• কায়িনাত আজ কার ইশকের তামান্নায় মাতোয়ারা
  • আওলাদে রসূল হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সুমহান বিলাদত শরীফ দিবস ক্ষণে
  • মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর বিলাদত শরীফ মহান আল্লাহ পাক-এর কুদরতের অনুপম বহিঃপ্রকাশ (১)
  • মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর বিলাদত শরীফ মহান আল্লাহ পাক-এর কুদরতের অনুপম বহিঃপ্রকাশ (২)
  • মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর বিলাদত শরীফ মহান আল্লাহ পাক-এর কুদরতের অনুপম বহিঃপ্রকাশ (৩)
  • আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সন্তুষ্টিই মুজাদ্দিদে আ’যম, নূরে মুর্কারম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সন্তুষ্টি এবং কামিয়াবী হাছিলের প্রধান মাধ্যম
  • শানে বিলাদাতে মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী (১)
  • শানে বিলাদতে মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী (২)
  • শানে বিলাদাতে মুজাদ্দিদে আ’যম ছানী (৩)
  • শানে বিলাদাতে মুজাদ্দিদে আ’যম ছানী (৪)
  • শানে বিলাদাতে মুজাদ্দিদে আ’যম ছানী (৫)
  • শানে বিলাদতে মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী (৬)
  • আসমান ও যমীনবাসীর আজ খুশীর দিন ॥ ছানিয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম আজ বিলাদত শরীফ-এর দিন
  • মুজাদ্দিদে ছানী, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার মর্যাদা-মর্তবা
  • “ত্বলায়াল বাদরু আলাইনা” ৯ই রমাদ্বান সোমবার শরীফ ‘পূর্ণিমার চাঁদ’ উঠল বাংলার আকাশে
  • মুজাদ্দিদে ছানী, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল
    হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার মর্যাদা-মর্তবা


    কি হলো আজ? আজ কিসের এত আনন্দ আকাশ-বাতাস ত্রিভূবন জুড়ে? আজ চাঁদের কেন এত উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা? কিসের আনন্দে চাঁদের উজ্জ্বল আলোকচ্ছটায় গোটা পৃথিবী মুহূর্তে আলোকিত হয়ে গেল? আজ কি তবে জ্যোৎসনার রাত! না-না ! তা কি করে হয়, আজতো চাঁদের নয় তারিখ। পবিত্র নয়ই রমাদ্বান শরীফ।
    এমনি মুহূর্তে সংবাদ এলো: আজ ‘ইয়াওমুল আযীম’ তথা ‘মহান দিন’। আজ নূরী শাহজাদা আক্বা ধরণীর বুকে তাশরীফ এনেছেন। সমস্ত কাওনাইন আজ শাহজাদা আক্বার মুবারক বিলাদত শরীফে আনন্দে মুখরিত হয়ে আহলান-সাহলান জানাচ্ছে। যার আগমনে এ আনন্দ নিশ্চয়ই তিনি সাধারণ ব্যক্তিত্ব নন, অবশ্যই তিনি আল্লাহ পাক-এর পক্ষ থেকে মনোনীত এক মহান ব্যক্তিত্ব। তিনিই যে ভূবন জয়ী বীর ‘শাহজাদা আক্বা’। সারা কায়িনাতের খলীফা তা সহজেই অনুমেয়। তদুপরি তিনি রসূলে আ’লার শ্রেষ্ঠ আওলাদ এবং বর্তমানে আল্লাহ পাক উনার সবচেয়ে বড় নিয়ামত, মুজাদ্দিদে আযম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার লখতে জিগার।
    হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার মুবারক বিলাদত শরীফ উপলক্ষে আজ হৃদয় মানস পটে কিছু কিছু মর্যাদার কথা বার বার ভেসে উঠছে। মূলতঃ ধরায় আগমন থেকে অদ্যবধি শাহাজাদাজান ক্বিবলার সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা প্রকাশিত হয়েছে, যা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। হযরত শাহজাদাজান আক্বার উঠা-বসা, চলা-ফেরা, ছীরত-ছূরত, কথা-বার্তা প্রত্যেকটির মধ্যে রয়েছে শিক্ষনীয় এবং নছীহতপূর্ণ বিষয়। তার কয়েকটি শিক্ষনীয় ও নছীহতপূর্ণ ঘটনা তুলে ধরা হল:
    কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, ‘ওলী তো ওলীই যদিও তিনি শিশু হন না কেন।’ তখন হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার বয়স মুবারক অনেক কম। হযরত শাহজাদা ক্বিবলা উনার নিকটে আমরা অনেকে বসে হাসি-খুশি করছিলাম। এমন সময় আমার মনে উদয় হল- হায়! যদি রাজারবাগ শরীফের মুরীদান পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বেশী হত তবে তো হক্বটা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ত, অন্ধকারের ঘনঘটা দূর হয়ে যেত। কিন্তু বাতিলের দলটাই তো বেশী। চারিদিকে শুধু নাহক্বের ছড়াছড়ি। ৭২ ফিরকা নাহক্ব আর ১টি ফিরকা কেবল হক্ব তথা নাজাত প্রাপ্ত।
    আর হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার সাথে সাথে আমার দিকে মুবারক দৃষ্টি দিয়ে আমার নাম ধরে বললেন, শুন! হাদীছ শরীফ-এ আছে, ‘ইসলাম অল্প সংখ্যক লোক নিয়ে শুরু হয়েছে এবং শেষও হবে অল্প সংখ্যক লোক নিয়ে।’ তিনি আরো বললেন, “বলতো ট্রেনের ফার্স্ট ক্লাশ কেবিনে লোক সংখ্যা বেশী নাকি থার্ড ক্লাশ কেবিনে?” আমি বললাম, আমার জানা মতে থার্ড ক্লাশ কেবিনেই তো লোক সংখ্যা বেশী থাকে। তখন প্রাণের আঁক্বা হযরত শাহজাদা জান তিনি বললেন, ঠিকই বলেছ। অতঃপর তিনি আবার হাদীছ শরীফটি বললেন, ‘ইসলাম অল্প সংখ্যক লোক নিয়ে শুরু হয়েছে এবং শেষও হবে অল্প সংখ্যক লোক নিয়ে।’ ইসলামের প্রাথমিক যুগে কি অল্প সংখ্যক লোক দ্বারা বিশ্বময় ইসলাম প্রচার হয়নি? সোনালী যুগে অল্প সংখ্যক লোকই তো বিশ্বে ইসলামের বিজয়ী ঝা-া উড্ডীন করেছিলেন। তা কি তুমি ইতিহাসে পড়নি? বুঝতে পেরেছ, আমরা হলাম ফাস্ট ক্লাশ আর বাতিল অর্থাৎ নাহক্বরা হল থার্ড ক্লাশ। সুতরাং তাদের সংখ্যাতো বেশি থাকবেই। এতে চিন্তার কি আছে; ইনশাআল্লাহ আমরাই খিলাফত কায়িমের মাধ্যমে একদিন বিজয়ী হব ॥ (সুবহানাল্লাহ)
    অনাগত ভবিষ্যতে ইসলামী বিশ্বের খলীফার জবান মুবারক থেকেই শুধু এইরূপ বাণী নিঃসৃত হওয়ায় আমি বললাম: হে শাহজাদা আক্বা! আপনি কি করে বুঝলেন, আমি মনে মনে এই ব্যাপারে ফিকির করছিলাম। জবাবে শুধু প্রাণের আক্বা হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি মৃদু হাসলেন। এইরূপ অসংখ্য জ্ঞানগর্ভ কথা এবং উনার কারামত রয়েছে যা সংক্ষিপ্ত পরিসরে ব্যাখ্যা করে শেষ করা যাবে না।
    এক সফরে (সৌভাগ্য ক্রমে) রংপুরে বাবলা ভাইয়ের বাড়ীতে একদিন শাহজাদা আক্বা উনার চুল মুবারক চিরুনী করছিলাম। তখন অনেকগুলো ছোট ছোট চুল মুবারক পড়েছিল যা আমি একটি পাত্রে সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। ২-১ বছর পর সেই চুল মুবারক দেখার জন্য আমি যেই মাত্র পাত্রটি খুলেছি সেখান থেকে এক মোহনীয় খুশবু বের হল। (সুবহানাল্লাহ)
    আবার একবার আমরা বেশ কয়েকজন মিলে শাহজাদা আক্বা উনার সাথে পেপার ওয়েট বানাচ্ছিলাম। তখন ঘটনাক্রমে প্লাস্টিক কাটার সময় শাহজাদা জান উনার হাত মুবারক কেটে গেল। সেখান থেকে অনেক মুবারক রক্ত ঝরলো। আমরা কেউ সেই রক্ত মুবারক কাগজে, কেউ কাপড়ে লাগিয়ে রেখে দিয়েছিলাম। সাধারণতঃ রক্ত অনেক দিন থাকলে সেখান থেকে দূর্গন্ধ ছড়ায়। কিন্তু আল্লাহ পাক উনার যাঁরা ওলী উনাদের কি শান! এখনো সেই রক্ত মুবারক মিশ্রিত কাগজ ও কাপড় আমাদের কয়েকজনের সংগ্রহে আছে। কিন্তু সেই রক্ত মুবারক মিশ্রিত কাগজ ও কাপড় থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া দূরে থাক বরং তা থেকে এক প্রকার সুঘ্রাণ বের হয়। (সুবহানাল্লাহ) এইরূপ আরো অনেক অনেক মর্যাদা-মর্তবার বর্ণনা রয়েছে যা আমি চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছি। মূলতঃ মুজাদ্দিদে আ’যম, হযরত ছানী শাহজাদা জান উনার কারামত, মর্যাদা-মর্তবা বর্ণনা করে পরিশেষে সবাই একথাই বলতে বাধ্য হবে যে, উনার শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা লিখতে গিয়ে সমুদ্রের পানিকে কালি স্বরূপ এবং সমস্ত গাছ-পালাকে কলম রূপে ব্যবহার করা হলে এবং সমস্ত জীন-ইনসান উনার শান লিখতে থাকলেও সমুদ্রের পানি ও গাছ-পালা নিঃশেষ হয়ে যাবে। তবুও উনার মহান শান মুবারক-এর বর্ণনা লিখে শেষ করা সম্ভব হবে না।(সুবহানাল্লাহ)
    হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “তোমরা মু’মিনের ফিরাসাত (অন্তর দৃষ্টি)কে ভয় কর। নিশ্চয়ই উনারা উনাদের রব উনার নূর মুবারক দ্বারা সবকিছু দেখে থাকেন। (তানযীহুশ শরীয়াহ)
    মুজাদ্দিদে ছানী, মুজাদ্দিদে আ’যম উনার লখতে জিগার হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার কিরূপ ফিরাসাতের অধিকারী ছিলেন তা নিচের ঘটনাটি দ্বারা আরো সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে: হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার শিশু বয়সের মশহুর ঘটনা যা অনেকেরই জানা রয়েছে যে, হযরত শাহজাদা আঁক্বা তখন জুস খুব পছন্দ করতেন। উনাকে জুস দেয়া হলে তিনি সেটা পাইপ দিয়ে খেতেন। একদিন উনাকে একটি জুস দেয়া হলে উনি সেটা না খেয়ে পেয়ালাতে ঢালার জন্য বললেন। জুস পেয়ালাতে ঢালা হলে জুসের মধ্যে ১টি মরা মাছি পাওয়া গেল। (সুবহানাল্লাহ)
    হাত মুবারক এর বরকত
    একবার এক ছফরে আমাদের এক পীর বোন হযরত শাহাজাদা জান উনাকে বললেন, আমার মেয়েটার প্রচ- রাগ। তার চুল গুলো সবসময় খাড়া হয়ে থাকে। তখন হযরত শাহাজাদা ক্বিবলা জান উনার হাত মুবারক দ্বারা মেয়েটির মাথা স্পর্শ করার সাথে সাথে চুল গুলো সমান হয়ে শুয়ে গেল। (সুবহানাল্লাহ)
    একদিন আমরা হযরত শাহজাদা জান উনার সাথে উনার বড় হওয়া সম্পর্কে বিভিন্ন কথা-বার্তা বলছিলাম যে, (তখন উনার বয়স মুবারক খুবই কম হবে) বড় হলে হযরত শাহজাদা ক্বিবলা তিনি এমন হবেন, কি করবেন ইত্যাদি এইরূপ অনেক কথা। হঠাৎ হযরত শাহজাদা আক্বা তিনি বললেন, কিছুদিন পরে আমি আর তোমাদের সাথে দেখা করবো না, পর্দা করবো। এই কথা শুনা মাত্র আমরা যারা উপস্থিত ছিলাম সকলের হৃদয় যেন মুহূর্তেই দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল। কারো কারো মনে উদয় হল- হায়! যদি ছেলে হতাম তাহলে হযরত শাহজাদা আক্বা উনার ছোহবতে থাকতে পারতাম। আমরা বললাম, হযরত শাহজাদা হুযূর ক্বিবলা! আপনার বয়স মুবারকতো এখনো অনেক অল্প, আপনার তো পর্দা করার মত বয়স হয়নি। তবুও আমাদের সাথে পর্দা করবেন? জওয়াবে তিনি বললেন, যাঁরা আল্লাহ ওয়ালা উনারা সর্বদা অধিক তাক্বওয়া অবলম্বন করে থাকেন। যেমন: ইমামে আ’যম হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি একবার হাঁটার সময় উনার কোর্তা মুবারকে কয়েক ফোঁটা কাদা মাটি লেগে গেলে উনি যখন এ কোর্তা মুবারক ধুয়ে নামাযের জন্য প্রস্তুত হলেন তখন উনার এক ছাত্র বললেন, হুযূর! বেয়াদবী মাফ করবেন, চলার পথে কিছু কাদা মাটি লাগলে সেটা দ্বারা নাকি কাপড় নাপাক হয় না? তখন ইমামে আযম ইমাম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, হ্যাঁ, তা পাক, কিন্তু ধুয়ে নেয়াটা হচ্ছে অধিক তাক্বওয়া। এই ঘটনাটি বলার পরে শাহজাদা ক্বিবলা বললেন, যদিও বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত দেখা দেয়া জায়িয কিন্তু তার পূর্ব থেকেই পর্দা করা হচ্ছে অধিক তাক্বওয়া।
    রাজারবাগ দরবার শরীফ-এ এসেই জানতে পারলাম, মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও পর্দা করতে হয়। আর হযরত শাহজাদা জান উনার ছোহবতে থাকতে পারার কারণে এটা আরো অধিক বুঝতে পারলাম যে, অল্প বয়সেই পর্দার কতো গুরুত্ব। এটা ওলী আল্লাহ উনার দরবার শরীফ-এ না আসলে, ওলী আল্লাহ উনাদের ছোহবতে না থাকলে কস্মিন কালেও জানা সম্ভব হতো না।
    হযরত শাহজাদা আক্বা উনার মুবারক বিলাদত শরীফ উপলক্ষে উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা উপলব্ধি করতঃ উনার প্রতি যথাযথ তা’যীম-তাকরীম ও সম্মান প্রদর্শন করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে উনার হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি নছীব করুন। আমীন। ছুম্মা আমীন।
    Anjumane Al Baiyinaat, Bangladesh
    5, Outer Curcular Road Rajarbag Dorbar Shareef, Dhaka