টিকিট কাটা জটিল বানিয়ে কী পাবে রেলওয়ে
, ২৫শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ১৯ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন , ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ০৩ ফাল্গুন, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) দেশের খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কালোবাজারি বন্ধে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। এতে কালোবাজারি বন্ধ হবে কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে এর মাধ্যমে অনেক যাত্রীই ট্রেনে চড়ার অধিকার হারাবেন। যাত্রীদের হয়রানি ও কষ্ট বাড়বে।
নতুন নিয়মে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েই কাটতে হবে ট্রেনের টিকিট।
কিন্তু এতে করে যে যাত্রীদের জন্য কালোবাজারি বন্ধের উদ্যোগ, সেই যাত্রীদের হয়রানিই বেড়ে গেল। এমনকি নতুন নিয়মের কারণে দেশের বহু নাগরিকের পক্ষে এই সেবা নেওয়াও সম্ভব হবে না। অর্থাৎ তারা ট্রেন ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত হবে। আর যারা নেবেন, তাদের কাউকে কাউকে পকেটের বাড়তি টাকাও খরচ করতে হতে পারে।
রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, যাত্রী সাধারণের সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ শীর্ষক স্লোগানকে সামনে রেখে এবং বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন।
এই ব্যবস্থায় একটি এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে ৪টি টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। একটি নম্বর দিয়ে প্রতিদিন একবারই টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
রেলমন্ত্রী সেবা বাড়ানোর কথা বললেও যাত্রীদের জন্য আসলে টিকিট কেনার প্রক্রিয়াটি জটিলই করে দেওয়া হচ্ছে। সংবিধানের সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি যদি আমলে নেওয়া হয়, তাহলে দেশের যে কোনো নাগরিকের যে কোনো সময়ে ট্রেনে চড়ার অধিকার রয়েছে। আর এই অধিকার বাস্তবায়ন করতে হলে ১২ বছরের বেশি বয়সী দেশের জনসংখ্যার সবাইকে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটতে হলে অন্তত একটি ই-মেইল আইডি লাগবে। কারণ, ইমেইল আইডি দিয়ে সাইন আপ ছাড়া নিবন্ধন কিংবা টিকিট কাটা যাবে না। আর যারা কাউন্টার থেকে টিকিট কাটবেন, তাদেরও আগে থেকে নিবন্ধন থাকতে হবে। এই বিবেচনায় দেশের একটা বড় জনগোষ্ঠী টিকিট কাটার সুযোগই পাবেন না।
ধরে নেওয়া যাক, একজন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন আছে। তার অনলাইনে সাইন ইন কিংবা সাইন আপ করার মতো যোগ্যতা থাকতে হবে। এরপর নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনও কী সবার পক্ষে করা সম্ভব? এখন মানুষ পাসপোর্ট, ভিসা কিংবা অন্যান্য কাজে দৌড়াচ্ছে পাড়ার দোকানে। এই সেবার জন্য নেওয়া হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা।
আর মোবাইল ফোনে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিজের টাকা খরচ করে এসএমএস করতে হবে। এ ব্যবস্থায় শুধু কাউন্টার থেকে টিকিট কাটা যাবে। অনলাইন কিংবা অ্যাপের মাধ্যমে কাটা যাবে না। বর্তমানে রেলের অর্ধেক টিকিট অনলাইন ও অ্যাপে বিক্রি করা হয়। বাকি অর্ধেক কাউন্টার থেকে পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে সব টিকিট অনলাইন ও অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রির একটা চেষ্টা আছে রেলে। গত দুই বছর ধরে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো তা কার্যকর করা হয়নি।
বিষয়টি যেহেতু উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে হচ্ছে, কারও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে কিংবা হারিয়ে গেলে ওই ব্যক্তির পক্ষে টিকিট কেটে ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে না। কেউ অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে টিকিট কাটলে ওই ব্যক্তির নাম টিকিটে লেখা থাকবে। এটাকে বেআইনি হিসেবে গণ্য করবে রেলওয়ে। এ ক্ষেত্রে তাঁকে জরিমানা করতে পারবে রেলওয়ে।
অর্থাৎ ট্রেনে চড়তে হলে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম নিবন্ধন সনদ, ইমেইল আইডি, মোবাইল ফোন কিংবা পাসপোর্টের কোনো একটা থাকতে হবে। এসব থাকার সনদের একটা কপি পকেটে নিয়ে ঘুরতে হবে। নতুবা যাত্রীর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র থাকলেও চলবে। এসব সনদ বা কার্ডের সঙ্গে টিকিটে থাকা নামের মিল না পেলে অবৈধ বিবেচনা করা হবে।
আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে অনলাইনে, বিভিন্ন অ্যাপে এবং কাউন্টারে টিকিট কাটা যায়। সেখানে কাউকে ব্যক্তিগত কোনো তথ্য দিতে হয় না। বিশেষ করে কাউন্টারে কিংবা ভেন্ডিং মেশিন থেকে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে শুধু দাম পরিশোধ করলেই চলে। ইউরোপের দেশগুলোতে শিক্ষিত নাগরিকের হার বেশি। প্রযুক্তিও উন্নত। কিন্তু তারা টিকিট কাটার ক্ষেত্রে এত জটিলতায় না গিয়ে সহজ করছে। আর বাংলাদেশ জটিল করছে। এর পেছনে কোনো গোষ্ঠীর ব্যবসা আছে কি না এই সন্দেহও করছেন ওই কর্মকর্তা।
পুলিশ আরএনবির কাজ কী?
রেলের যাত্রী ও মালামালের নিরাপত্তা এবং টিকিট কালোবাজারিসহ সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশের একটা অংশ এই দায়িত্বপালন করে। তবে তাদের বেতন-ভাতা হয় রেলওয়ে থেকে। এটাকে রেল দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি ব্যয় হিসেবে দেখে আসছে।
রেলওয়েকে পুলিশকে ছয়টি জেলায় ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, সৈয়দপুর, পাকশী ও খুলনা। দেশে রেলওয়ে থানা ২৪টি এবং রেলওয়ে ফাঁড়ি ৩৩টি। সব মিলিয়ে রেলওয়ে পুলিশের জনবল ২ হাজার ৪৩২ জন।
এর বাইরে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) রয়েছে। এর সদস্যদের নিয়োগ, বেতন-ভাতা ও অবসর সুবিধাসহ সবই বহন করে রেলওয়ে। আরএনবির সদস্য সংখ্যা পাঁচ হাজারের মতো।
দেশের ৬৪ প্রশাসনিক জেলার মধ্যে ৪৩টিতে রেলওয়ের নেটওয়ার্ক আছে। সারা দেশে রেলপথের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার। রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে প্রায় ২৫ হাজার। পুলিশ ও আরএনবি মিলে আরও নিরাপত্তায় নিয়োজিত আরও প্রায় সাড়ে সাত হাজার সদস্য। এর বাইরে ঈদ বা পার্বণে রাষ্ট্রের অন্যান্য বাহিনীও যোগ হয়। এত কিছুর পরও কালোবাজারি বন্ধ করতে না পারা কার ব্যর্থতা? এটি কী রেলওয়ে কোনো দিন ভেবে দেখেছে? কালোবাজারি বন্ধে যাত্রীদের টিকিট কাটার পদ্ধতি দিন দিন জটিল ও কঠিন করার মাধ্যমে কী অর্জন করতে চায়?
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যমুনা কেড়ে নিয়েছে ঘর-জমি, স্থায়ী বাঁধের দাবি
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
- পোশাক ও ব্যাংক খাতে অস্থিরতা, রফতানি আয় ও কর্মসংস্থান কমছে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পোশাক খাতের মতো সুবিধা পেতে যাচ্ছে চামড়া শিল্প -বাণিজ্যমন্ত্রী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি ও এলাকাবাসী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বাধ্যতামূলক অবসরের শঙ্কায় ৩২ ওএসডি
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিএনপি মিডিয়া সেলের নামে ভুয়া কমিটি, সতর্ক থাকার আহ্বান
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কবর খুঁড়তে গিয়ে প্রাণ হারালেন ২ জন
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভিন্ন শ্রেণিতে যুক্ত হবে ৪ নতুন বিষয় -শিক্ষামন্ত্রী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আদ-দ্বীনের ঘটনায় জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না সরকার -স্বাস্থ্যমন্ত্রী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রতি বছর ৩৫ লাখ টন খাদ্য যায় ময়লার ঝুড়িতে -খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৭২-এর সংবিধান নিয়ে ‘অতিকথন’ রয়েছে -আসিফ নজরুল
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে, টিআইবির রিপোর্ট পেপার কাটিং -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












