Banner Image

পবিত্র মি’রাজ শরীফ

এই মুবারক রাতটিতে (২৬ মাহে রজব দিবাগত রাতে) আল্লাহ পাক উনার প্রিয়তম হাবীব, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মি’রাজ শরীফ করান। (সুবহানাল্লাহ)
‘মি’রাজ’ শব্দের আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থ হলো ঊর্ধ্বারোহণ। অর্থাৎ এ মুবারক রাতে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা’বা শরীফ থেকে বাইতুল মুক্বাদ্দাস শরীফ এবং সেখান থেকে স্ব-শরীরে এবং জাগ্রত অবস্থায় আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাত করে ফিরে আসেন এবং সাক্ষাতকালে আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতদের জন্য অর্থাৎ আমাদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করে দেন।
মি’রাজ শরীফ সম্পর্কে অনেকে অনেক ধরনের ব্যাখ্যা ও বক্তব্য পেশ করে থাকে। কিন্তু সকলের সকল ব্যাখ্যা, বক্তব্য শ্রবণ করা এবং তা বিশ্বাস করা যাবে না। কালামুল্লাহ শরীফ-এ আল্লাহ পাক বলেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মি’রাজ শরীফ-এর রাতে আপনি যে আমার সাক্ষাত লাভ করেছেন তা কেবল মানুষের পরীক্ষার জন্য।” (সূরা বণী ইসরাঈল-৬০)

গুরুত্ব

মি’রাজ শরীফ-এর রাতে আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাতের বিষয়টিকে যারা বিনা চু-চেরা, কিল-কাল, বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস করবেন; উনারা ঈমানদার হিসেবে গণ্য হবেন এবং মর্যাদার অধিকারী হবেন। আর যারা বিশ্বাস করবে না তারা ঈমানদার হিসেবে সাব্যস্ত হবে না। এজন্য আক্বাঈদের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “মি’রাজ শরীফ সত্য।”
মূলতঃ মি’রাজ শরীফ হচ্ছে আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সীমাহীন ফযীলতসমূহের মধ্য হতে একটি ফযীলতের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। আসলে আল্লাহ পাক উনার হাবীব সৃষ্টিকাল হতে সবসময় আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতে বা দীদারে ছিলেন এখনও আছেন এবং অনন্তকাল ধরে থাকবেন।
আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই যে দায়িমী দীদার, তায়াল্লুক নিছবত তা কুল-কায়িনাতকে জানানোর জন্য আল্লাহ পাক ২৭শে রজব-এর রাতে মি’রাজ শরীফ-এর আনুষ্ঠানিকতার ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সৃষ্টিকাল থেকেই নবী, রসূল এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ। যেমন- হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই বলেন, “আমি তখন থেকে নবী যখন হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম পানি ও মাটির মধ্যে অবস্থান করছিলেন।” (মিশকাত শরীফ)
অপর বর্ণনায় এসেছে, “আমি তখনও নবী যখন হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম রূহ এবং শরীরের মধ্যে ছিলেন।” (আহমদ, দায়লামী, মিশকাত)
কিন্তু যমীনে আগমনের পর চল্লিশ বৎসর বয়স মুবারকে নুবুওওয়াত-রিসালতের আনুষ্ঠানিকতা ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ তিনি যে নবী, রসূল, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, হাবীবুল্লাহ আল্লাহ পাক সেটা কুল-কায়িনাতকে জানিয়ে দেন।
তদ্রুপ- মি’রাজ শরীফ-এ আল্লাহ পাক উনার সাক্ষাতের বিষয়টির ক্ষেত্রেও তাই। মি’রাজ শরীফ-এর পূর্বে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সিনা মুবারক চাক করা হয়েছিল। (সুবহানাল্লাহ) তা আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একটি খুছূছিয়াত ও মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ। কারণ অন্য কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালামগণের কারো এভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে সিনা মুবারক চাক করা হয়নি। কেউ কেউ বলে থাকে, এই সিনা মুবারক চাক করে হিকমত ও ঈমান দান করা হয়েছিল। (নাঊযুবিল্লাহ) এমন বক্তব্য কোন মুসলমানের হতে পারে না। কারণ যিনি সৃষ্টিকাল থেকে যেমন নবীদের নবী, রসূলদের রসূল, হাবীবুল্লাহ, তেমনি তখন থেকেই ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ।
কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাস্‌সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যেসব শান ও মর্যাদার বিষয় ঘোষণা করা হয়েছে বা উল্লেখ করা হয়েছে, প্রত্যেকটিই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। মূলতঃ আল্লাহ পাক উনার হাবীব তিনি হাবীবুল্লাহ। তিনি শুধু আল্লাহ পাক নন। এছাড়া সমস্ত বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার অধিকারী তিনি। সুতরাং উনার বিষয়ে উম্মতের খুব সাবধানে কথা বলতে হবে। উনাকে নিজেদের মত জ্ঞান করা যাবে না। অন্যথায় জাহান্নামের ইন্ধন ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

আমল

প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, এ রাতে ইবাদত-বন্দেগী, তওবা-ইস্তিগফার, মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও দোয়া-মুনাজাত করা এবং পরের দিন অর্থাৎ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ রোযা রাখা। আর বাংলাদেশসহ প্রত্যেক মুসলিম ও অমুসলিম দেশের সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, পবিত্র শবে মি’রাজ শরীফ উপলক্ষে শুধুমাত্র ঐচ্ছিক নয়; বরং বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষণা করা।
এছাড়াও প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, ছিদ্দীক্বে আকবর হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনাকে অনুসরণ করে বিনা চু-চেরা কিল-কালে মি’রাজ শরীফ, মি’রাজ শরীফ সংশ্লিষ্ট এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা। তবেই ছিদ্দীক্বিয়তের হিস্‌সা লাভ করা সম্ভব।

ইসলামের বিশেষ দিনসমূহ

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

পবিত্র আশুরা মিনাল মুহর্‌রম

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ

পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াজদাহম

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয-যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

আফজালুন্ নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র পহেলা রজবের রাত

পবিত্র লাইলাতুর রাগায়ীব

সুলতানুল হিন্দ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র মি’রাজ শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ইমামুল হুমাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

পবিত্র লাইলাতুন নিস্‌ফে মিন শা’বান বা শবে বরাত

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর

পবিত্র ঈদুল ফিতর

পবিত্র ঈদুল আযহা

অডিও

ওয়াজ শরীফ

     ওয়াজ শরীফ ১
     ওয়াজ শরীফ ২

কাছিদা শরীফ

     কাছিদা শরীফ ১
     কাছিদা শরীফ ২