ওহাবীদের চক্রান্ত উন্মোচন (৮)
[পবিত্র হাদীছ শরীফ জাল বানানো নিয়ে ওহাবী, সালাফী, দেওবন্দীদের হাক্বীকত ফাঁস]
, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ওহাবী সালাফীরা কি জানে বুখারী শরীফেও দ্বয়ীফ সনদের বর্ণনা আছে:
বর্ণনাকারী যদি তার উস্তাদকে বাদ দিয়ে সরাসরি পরবর্তী ব্যক্তি থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন সেক্ষেত্রে হাদীছ শরীফটি উছুল অনুযায়ী মুয়াল্লাক হাদীছ শরীফ হয়। উছূলের কিতাবে মুয়াল্লাক হাদীছ শরীফকে বর্জনীয় বলা হয়েছে। অথচ আশ্চর্য্যরে বিষয় হলো ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যেও মুয়াল্লাক হাদীছ শরীফ আছে। যেমন-
قَالَ مَالِكٌ : اَخْبَرَنِـيْ زَيْدُ بْنُ اَسْلَمَ اَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ اَخْبَرَهُ اَنَّ اَبَا سَعِيْدٍ الْـخُدْرِيَّ اَخْبَرَهُ اَنَّهُ سَـمِعَ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ ...........
উক্ত সনদখানা বুখারী শরীফ উনার “কিতাবুল ঈমান” অধ্যায়ে ৪১ নং হাদীছ শরীফ (যারা বাংলায় দেখতে চান তারা ইসলামী ফাউন্ডেশনের অনুবাদে ৪০ নং হাদীছ শরীফ দেখতে পারেন)। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সরাসরি ইমাম হযরত মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। অথচ হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি (৯৩-১৭৯ হিজরী) উনার বিছাল শরীফের প্রায় ১৫ বছর পর ইমাম হযরত বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৯৪-২৫৬ হিজরী) তিনি বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। তার মানে ইমাম হযরত বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমাম হযরত মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাক্ষাত পাননি। সাক্ষাত না পাওয়ার পরও মাঝখানে বর্ণনাকারী বাদ দিয়ে সরাসরি ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম ব্যবহার করেছেন।
শুধু তাই নয়, ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে এমন মুয়াল্লাক হাদীছ শরীফ উনাদের সংখ্যা ১৩৪১ টি। তারমধ্যে ১১৭১/১১৮১ টি হাদীছ শরীফ উক্ত বুখারী শরীফ উনার মধ্যেই অন্যস্থানে সনদ সহ বর্ণিত আছে। আর বাকি ১৬০/১৭০ টি হাদীছ শরীফ বুখারী শরীফ উনার কোথাও সনদসহ বর্ণিত হয়নি। (তাদরীবুর রাবী ১/৭৭)
এ প্রসঙ্গে বুখারী শরীফ উনার ব্যাখ্যাকারক ইবনে হাজার আসকালানী রহতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
واَما مال لـم يورده في موضع اٰخر مـما اَورده بـهذه الصيغة فمنه ما هو صحيح اِلا اَنه ليس على شرطه ومنه ما هو حسن ومنه ما هو ضعيف فرد اِلا اَن العمل على موافقته ومنه ما هو ضعيف فرد لا جابر له
অর্থ: “আর যে হাদীছ শরীফগুলো বুখারী শরীফ উনার অন্যস্থানে সনদসহ নেই এবং মাজহুল শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো কিছু ছহীহ হলেও ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শর্ত অনুযায়ী ছহীহ নয়। বাকিগুলো কিছু হাসান, কিছু দ্বয়ীফ। যার কোন কোনটির স্বপক্ষে উম্মত উনাদের আমল রয়েছে। অবশিষ্টগুলো এমন দ্বয়ীফ যার সমর্থনে কোন কিছু নেই। ” (ফতহুল বারী ১ খন্ড ১৮ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা : দারুল মা’রিফা, বইরুত, লেবানন)
وَاما مَا لـم يـُخرجهُ فَيحْتَمل اَن يكون لَهُ عِلّة خُفْيَة من انْقِطَاع اَو اضْطِرَاب اَو ضعف راو
অর্থ: “আর যেই হাদীছ শরীফগুলো অন্যস্থানে সনদসহ নেই সেগুলো মধ্যে সুক্ষ্ম দুর্বলতা থাকার প্রবল আশংখা রয়েছে। যেমন- ইনকিতা, ইসতিরাব, রাবী দুর্বল ইত্যাদি। ” (তাগলীকুত তালীক ‘আলা ছহীহ বুখারী ২য় খ- ১১ পৃষ্ঠা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে চারটি বরকতময় স্থানে শান্তির পতাকা স্থাপন করেন-
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৯)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৪)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












