Bengali | English
Banner Image

পবিত্র লাইলাতুর রগায়িব

‘পবিত্র লাইলাতুর রগাইব’ হচ্ছে রজব মাসের পহেলা জুমুয়ার রাত্রি। এ পবিত্র রাত্রিতে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা হযরত আমিনা আলাইহাস্ সালাম উনার মুবারক রেহেম শরীফ-এ কুদরতীভাবে তাশরীফ নেন। ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর মর্যাদা শবে বরাত, শবে ক্বদরের চেয়েও বেশি। সুবহানাল্লাহ।
‘লাইলাতুর রগাইব’ এমন ফযীলতপূর্ণ রাত্রি, যে রাত্রিটি হচ্ছে তাসবীহ-তাহলীল, দোয়া-দুরূদ, ছলাত-সালাম, যিকির-আযকার, তওবা-ইস্তিগফার, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম, ছদকা-খইরাত, নামায-কালাম পাঠের রাত্রি। সর্বোপরি এ রাত্রিটি হচ্ছে রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত হাছিল করার ও দোয়া কবুলের রাত্রি।

গুরুত্ব

এ মুবারক রাত্রির ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে হাম্বলী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন ঘোষণা করলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুর রগাইব’-এর ফযীলত হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর ও লাইলাতুল বরাত অর্থাৎ শবে ক্বদর, শবে বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রি অপেক্ষা বেশি।” সুবহানাল্লাহ! তখন সমসাময়িক ইমাম ও ফক্বীহগণ উনার নিকট জানতে চাইলেন, “হে হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি! লাইলাতুল ক্বদর এবং লাইলাতুল বরাতের ফযীলত সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ বর্ণনা করেছেন। কিন' ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর ফযীলত সম্পর্কে কোথাও বর্ণনা করা হয়নি। তাহলে আপনি কিসের ভিত্তিতে ঘোষণা (ফতওয়া) দিলেন যে, ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর ফযীলত উক্ত ফযীলতপূর্ণ রাত্রিগুলো অপেক্ষা বেশি?”
হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জবাবে বলেন, “লাইলাতুল ক্বদর ও লাইলাতুল বরাত”-এর ফযীলত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত হয়েছে সত্যিই; কিন' লাইলাতুল ক্বদর ও লাইলাতুল বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রির সৃষ্টি হয়েছে লাইলাতুর রগাইবের উসীলায়। অর্থাৎ ‘লাইলাতুর রগাইব’ না হলে ‘লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল বরাতসহ’ ফযীলতপূর্ণ কোন রাত্রির সৃষ্টিই হতো না। এ কারণেই এ রাত্রির ফযীলত সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাত্রির চেয়ে বেশি। সুবহানাল্লাহ!
আল্লাহ পাক উনার কালাম পাক-এর ‘সূরা কাওছার’-এর ১ নম্বর আয়াত শরীফ-এ ইরশাদ করেছেন, “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার হাদিয়া করেছি।” সুবহানাল্লাহ! ‘কাওছার’-এর ব্যাখ্যায় একাধিক অর্থ উল্লেখ করা হয়- প্রথমতঃ ‘কাওছার’ বলা হয়েছে, হাউজে কাওছারকে। যা খাছ করে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া করেছেন এবং এটা পান করলে জান্নাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পানির পিপাসা লাগবে না। সুবহানাল্লাহ! দ্বিতীয়তঃ কাওছার-এর আরেকটি অর্থ হলো, খইরে কাছীর। অর্থ- যা অতি উত্তম, অনেক ভাল। অর্থাৎ আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যা কিছু হাদিয়া দিয়েছেন তা সর্বকালের জন্য, সর্বদিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম।
শুধু তাই নয়, এমনকি যা কিছু আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সংস্পর্শে এসেছে সেটাও সবচেয়ে মহান হয়ে গেছে। যেমন, সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা একমত হয়েছেন অর্থাৎ ইজমা হয়েছেন যে, আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে রওজা শরীফ-এ তাশরীফ রেখেছেন সে রওজা শরীফ-এর যে মাটি মুবারক উনার পা মুবারকে বা শরীর মুবারকে স্পর্শ করে আছে; তার মর্যাদা আরশে আযীমের চেয়েও লক্ষ কোটি গুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে মাটির কোন ক্বদর বা মূল্য ছিল না। কিন্তু শুধুমাত্র আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শের কারণে আরশে আযীমের চেয়ে মূল্যবান, ফযীলতপ্রাপ্ত ও সম্মানিত হয়েছে।
ঠিক একইভাবে বাজারে অনেক তরিতরকারী রয়েছে দেশে বিদেশে। কোন তরিতরকারীর সাথে ঈমানের কোন সম্পর্ক নেই। তবে কদুর সাথে ঈমানের সম্পর্ক রয়েছে। তার কারণ হলো এই যে, স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কদুকে পছন্দ করেছেন ও খেয়েছেন। সেজন্য কুরআন-সুন্নাহ মুতাবিক ইমাম-মুজতাহিদগণ উনারা ফতওয়া দিয়েছেন, কেউ যদি বলে ‘আমি কদুকে পছন্দ করি না, তাহলে সে কাট্টা কাফির হয়ে যাবে।’ প্রকৃতপক্ষে কদুর কোন মর্যাদা ছিল না। একমাত্র আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কদুর সম্পর্কের কারণে কদু যেহেতু মর্যাদাবান, ফযীলতপূর্ণ হয়েছে সেহেতু কদুকে পছন্দ করা, মুহববত করা ঈমানের শর্ত হিসেবে আরোপ করা হয়েছে।
ঠিক একইভাবে ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব শবে ক্বদর, শবে বরাত ও অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ রাত্রের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণ হলো, ‘লাইলাতুর রগাইব’-এর সম্পর্ক সরাসরি আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে।

আমল

‘লাইলাতুর রগাইব’ রাত্রিতে তাসবীহ-তাহলীল, দোয়া-দুরূদ, ছলাত-সালাম, যিকির-আযকার, তওবা-ইস্তিগফার, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম, ছদকা-খইরাত, নামায-কালাম পাঠ করা উচিত । মুসলমান হিসেবে প্রত্যেক মুসলমান সরকারের তো অবশ্যই এমনকি গায়ের মুসলমান (অমুসলিম) সরকারেরও উচিত ইসলামী ঐতিহ্য ও ফযীলতযুক্ত দিবসগুলোর মর্যাদা অনুধাবনে ও ফযীলত আহরণের সুবিধার্থে সেদিনগুলোতে সরকারিভাবে ছুটির দিন ঘোষণা ।

রাজারবাগ দরবার শরীফে আয়োজিত ওয়াজ শরীফ ও দোয়ার মাহফিল

ইসলামের বিশেষ দিনসমূহ

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

পবিত্র আশুরা মিনাল মুহর্‌রম

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ

পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াজদাহম

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয-যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

আফজালুন্ নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র পহেলা রজবের রাত

পবিত্র লাইলাতুর রাগায়ীব

সুলতানুল হিন্দ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র মি’রাজ শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ইমামুল হুমাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

পবিত্র লাইলাতুন নিস্‌ফে মিন শা’বান বা শবে বরাত

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর

পবিত্র ঈদুল ফিতর

পবিত্র ঈদুল আযহা

অডিও

ওয়াজ শরীফ

     ওয়াজ শরীফ ১
     ওয়াজ শরীফ ২

কাছিদা শরীফ

     কাছিদা শরীফ ১
     কাছিদা শরীফ ২