অন্তর্বর্তী সরকারকে সচেতন নাগরিক সমাজ:
দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে নয়, কল্যাণে কাজ করুন
, ২৩ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৯ খ্বমিস , ১৩৯২ শামসী সন , ২৭ অক্টোবর , ২০২৪ খ্রি:, ১১ কার্তিক, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) দেশের খবর
অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে নয়, বরং কল্যাণে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। গতকাল ইয়াওমুস সাবত (শনিবার) ২৬ অক্টোবর রাজধানী ঢাকার মালিবাগ মোড় ফালইয়াফরাহু চত্বরে এক সমাবেশে তারা সরকারের প্রতি এ আহবান জানান।
সমাবেশে সচেতন নাগরিক সমাজের বক্তাগণ বলেন, স¤প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ ও কার্যক্রম করছে যা বাস্তবিক অর্থে দেশ ও জনগণের পক্ষে নয়, বরং বিপক্ষে। যেমন- স¤প্রতি সরকার বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরায় পর্যটক যাওয়া সীমাবদ্ধ করেছে। বিশেষ করে শীতকালে যে ৪ মাস দ্বীপটিতে পর্যটক যাওয়া আসা বেশি হয়, তখনই পর্যটকদের উপর নানান বিধি নিষেধ আরোপ করছে। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এটি পরিবেশ রক্ষার নাম দিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে ভারতমুখী করার একটি গভীর বিরাট ষড়যন্ত্র। কারণ বাংলাদেশের পর্যটন স্পটগুলোতে যখন বাংলাদেশীদের যাতায়াতে বাধা দেয়া হবে, তখন স্বাভাবিকভাবে পর্যটকরা ভারতমুখী হবে। ভারতের পর্যটন স্পটগুলোতে তখন বাংলাদেশী যাতায়াত শুরু করবে। এটা কখনই মেনে নেয়া যায় না। তাছাড়া দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরাতে প্রায় ১০ হাজার লোকের বসবাস। শীতকালে ৪ মাসের পর্যটকদের মাধ্যমে তাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়। কিন্তু সরকার পরিবশে রক্ষার নামে ভারতীয় স্বার্থরক্ষা করতে সেই ১০ হাজার দ্বীপবাসীর রুটি-রুজিতে আঘাত করেছে। জনগণ অবগত আছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারে একই উপায়ে ভারতীয় স্বার্থরক্ষা করতে বাংলাদেশী জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করতো, এ কারণে জনগণ আওয়ামী সরকারকে উৎখাত করেছে। বর্তমান সরকারকেও দেখা যাচ্ছে একই পথে হাটতে। জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করলে জনগণ কাউকে কখনো মেনে নেয়নি, মেনে নিবেও না।
সচেতন নাগরিক সমাজের বক্তাগণ আরো বলেন, একজন বাংলাদেশী নাগরিক সারা দেশে যেভাবে যখন খুশি, তখন ভ্রমণ করতে পারে। ঠিক তেমনি নারিকেল জিঞ্জিরাতেও ভ্রমণ করতে পারবে, এমনই আইন হওয়া উচিত। দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরা যদি বাংলাদেশের অংশই হয়, তবে তার জন্য আলাদা নিয়ম হবে কেন? একই নিয়ম হতে হবে।
সচেতন নাগরিক সমাজের বক্তাগণ বলেন, আমরা জানি বহু আগে থেকেই দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরার দিকে সম্রাজ্যবাদী বিদেশী অপশক্তির কু-দৃষ্টি রয়েছে। বঙ্গপোসাগরে চীনা প্রভাব খাটো করতে তারা দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরায় সেনা ঘাটি বানাতে চায়। কিন্তু আমরা বাংলাদেশীরা যখন সেই দ্বীপে নিয়মিত যাতায়াত করবো, তখন সেখানে জনবসতি বাড়বে, পর্যটন শিল্প বাড়বে, তখন সম্রাজ্যবাদী অপশক্তির সেই ইচ্ছায় বাধা পড়বে। তাই দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরায় নিয়মিত বাংলাদেশীদের যাতায়াত এবং সেখানে মানুষের বসবাস বৃদ্ধি করা একান্ত জরুরী। কিন্তু সেটা না করে দ্বীপটিতে যদি বাংলাদেশী শূণ্য করার অপপ্রয়াস করা হয়, তবে সেটা সম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থই রক্ষা করবে। সুতরাং সরকারকে দ্বীপ নারিকেল জিঞ্জিরায় পর্যটক সংখ্যা সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে। কোন মতেই পর্যটক সীমাবদ্ধ করা যাবে না, প্রয়োজনে দ্বীপটিতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বা নৌবাহিনীর ক্যান্টনমেন্ট করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
সচেতন নাগরিক সমাজের বক্তাগণ বলেন, বর্তমান পার্বত্য এলাকাগুলোতে উপজাতি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নিয়েও সমস্যা চরমে পৌঁছেছে, যা দেশ ও জনগণের স্বার্থে আঘাত হানছে। বিশেষ করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা গত ২৫ আগস্ট পার্বত্য উপজাতি গোষ্ঠীগুলোকে ‘আদিবাসী’ বলে সম্বোধন করার পর এ পরিস্থিতি তৈরী হয়। তার এ বক্তব্যের পর উপজাতি গোষ্ঠীগুলো আরো হিংগ্র হয়ে উঠে এবং কয়েকজন বাংলাদেশীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে শহীদ করে। এছাড়া উপজাতিগোষ্ঠীগুলো ৩ পার্বত্য জেলাকে বাংলাদেশ থেকে পৃথক করে স্বায়ত্বশাসনও দাবী করতে শুরু করেছে, যা দেশের জন্য খুবই ভয়ঙ্কর বিষয়।
সচেতন নাগরিক সমাজের বক্তাগণ বলেন, সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে দেশ ও জাতির স্বার্থবিরোধী এমন কথা কখনই স্বাভাবিক না। কারণ পার্বত্য উপজাতিদের আদিবাসী হিসেবে দাবী করলে, জাতিসংঘের আদিবাসী আইনের তারা ৩ পার্বত্য জেলাকে পৃথক করে ভিন্ন রাষ্ট্র তৈরী করতে পারবে। ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে পূর্ব তীমুর কিংবা সুদান থেকে দক্ষিণ সুদান তৈরী হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাহলে তাদের মত একই পথে আমরা কেন হাটবো? কেন বাংলাদেশ থেকে ৩ পার্বত্য জেলাকে বিচ্ছিন্ন করে ভিন্ন রাষ্ট্র তৈরীর পথ উন্মুক্ত করে দিবো? প্রশ্ন করেন সচেতন নাগরিক সমাজের বক্তারা।
সচেতন নাগরিক সমাজের বক্তাগণ বলেন, পাহাড়ে এখনও উপজাতিদের কথিত ৩ রাজার শাসন চলে। বাংলাদেশীদের তাদের খাজনা দিয়ে থাকতে হয়। এক দেশে কেন দুই আইন চলবে? অবিলম্বে পাহাড়ে কথিত উপজাতি রাজার শাসন অবসান ঘটাতে হবে। সারা বাংলাদেশে একই আইন চলবে, ৩ পার্বত্য জেলায় আলাদা আইন চলতে পারবে না।
সচেতন নাগরিক সমাজের বক্তাগণ বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হলে সবচেয়ে বেশি এখন দরকার দ্রব্যমূল্য ও চিকিৎসা সেবামূল্য হ্রাস করা। দুটোই এখন চরমে। খাদ্য দ্রব্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ যেমন খাবার খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে, তেমনি চিকিৎসা সেবা মূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ খাদ্য ও চিকিৎসা দুটোই মানুষের মৌলিক অধিকার। অন্তর্বর্তী সরকার যদি জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করে, তবে তাকে অবশ্যই খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা মূল্য হ্রাস করে জনগণের ব্যয় সীমার মধ্যে আনতে হবে। এ ব্যাপারে জনগণ কোন প্রকার আপোশ করবে না।
সচেতন নাগরিক সমাজের বক্তাগণ আরো বলেন, বর্তমানে বাজারে আগুন লেগেছে। চাল, ডাল, আটা, তেল, শাক-সবজি, ফল-মূল, মাছ-গোশত, ডিম সব কিছুই এখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। যার ফলে নিম্ন আয়ের এবং মধ্যবিত্ত জনগণসহ দেশের অনেক মানুষ এখন পেটে ক্ষুধা নিয়ে জীবনযাপন করছে। তা ই রাষ্ট্র সংস্কারের পূর্বে চাই মানুষের ক্ষুধা নিবারণ করা।
বক্তাগণ বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিকল্পনা বা কার্যক্রম গ্রহণ করা যেমন নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপে পর্যটকের প্রবেশ কমানো বা পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতিদেরকে ‘আদিবাসি’ বলা এবং তাদেরকে আলাদা সুবিধা দেয়া- এগুরো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজ নয়, এটা নির্বাচিত সরকারের কাজ। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে আম মানুষের জীবনযত্রা সহজ করা এবং দ্রæততম সময়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। যার দায়িত্ব যা, তাকে সেটাই করা উচিত। দায়িত্বের বাইরে কাজ করা কখনই আইন সম্মত নয়। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বছরের পর বছর একই চিত্র, সড়ক নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে শহরবাসী
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
স্বেচ্ছাশ্রমে জমির আইল হলো রাস্তা, স্বস্তিতে দুই গ্রামের মানুষ
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জুলাই-আগস্টে দেশে রয়েছে বন্যার আশঙ্কা
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ডার্ক ওয়েব-ক্রিপ্টোতে অপরাধ ঠেকাতে ‘সাইবার ফরেনসিক’
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ডিএমপির পাঁচ এডিসি ও এক এসিকে বদলি
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হাইকোর্টে একদিনেই নিষ্পত্তি ২,৪১১ পুরোনো মামলা
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হাইকোর্টে একদিনেই নিষ্পত্তি ২,৪১১ পুরোনো মামলা
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘চীন থেকে বাংলাদেশের যুদ্ধবিমান কেনার বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত’
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন -ফখরুল
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘সরকার এলপিজির দাম কমিয়েছে, ধাপে ধাপে জ্বালানির দামও কমবে’
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘জাল যার, পানি তার’ নীতিতে চলবে হাওর ও নদী ব্যবস্থাপনা -মৎস্য প্রতিমন্ত্রী
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জুলাই-সংশ্লিষ্ট মামলায় বাহিনীর এজাহারভুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে রিট
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












