শিক্ষা সিলেবাস মূল্যায়ন:
ইতিহাস বিকৃতির খন্ডন ও প্রকৃত ইতিহাসের বর্ণনা (২)
, ১৪ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ০৮ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ২৩ই মাঘ, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইতিহাস
চলতি ২০২৩ সালের নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী জাতীয় বা এনসিটিবির পাঠ্যসূচি সাজানো হয়েছে। নতুন অনেক বিষয় সংযুক্ত হয়েছে। কিন্তু নতুন পাঠ্যবইগুলোতে স্থান পেয়েছে ভুল তথ্য ও তত্ত্ব। ফলে ভূল শিক্ষা গ্রহণ করবে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী।
চলতি ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের নতুন কারিকুলামের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বইয়ের ‘গোত্রবদ্ধ সমাজ থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র’ অধ্যায়ে ৯৮ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি কয়েকটি বিহার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস এবং রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া ও গৌড় দখলকারী বখতিয়ার প্রতিষ্ঠা করেন খলজি বংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঠ্যবইয়ের উক্ত অধ্যায়ের এই বাক্যটিতে মূলত দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম ইতিহাস বিকৃতিকারী একটি মহলের ভ্রান্ত দাবী ‘বখতিয়ার খিলজী নালন্দা ধ্বংস করেছেন’ এটিকেই অত্যন্ত কৌশলে নাড়া দেয়া হয়েছে। ধারাবাহিক কয়েকটি পর্বে বঙ্গবিজয়ী মুসলিম সিপাহসালার মালিক বখতিয়ার খিলজীকে নিয়ে এই মিথ্যাচারের খন্ডন করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
মুসলিম ইতিহাস বিকৃতকারী একটি মহল প্রচার করে থাকে, ৪২৭ সালে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের দ্বারা তৈরিকৃত তাদের ধর্মচর্চার স্থান মুসলিম সিপাহসালার বখতিয়ার খিলজী ধ্বংস করেছেন এবং বৌদ্ধদের উপর গণহত্যা চালিয়েছেন। ধ্বংসের সময় প্রচার করা হয় ১১৯৩ সাল। অথচ বখতিয়ার খিলজী বাংলার এই অঞ্চলেই আগমন করেন ১২০৪ সালে। যে ব্যক্তি ১২০৪ সালেই বাংলা অঞ্চলে আসেন তিনি কি করে ১১৯৩ সালে বিহার ধ্বংস করবেন তা একমাত্র অপপ্রচারকারী উর্বর মস্তিষ্কের ইতিহাসবিদ নামধারী কুটকৌশলীরাই বলতে পারবে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বখতিয়ার খিলজি সম্পর্কে ইতিহাস যে তথ্যই পাওয়া যায় তা একমাত্র পারস্যের মুসলিম ঐতিহাসিক মিনহাজউদ্দিন সিরাজের ‘তবকাত-ই-নাসিরী’ গ্রন্থে। কারণ তিনিই বখতিয়ার খিলজীর ইন্তেকালের ৪০ বছর পর বাংলায় গিয়ে বাংলা বিজয়ের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তার উপর ভিত্তি করেই বখতিয়ার খিলজীর ইতিহাস রচিত হয়েছে। যারা বখতিয়ার খিলজীকে নালন্দা ধ্বংসকারী আখ্যায়িত করে থাকে তারা মূলত এই গ্রন্থেরই রেফারেন্স প্রদান করে থাকে। কিন্তু এখানেও মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। কারণ তবকাত-ই-নাসিরী’তে নালন্দা ধ্বংসের এরকম কোনো তথ্যই মজুদ নেই।
বখতিয়ার খিলজীকে নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছে ইতিহাসবিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আবদুল করীম, ভারতের বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুখময় এবং লেখক রমেশচন্দ্র মজুমদার। তারা তিনজনই একমত যে, বখতিয়ার খিলজীর নালন্দা ধ্বংসের কোনো ঘটনা ঐতিহাসিক ‘তবকাত-ই-নাসিরী’তে পাওয়া যায়নি। সুখময় তার লিখিত ‘বাংলার ইতিহাস’ বইয়ের ৩-৬ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, “ঐতিহাসিক মিনহাজের বর্ণনায় বিহার ও নদীয়া জয়ের কাহিনী পাওয়া যায়। নালন্দা অভিযান, নালন্দা জয়, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের কোন তথ্য বা ঘটনা এতে পাওয়া যায়না।”
ইতিহাসবিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আবদুল করীমও এতে একমত। উনার লিখিত ‘বাংলার ইতিহাস ও সুলতানি আমল বইয়ের ৮০-৯০ পৃষ্ঠা’ ‘বাংলার ইতিহাস; মুসলিম বিজয় থেকে সিপাহী বিপ্লব’ বইয়ের ১৫-২২ পৃষ্ঠা’ এবং সুখময়ের ‘বাংলার ইতিহাস’ বইয়ের ৩-২৪ পৃষ্ঠায় এ বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া, রমেশচন্দ্র মজুমদার ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’ বইয়ের ১০২-১০৬ পৃষ্ঠায় মিনহাজের তাওয়ারিখ ও বখতিয়ার খিলজী সংক্রান্ত তথ্যাবলির বিশদ ব্যাখ্যা করেছে। এ তিনজনই তাদের কোনো ইতিহাস গ্রন্থে বখতিয়ার খিলজীর নালন্দায় অভিযানের কোনো সত্যতা পায়নি। (চলবে)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিধর্মীরা যতটুকু সভ্যতা পেয়েছে তা মুসলিম শাসনামলেই আর বর্বরোচিত প্রথাসমূহ বন্ধ করেছিলেন মুসলিম শাসকরাই
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিখ্যাত মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতার বর্ণনায় বাংলাদেশ
০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সুফি, ফকীর-দরবেশ বিদ্রোহের ইতিকথা
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (২)
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (২)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (৩)
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বর্তমানে দেশকে উন্নত করতে হলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের বিকল্প নেই (১)
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুসলমানদের ক্ষমতা হারানোর কারণ: জ্ঞান চর্চা থেকে দূরে সরে আসা (২)
২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বর্ণালী যুগের নিরাপত্তা বিভাগের ইতিহাস (২)
২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসের স্বর্ণালী পুলিশ বিভাগের ইতিহাস (১)
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












