সম্পাদকীয় (২)
খাবারে ঢুকছে প্লাস্টিক কণা, বিপর্যয়ের মুখে জনস্বাস্থ্য। স্থায়ী বিকলাঙ্গতা ও স্বাস্থ্যহানির শঙ্কায় দেশের জনগণ। বিষয়টি ভয়াবহ- সত্বর গুরুত্বের সাথে নজর দিন।
, ১৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২২ ছালিছ, ১৩৯২ শামসী সন , ২০ আগষ্ট, ২০২৪ খ্রি:, ০৫ ভাদ্র , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
দেশে প্রচুর পরিমাণে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব প্লাস্টিকের কণা খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানুষের পেটে গিয়ে ক্যানসারের মতো বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সপ্তাহে একজন মানুষ নানাভাবে ৫ গ্রামের বেশি প্লাস্টিক খেতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য।
উল্লেখ্য, গবেষণা মতে, প্লাষ্টিক এর অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে প্রতিদিন দেশের মানুষের পেটে যাচ্ছে ৬৮৬৫০০ প্লাস্টিক ফাইবার। ১৫ থেকে ২০ মিনিটের একটি মিল খাওয়ার সময়ে, কম করে ১০০টি ছোট ছোট প্লাস্টিক ‘পার্টিকল’ পেটে যায়। ঘরের চারপাশের ‘সফট ফার্নিশিং’ ও ‘সিন্থেটিক ফাইবার’-এ যে পলিমার থাকে, তা থেকেই সৃষ্ট এই ‘পার্টিকল’।
১৯৯০ সালে যেখানে দিনে ৬ হাজার ৫০০ টন প্লাস্টিক ব্যবহৃত হতো, সেখানে মাত্র নয় বছর পর ২০১৪ সালে তা দাঁড়ায় ২৭ হাজার টনে। তিনি বলেন, এ হার চলতে থাকলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার দাঁড়াবে প্রতিদিন ৫০ হাজার টন। এই চিত্র খুবই বিপজ্জনক। পলিথিনের বিকল্প হিসাবে টিস্যু ব্যাগ নামে যে ব্যাগের ব্যবহার শুরু হয় সেটার উপাদানও মূলত প্লাস্টিক। পলিথিন ব্যাগের পাশাপাশি বাংলাদেশে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৩০ লাখেরও বেশি টিস্যু-ব্যাগ ব্যবহার হয়। রাস্তায় বেরিয়ে মিনারেল পানির বোতল কেনার অভ্যাস অনেকেরই। মনে করা হয় ওই পানি সবচেয়ে নিরাপদ।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেখানেও লুকিয়ে আছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বাজারে বিক্রি করা ৯০ শতাংশ পানির বোতলে প্লাস্টিকের কণা রয়েছে। বাংলাদেশের নামীদামী বোতলজাত পানিতে ব্যাপকভাবে প্লাস্টিকের কণার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে পানির মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব রয়েছে। বোতলজাত পানিতে পাওয়া ওই সকল প্লাস্টিকের মধ্যে রয়েছে নাইলন, পলিপ্রপিলেন ও পলিথাইলিন টেরেপথালেটের মতো রাসায়নিক উপাদান।
উল্লেখ্য, প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার শিশুরা। বাজারের চিপস, ওয়েফার, চকোলেট ও জুসে কার্বোহাইড্রেড, মেলামিন অতিমাত্রায় থাকায় শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হলেও এসব খাবারের প্রতি তাদের আকৃষ্ট করে তোলা হচ্ছে। অথচ খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিক মিশিয়ে সেগুলোকে করা হচ্ছে আরো বিষাক্ত। কৌশলগতভাবে বিভিন্ন চিপস কোম্পানিগুলো তাদের বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য এবং শিশুদের আকৃষ্ট করার জন্য চিপসের মধ্যে গিফট হিসেবে দেয়া হচ্ছে প্লাস্টিকের নানা রকম খেলনা। ওইসব খেলনার কারণে অভিভাবকরা এবং শিশুরা এসব চিপস কিনে খাচ্ছে। ফলে চিপসের সাথে প্লাস্টিকের কণা শিশুদের শরীরে ঢুকে যাচ্ছে।
প্লাস্টিক কণা তথা প্লাস্টিক দূষণ মানবদেহের জন্য অতি ভয়ানক একটি বিষয়। গবেষকদের মতে, বিসফেনল-এ নামের টক্সিক এ ক্ষেত্রে বড় ঘাতক। গরম খাবার প্লাস্টিকের সংস্পর্শে এলে ওই রাসায়নিক প্লাস্টিক কণা খাবারের সঙ্গে মেশে। এটি নিয়মিত শরীরে ঢুকলে মহিলাদের ইস্ট্রোজেন হরমোনের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণু কমে যায়। হার্ট, কিডনি, লিভার, ফুসফুস এবং ত্বকও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকী, ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। অন্যদিকে এই প্লাষ্টিকের কণা শিশুদের শরীরে ঢোকার ফলে শিশুদের স্খুলতা বৃদ্ধি পায় এবং শিশুরা উচ্চরক্তচাপে ভোগে। স্থুলতা ও উচ্চরক্তচাপসহ কিডনি, লিভার, ফুসফুসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। সেইসাথে ডায়রিয়া, পেটের পীড়া, হৃদরোগ এমনকি কিডনী বিকলও হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ এই প্লাস্টিক দুষণের কারণে তারা মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ছে।
সরকারের জন্য তাই ফরয- অবিলম্বে এই প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা। দেশের ভবিষ্যৎ- শিশু প্রজন্মসহ দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্য রক্ষা করা।
মূলত, এসব দায়িত্ব ও সচেতনতা তখনই অর্জিত হবে, যখন যথাযথ সম্মানিত ইসলামী মূল্যবোধ জাগরূক থাকবে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন খাছ রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আর জুলাই সনদের ৮ নং অনুচ্ছেদ খএইঞছ এর পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তারপরেও ঈমান বিক্রী করে, ইসলামের ধ্বংস ডেকে তথাকথিত ইসলামী দল কী করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারে? জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বি.এন.পির নির্বাচনী ইশতেহারে এর সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামী অনুভূতির প্রতি সহযোগী মনোভাবের চরম খেলাফ।
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমান মায়েরা কেন সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে গাফলতি করবে?
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট জনগণ উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, শুধুমাত্র মধ্যস্বত্য ভোগী, তথা সিন্ডিকেট নির্মূলেই দ্রব্যমূল্য সুলভ করা সম্ভব।
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বছরে সাশ্রয় করতে পারে ১ বিলিয়ন ডলার।
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যাংক শোষণের কারণে শুধু একজন মালিকই নয় বা লাখ লাখ শ্রমিকই নয় বরং গোটা আর্থ-সামাজিক খাত হয় ক্ষত-বিক্ষত, বিপর্যস্ত, লা’নতগ্রস্ত, বেকারত্বে জর্জরিত।
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মাইক্রোচিপ বিজ্ঞানী, বাংলাদেশী এনায়েতুর রহমান এ শিল্পের বিকাশে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীকে বিশেষ সহায়তা করতে চান।
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম, মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মহিমান্বিত, মহাপবিত্র ১২ তারিখ উনার সাথে সম্পর্কযুক্ত মহাসম্মানিত ১২ই ছফর শরীফ এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বাআহ্ আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সমুদ্র অর্থনীতির সোনালী সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
শিশুর দেহে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্টেন্সের ভয়ানক উপস্থিতি
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শীতের সবজি, গ্রীষ্মের ফল, ফসল এখন বর্ষায় অকল্পনীয় বাম্পার ফলন হয়
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি আখাছছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












