ এপ্রিল, ২০২৩ খ্রি:, ১৯ চৈত্র, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
সুওয়াল:
মহিলাদের জামায়াতে তারাবীহ নামায পড়ার ক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুম কি?
জাওয়াব:
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আম ফতওয়া হলো মহিলাদের পাঁচ ওয়াক্ত, জুমুয়া, তারাবীহ ও ঈদের নামাযসহ সকল নামাযের জামায়াতের জন্য মসজিদ, ঈদগাহ ও যে কোন স্থানে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী। আর খাছ ফতওয়া হলো কুফরী।
এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “মহিলাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায, জুমুয়া ও ঈদের নামাযের জামায়াতে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ্ তাহরীমী, যদিও প্রাপ্তা বয়স্কা ও বৃদ্ধা হোক সময়ের পরিবর্তনের কারণে। তাই উলামায়ে মুতাআখ্খিরীনগণ ফতওয়া দেন যে, মহিলাদের জামায়াতে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ্ তাহরীমী। (গায়াতুল আওতার, দুররুল মুখতার, তাহ্তাবী, রদ্দুল মুহতার, শরহে তানবীর)
“ইমদাদুল আহ্কাম” কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, “মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে যাওয়া মাকরূহ্ তাহরীমী হওয়ার ব্যাপারে উম্মতের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
আর খাছ ফতওয়া হলো কুফরী। কারণ, এতে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিষেধাজ্ঞা মুবারক, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সমর্থন মুবারক তথা সত্যায়ন মুবারক এবং সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের ইজমাকে উপেক্ষা করা হয়। তথা উনাদের চরম বিরোধিতা করা হয়। যা সম্পূর্ণ কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “একমাত্র কাফিররাই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।” (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯)
এর ব্যাখ্যায় আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবীগণ উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ বা বিরোধিতা করে সে কাফির।”
আরো বর্ণিত রয়েছে, “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মুহব্বত মুবারক হচ্ছেন ঈমান। আর উনাদের বিরোধিতা বা বিদ্বেষ পোষণ করা কাট্টা কুফরী।” (কানযুল উম্মাল)
উপরন্তু মহিলাদের নিজ ঘরে নামায পড়া মসজিদে জামায়াতে নামায পড়া অপেক্ষা উত্তম এবং পঁচিশগুণ ফযীলত লাভের কারণ।
যেমন, পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মহিলাদের মসজিদে জামায়াতে নামায আদায় করার চেয়ে ঘরে একা নামায পড়ায় ২৫ গুণ বেশী ফযীলত।” (দায়লামী শরীফ ২য় খ- পৃষ্ঠা ৩৮৯)
“সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহিলাদের জন্য উত্তম মসজিদ হলো, তার ঘরের গোপন প্রকোষ্ঠ।” (সুনানুল কুবরা, আহমদ, মুয়াত্তা ইমাম মালিক)
সুতরাং মহিলাদের জন্য তারাবীহ, জুমুয়া, ঈদ, পাঁচ ওয়াক্ত ইত্যাদি সকল প্রকার নামায জামায়াতে আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়ার অর্থই হলো সম্মানিত শরীয়ত উনার অন্যতম দলীল ইজমা শরীফ উনাকে অস্বীকার করা যা মূলতঃ পবিত্র কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ উনাদেরকে অস্বীকার করারই নামান্তর। আর পবিত্র কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ উনাদেরকে অস্বীকার করা হচ্ছে সুস্পষ্ট কুফরী।
(এ সম্পর্কে বিস্তারিত ফতওয়া জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ১১, ১৪, ১৯, ২২, ২৯, ৩৭, ৪৪, ৪৭, ৪৮, ৫৫, ৬৫, ৭১, ৮২, ১০১ ও ১০২তম সংখ্যাগুলো পড়–ন।
{দলীলসমূহ: (১) সুনানুল কুবরা, (২) আহমদ, (৩) মুয়াত্তা ইমাম মালিক, (৪) সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী, (৫) জাওহারুন নক্বী, (৬) দায়লামী শরীফ, (৭) ফতহুল ক্বাদীর, (৮) আবু দাউদ, (৯) বুখারী শরীফ, (১০) মুসলিম শরীফ, (১১) মিশকাত শরীফ, (১২) ইমদাদুল আহকাম, (১৩) নুরুল আনোয়ার, (১৪) উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, (১৫) ফতহুল মুলহিম, (১৬) শরহে মুসলিম, (১৭) তাফহীমুল মুসলিম, (১৮) ফায়জুল বারী শরহে বুখারী, (১৯) বযলুল মাযহুদ শরহে আবু দাউদ শরীফ, (২০) মায়ারিফে মাদানিয়াহ, (২১) শরহে তিরমিযী, (২২) সুনানে নাসাই শরহে ইমামুস সুয়ূতী, (২৩) মিরকাত শরহে মিশকাত শরীফ, (২৪) দরসে তিরমিযী, (২৫) মায়ারিফে সুনান, (২৬) আশয়াতুল লুময়াত শরহে মিশকাত, (২৭) মুযাহিরে হক্ব, (২৮) লুময়াত শরহে মিশকাত, (২৯) ফতওয়ায়ে দেওবন্দ, (৩০) ফতওয়ায়ে রহিমীয়া ইত্যাদি} (মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ১৩৪তম সংখ্যা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাট্টা কাফির (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২০)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












