অমুসলিম মহিলাদের দ্বীন ইসলাম গ্রহণের ঈমানদীপ্ত ঘটনা: ড্যানিশ নও-মুসলিম আনা লিন্ডা নুরের সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ
, ১৪ শাবান শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৭ তাসি’, ১৩৯১ শামসী সন , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
‘আনা লিন্ডা’র বাবা মা ছিলেন আইসল্যান্ডের অধিবাসী। আনা’র জন্ম হয় ডেনমার্কে। খ্রিস্টান ক্যাথলিক গির্জায় খ্রিস্টান হিসেবে দীক্ষা দেয়া হয়েছিল তাকে। কয়েক বছর পর সপরিবারে পাড়ি জমান কানাডায়। এরপর সেখান থেকে যান নিউইয়র্কে। পড়াশুনার জন্য লিন্ডা আরো অনেক দেশে গেছেন। কিন্তু কায়রো সফর তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
কায়রো সফরের সময় এক বন্ধুর কাছ থেকে উপহার পাওয়ার সুবাদে বাইবেল বা ইঞ্জিল ও তাওরাত বা ওল্ডটেস্টাম্যান্ট পড়ার সুযোগ পান লিন্ডা। কিন্তু বাইবেলের অনেক কিছুতেই অসঙ্গতি ও গোঁজামিল দেখতে পান তিনি। এ ধর্মগ্রন্থের অনেক বক্তব্যের সঙ্গেই একমত হতে পারেননি লিন্ডা। বিশেষ করে ত্রিত্ববাদ বা তিনি খোদার অস্তিত্বের দাবি তার কাছে কখনও গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়নি।
লিন্ডা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “সাইয়্যিদুনা হযরত রুহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে আমার কাছে কখনও মহান আল্লাহর পুত্র বলে মনে হয়নি। আর অন্য মানুষদের পাপ মোচনের জন্য এ উনাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল বলে যে দাবি করা হয় তাও আমার দৃষ্টিতে অযৌক্তিক। এইসব অযৌক্তিক বক্তব্যের কারণে আমি অন্য ধর্মগুলো নিয়ে গবেষণার সিদ্ধান্ত নেই।”
ড্যানিশ নও-মুসলিম ‘আনা লিন্ডা নুর ‘আরো বলেছেন, “বাইবেল পড়ার পর আমি ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাত পড়ার উদ্যোগ নেই। বেশ কয়েকবার তালমুদ তথা ইহুদিদের প্রধান ধর্মীয় বইটি সংগ্রহের চেষ্টা করি। কিন্তু আমার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর কিছু দিন বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে গবেষণা চালাই। কিন্তু খুব দ্রুত এই গবেষণা ত্যাগ করি। কারণ, দেখলাম যে তারা মহান আল্লাহ পাক, আসমান ও জমিনের স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসী নয়, অথচ আমি স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করি।”
ড্যানিশনও-মুসলিম ‘আনা লিন্ডা নুর’ বলেছেন, “আমিও আমার আশপাশের অন্য অনেকের মতই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি শত্রুতার মনোভাব নিয়েই বড় হয়েছি। কায়রো সফরের আগে আমি আরবদেরকেও নিকৃষ্ট শ্রেণীর মানুষ বলে মনে করতাম। এমনটি ভাবার পেছনে প্রচারণার প্রভাবও কিছুটা ছিল। যেমন, পাশ্চাত্যে যেসব ছায়াছবি দেখানো হয় সেইসব ছায়াছবিতে কোনো রকম বাছ-বিচার ছাড়াই মুসলমানদের সবাইকে সন্ত্রাসী, অশিক্ষিত ও মহিলাদের ব্যাপারে অত্যাচারী হিসেবে দেখানো হয়। একবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে কোনো একটি দূতাবাসে চাকরির আমন্ত্রণ পেয়ে সেখানে একজন মুসলমানের সঙ্গে পরিচিত হই। তার ব্যবহার, আচার-আচরণ ও জীবনধারা বিশ্লেষণ করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি। তার সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলাপের সুবাদে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে আমার অনেক ভুল ধারণা দূর হয় ও অনেক জটিল প্রশ্নের উত্তর পেতে সক্ষম হই।”
ড্যানিশ নও-মুসলিম ‘আনা লিন্ডা নুর’ তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ পড়ার পর বলেছেন, “পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে আমার বন্ধুকে বললাম আমাকে আরবী ভাষায় পবিত্র কুরআন শরীফ পড়া শেখান। তিনি শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমাকে পবিত্র কুরআন শরীফ পড়া শেখাতে রাজি হলেন। ফলে আমি মূল আরবী ভাষায় কুরআন পড়তে সক্ষম হই এবং অনুবাদের মাধ্যমে অর্থও জানতে পারি। পড়া শেষে মনে হল কত সুন্দর, জ্ঞানগর্ভ এবং দয়া ও অনুগ্রহে ভরপুর এ মহাপবিত্র গ্রন্থ! এটাও দেখলাম যে প্রাচ্যবিদদের প্রচারণার বিপরীতে ইসলাম নারীকে কত উচ্চ মর্যাদা দিয়েছে ও কত বেশি তাদের প্রশংসা করেছে। প্রাচ্যবিদরা বিদ্বেষী মন নিয়ে কুরআন অনুবাদ করছে এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে এমন এক ধর্ম হিসেবে তুলে ধরছে যে এর ইতিবাচক বা ভাল দিকগুলোর চেয়ে এর নেতিবাচক বা মন্দ দিকগুলোই বেশি! অথচ পবিত্র কুরআন শরীফ এমন এক মহাগ্রন্থ যার মধ্যে মহাশূন্য, উত্তরাধিকার আইন, ভূতত্ত্ব, জীবনের উন্মেষ ও মানব সৃষ্টি সম্পর্কে বক্তব্য রয়েছে। অথচ এইসব বিষয়ে বিজ্ঞান সাম্প্রতিক সময়ে বক্তব্য রাখতে শুরু করেছে মাত্র। আর এটা এক মহাবিস্ময়!
ড্যানিশ নও-মুসলিম ‘আনা লিন্ডা’ ব্যাপক পড়াশুনা ও গবেষণার পর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সত্যতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। এ অবস্থায় তিনি প্রকাশ্যে মুসলমান হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মুসলমান হলে তার সঙ্গে অনেক ব্যক্তির আচরণ বদলে যাবে ও অনেকেই তাকে উপহাস করবে এবং তার পরিবার ও বন্ধুদের অনেকেই তাকে ত্যাগ করবে বলে সতর্ক করে দেন আনার মুসলিম বন্ধু।
কিন্তু লিন্ডা এইসব বিষয়কে গুরুত্ব দেননি। বরং তিনি ধর্ম পরিবর্তনকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে মনে করেন। আনালিন্ডা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “আমি মুসলমান হতে চাওয়ার জন্য গর্ব অনুভব করতাম। কারণ, আমি অনেক বছর ধরে খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে গবেষণা করেছি এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে জানার মধ্য দিয়ে ধর্ম সম্পর্কে আমার গবেষণা শেষ হয়েছে। আমি ঈমানের এমন এক পর্যায়ে পৌছলাম যে, এ পর্যায়ে আমি নিশ্চিত হয়েছি যেই সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সত্য ধর্ম। জীবনে প্রথমবারের মত যে আযান আমি কায়রোতে শুনেছিলাম তা কখনও ভুলবনা। সেই শুভ মুহূর্তে আনন্দ যেন উপচে পড়ছিল। আর আমার দুই চোখ দিয়ে ঝরছিল আনন্দের অশ্রু।”
ড্যানিশ নও-মুসলিম ‘আনা লিন্ডা নুর’ পবিত্র কুরআন শরীফ সম্পর্কে বলেছেন: “যখনই পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করি তখনই অশ্রু আর বাধা মানে না। পবিত্র কুরআন শরীফ আমার মধ্যে যতটা প্রভাব ফেলেছে আর অন্য কোনো কিতাবাদি আমার ওপর এতটা প্রভাব ফেলেনি, কান্না তো দূরের কথা। এই মহান আসমানি কিতাব যতই পড়ি ততই তার অর্থ আরো স্পষ্ট হয় আমার কাছে। ইহা এমন এক কিতাব যা আমার জ্ঞান ও উপলব্ধিকে বাড়িয়ে দিয়েছে।”
হিদায়াত বা সুপথ পাওয়া মানুষের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার দেয়া সবচেয়ে বড় নেয়ামত। এ প্রসঙ্গে আনা বলেছেন, “সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করা সত্ত্বেও আমি শেষ পর্যন্ত মুসলমান হতে পেরেছি। তাই সবার জন্যই হিদায়াতের আশা পোষণ করা যায়। যদিও আমি অনেক বন্ধু হারিয়েছি। কিন্তু পেয়েছি অনেক বন্ধু। নতুন বন্ধুরা আমাকে পেয়ে খুব খুশি। তারা আমাকে হিদায়াত বা আলোর সমার্থক শব্দ ‘নুর’ নামেই ডাকে, যদিও আমি নিজের জন্য আনা লিন্ডা নামটিও ব্যবহার করছি। কারণ, আমার বাবা-মা আমার এ নামই রেখেছিলেন, যা আমার ব্যক্তিত্বের অংশ। নূর নামটি আমার নামের বর্ধিত অংশ। এ নাম আমার সুপথ লাভের চিহ্ন।”
-উম্মু রাহাত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
একজন উত্তম নারীর গুণাবলী
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনা
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত তামাযির খুনসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৩)
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
দান-ছদকাহ বালা-মুসিবত দূর করে
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












