ইতিহাস
দ্বীন ইসলাম প্রাথমিক যুগেই চীনে দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের আগমন
, ২৪ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৮ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ২২ মাঘ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ইতিহাস
ইতিহাস মতে, হযরত আবু ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত কায়েম ইবনে হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ওরযাহ ইবনে আসাসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আবু কায়েস ইবনুল হারেস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা অগ্রগামী দলে ছিলেন।
আর উক্ত সুমহান দলের নেতৃত্ব মুবারক প্রদানকারী হযরত আবু ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি চীনের ক্যান্টন বন্দরে অবস্থান মুবারক করেন।
সে স্থানে উনার নির্মিত ‘হুয়াশেং মসজিদ’ আজও বিদ্যমান। হুয়াশেং মসজিদের পাশেই হযরত আবু ওয়াক্কাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র মাজার শরীফ। অন্য দুইজন সাহাবী উনাদের পবিত্র মাজার শরীফ উপকূলীয় ফু-কীন প্রদেশের চুয়ান-চু বন্দরের নিকটবর্তী লিং নামক পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
তবে চীনে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রচারের আরও ব্যাপক সূচনা ঘটে উমাইয়া শাসকদের সময়ে। এ সময় চীনাদের সঙ্গে আরবীয়দের কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে যখন তৎকালীন চীনা সম্রাট সোয়ানসোংকে সিংহাসনচ্যুত করা হয় তখন তার পুত্র তৎকালীন আব্বাসীয় শাসক মানসুরের কাছে সাহায্য চায়। মানসুর তার সাহায্যে ৪ হাজার সৈন্য প্রেরণ করে এবং তাদের সাহায্যে সম্রাট সোয়ানসোং আবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
৪ হাজার মুসলমান সৈন্যরা পরবর্তীতে চীনেই স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে এবং দ্বীন ইসলাম প্রচার শুরু করে। এ সময়কালের ৬০০ বছর পর পুনরায় আরও একটি কাফেলা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রচারের জন্য চীনে গমন করে। তারা সবাই ছিলো আরব, ইরান ও তুরস্কের নাগরিক। হিজরি সপ্তম শতকে কুখ্যাত মঙ্গোলীয় আক্রমণের শিকার হয়ে তারা চীনে অবস্থান করে। এদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় উত্তর ও পশ্চিম চীনে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রসারতা লাভ করে। ১৩ শতকে চীনের সারা ইউনান প্রদেশের মানুষ মুসলমান হয়ে যায়।
১৪ শতকে একজন ঐতিহাসিক লিখেছে, ‘তালিফোর সব অধিবাসী মুসলমান।’ ইবনে বতুতা বলেছে, ‘প্রায় সব শহরেই মুসলিম মহল্লা বিদ্যমান।’ ১৫ শতকের মুসলিম বণিক আলী আকবর বলেছে, ‘পিকিং শহরে প্রায় ৩০ হাজার মুসলমান বাস করে। ১৭ শতকের শুরুতে চীনা ইহুদিদের একটি বিরাট দল মুসলমান হয়ে যায়। ১৮ শতকে কিন লং জিঙ্গারিয়ার বিদ্রোহ দমন করার পর সেখানে যে ১০ হাজার পরিবারকে পুনর্বাসন করে, তারা সবাই পার্শ্ববর্তী মুসলিম জনবসতির মাধ্যমে মুসলমান হয়ে যান। শানতোং অঞ্চলে একক দুর্ভিক্ষের সময় মুসলমানদের কাছে আশ্রিত প্রায় ১০ হাজার মানুষ মুসলমান হয়। এছাড়া, কুয়ান তোং অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের প্রায় ১৫ হাজার চীনা সম্মানিত ইসলামী ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে।
চীনারা মুসলমান হয়ে নিজেদের ভাবধারাকে সত্য, সুন্দরের পথে চালিত করতেই ছিলেন। কিন্তু চীনের কাফের ও বিধর্মীরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সবসময়ই ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করে যাচ্ছিলো। বিশেষ করে কমুনিস্ট শাসকরা এসে মুসলমানদেরকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করে আরও ব্যপাকভাবে। সেই নির্যাতনের ধারাবাহিকতা এখনও চলছে। এখনও মুসলমানদেরকে রোজার মাসে রোজা রাখতে বাধা দেয়া হয়, মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া হয়। এমনকি বহু মসজিদ মাদ্রাসা ধ্বংস করে দিয়েছে কমুনীস্ট চীনা সরকার। নাউযুবিল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাহাদাত মুবারক
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বীর বিক্রম আক্রমণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসারীদের শাহাদাত মুবারক
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
তাওয়াক্কুল উনার মাক্বাম হাছিলের পথে ফানা বা বিলীন হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
কারবালায় ঐতিহাসিক পবিত্র ১০ই মুহররমুল হারাম শরীফে শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নৌবাহিনী গঠন এবং বিজিত এলাকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত নিযামুদ্দিন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে বসন্ত পঞ্চমী উৎসবের বানোয়াট ইতিহাসের ব্যবচ্ছেদ
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অশ্লীল চিত্র দেখা ও তৈরিতে যে সমস্ত বিধর্মী রাষ্ট্র শীর্ষে...
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিধর্মীদের কুকীর্তিগুলো লিখিত রূপ দেয়নি কোনো লেখক, ফলে তাদের অপকীর্তিগুলো মুসলমানদের জানার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিধর্মী-কাফির, মুশরিকরা কতবেশি বিদ্বেষ পোষণ করে তার একটি উদাহরণ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বিধর্মীপ্রীতিতে মত্ত শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












