পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার বিশেষ উদ্বেগজনক। নীরব এই মহামারী নিরসনে সরকারের নিস্ক্রিয় ভূমিকা বরদাশতযোগ্য নয়।
সাঁতার শিখা সম্পর্কে হাদীছ শরীফেই উৎসাহ দেয়া হয়েছে। সাঁতার শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভূক্ত করা একান্ত দরকার।
, ২৭ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১৬ ছালিছ, ১৩৯১ শামসী সন , ১৫ আগস্ট, ২০২৩ খ্রি:, ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সম্পাদকীয়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফ জানিয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ হাজারের বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। ব্যাপকভাবে স্বীকৃত না হলেও, দেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া, যা এটিকে একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত করেছে।
এদিকে ২০২২ সালের ১২ মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ১১৩০টি মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে গণমাধ্যম উন্নয়ন ও যোগাযোগ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান সমষ্টি। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহযোগিতায় প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া মানুষের মধ্যে ৯৮ শতাংশের বয়সই ১৮ বছরের নিচে। তাদের মধ্যে ৮১ শতাংশের বয়স ৯ বছরেরও কম। ৬১ শতাংশ শিশুরই চার বছর পূর্ণ হয়নি। যে সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।
যে পানি মানুষের জীবন বাঁচায়, কখনো কখনো সেই পানিই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে দিনে ৪০ জন পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার খবর খুবই উদ্বেগজনক। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের (সিআইপিআরবি) গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রতিবছর পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই।
পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার কমাতে আগে জানতে হবে কোন কোন কারণে শিশুরা পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে; পরে এর প্রতিরোধব্যবস্থার বিষয়ে জানতে হবে। শিশুদের পানিতে ডোবার অন্যতম কারণ হলো মা-বাবা বা
পরিবারের সদস্যদের অসচেতনতা। গ্রামে দেখা যায়, বাবারা জীবিকার তাগিদে বেশি সময় বাইরে বাইরে থাকেন এবং মায়েরা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গৃহস্থালি কাজের ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বাচ্চাকে সঠিকভাবে দেখাশোনা করতে পারেন না। ফলে একটা বাচ্চা তার মায়ের দৃষ্টিগোচরে বাড়ির পাশে পুকুর বা জলাশয়ের কাছে গিয়ে কৌতূহলবশত পানিতে নেমে যায় এবং সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়।
এছাড়া পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো সঠিক তত্ত্বাবধান ও শিক্ষার অভাব। একটি শিশুকে সাঁতার শেখানোর সঠিক বয়স পাঁচ বছর। কিন্তু সাঁতার শেখানোর পর্যাপ্ত বয়সেও একটা শিশুকে সাঁতার শেখানো হচ্ছে না, ফলে একটি শিশুর সাঁতার শেখার পর্যাপ্ত বয়স থাকা সত্ত্বেও পানিতে ডুবে অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। সাঁতার শেখার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে একটি শিশুকে অবগত করতে হবে। একজন শ্রেণীশিক্ষকও এ ক্ষেত্রে অনেক ভূমিকা পালন করতে পারেন। তিনি সাঁতার শেখার শারীরিক প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সাঁতার শিখতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।
বাড়ির পাশে অপ্রয়োজনীয় ডোবা বা জলাশয় থাকাটাও শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তাই আমরা একটি শিশুর অকালমৃত্যু ঠেকাতে বেশ কিছু প্রতিরোধব্যবস্থা নিতে পারি। বাড়ির পাশের পুকুর বা জলাশয়ের চারদিকে বেড়া দিতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় পুকুর বা গর্ত-ডোবা থাকলে বন্ধ করে দিতে হবে। এ প্রতিরোধব্যবস্থার মাধ্যমে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে দাবী করছে। এজন্য ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি বেইসড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রটেকশন অ্যান্ড সুইম-সেইফ ফ্যাসিলিটিজ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। গত বছর ২২ ফেব্রুয়ারি প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এর মেয়াদ তিন বছর। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। আমরা বলতে চাই, প্রকল্প নেয়াই যথেষ্ট নয়; সেটার যথাযথ বাস্তবায়ন করা জরুরি।
শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১০টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে। এসব ব্যবস্থা নেয়া হলে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে ডুবে মৃত্যু কমাতে হলে শিশুদের সাঁতার শেখাতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ ঘোষিত 'বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ২০২৩' পালন উপলক্ষে ২৫শে জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘শিক্ষাক্রমে সাঁতারকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে’ এ মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য সাঁতারকে মুমিনের অন্যতম হালাল আনন্দ বলে হাদীছ শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এ ইসলামী মূল্যবোধের সঞ্চার মুসলমানের সন্তান-সন্ততির মাঝে করা হচ্ছে না। নাউযুবিল্লাহ!
‘নিয়মিত সাঁতারে হৃদ্পেশির কার্যক্ষমতা বাড়ে, সেই সঙ্গে বাড়ে ফুসফুসের অক্সিজেন ধারণক্ষমতা। পেশিগুলোও শক্তিশালী হয়ে ওঠে, হাড়ের জোড়াগুলো সবল হয়। শিশুর বাড়ন্ত শরীরের জন্য সাঁতার তাই অত্যন্ত ভালো ব্যায়াম।’ সাঁতার শরীরের মেটাবলিজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। মুটিয়ে যাওয়া শিশুর বাড়তি মেদ ঝরাতে সাঁতার অত্যন্ত কার্যকর। যেসব শিশু অ্যাজমায় ভুগছে, চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের সাঁতারে অভ্যস্ত করলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। শরীরের গোশতপেশিগুলো গঠনে সুন্দর ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে সাঁতারে। সাঁতারে ঊর্ধ্বাঙ্গ ও নিম্নাঙ্গের সব ধরনের অঙ্গের সমন্বয় একসঙ্গে ঘটে বলে অল্প সময়ে পুরো শরীরেরই ব্যায়াম হয়ে যায়।
সঙ্গতকারণেই আমরা মনে করি, সাঁতারকে আক্ষরিকভাবে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। এবং আলেম সমাজকেও সাঁতার শেখার বিষয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা দিতে হবে। তাতে পানিতে ডোবা প্রতিরোধের পাশাপাশি একটা সুস্থ প্রজন্মও তৈরী হবে ইনশাআল্লাহ।
কাজেই সাঁতার শিক্ষায় জনসচেতনা ও আগ্রহী তৈরীতে সরকারকে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
স্কুল শিক্ষায় নতুন ৪ বই অনুমোদন হারাম খেলাধুলা, মেয়েদের খেলাধূলায় অগ্রনী হওয়া, নাচ-গান ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে পাঠ্যপুস্তকে।
২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জল ভূমিকা যেমন জ্বলজ্বল, উন্নয়নে ঝলমল তেমনি সংকটকালেও থাকুক সমুজ্জল
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মহিমান্বিত, মহাপবিত্র ১২ তারিখ উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত মহাসম্মানিত ১২ই জুমাদাল ঊলা শরীফ আজ।
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আজ সুমহান মহাপবিত্র ১১ই জুমাদাল ঊলা শরীফ। যা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি ইয়াওমিল ক্বিয়ামাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহাব্বুন নাসি ইলান নাবিয়্যি, সাইয়্যিদাহ, ত্বহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, যাকিয়্যাহ, রদ্বিয়্যাহ, মারদ্বিয়্যাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সুমহান পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাবুল ইলম, কুতুবুল আলম, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চিনিকলগুলো থেকে বাণিজ্যিকভাবে ভিনেগার, জৈব দ্রাবক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার সহ রাসায়নিক সামগ্রী সহ-উৎপাদক হিসেবে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া সম্ভব।
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার শান-মান মুবারক অনুভব করা, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক জানা, দয়া-ইহসান মুবারক উপলব্ধি করা, ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ ও নেক ছোহবত মুবারক হাছিল করা সর্বোপরি উনার নেক ছায়াতলে উপনীত হওয়া বর্তমান যামানায় সব নারীদের জন্য ফরয।
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তিউনিসিয়া এবং পেরু, পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনলেও বাংলাদেশ কেনো সক্ষম হচ্ছে না।
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূলিল্লাহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূলিল্লাহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাবেক সরকার নারিকেল দ্বীপে পর্যটক বন্ধ করে- দেশে নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার, জীবন জীবিকার অধিকার চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছে।
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: পারিবারিক বন্ধন ধ্বংস, পর্নোগ্রাফির রাজত্ব এবং ইসলামী মূল্যবোধের গুরুত্ব।
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












