Banner Image

সুলতানুল হিন্দ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

এ দিনে (০৬ মাহে রজব) আওলিয়াকুল শিরোমণি, মুর্শিদকুলের মধ্যমণি, সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, আতায়ে রসূল, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি ৬৩৩ মতান্তরে ৬৩৪ হিজরী মুতাবিক ৬ই রজব সোমবার বিছাল শরীফ লাভ করেন ।
হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতার নাম মুবারক হযরত খাজা সাইয়্যিদ গিয়াসুদ্দীন আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং মাতার নাম মুবারক হযরত সাইয়্যিদা উম্মুল ওয়ারা রহমতুল্লাহি আলাইহা । হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পিতৃ ও মাতৃ দু’টি কুলই ছিল কুরাইশ গোত্রের শ্রেষ্ঠ শাখা সাইয়্যিদ বংশদ্ভূত। অর্থাৎ পিতা ও মাতা উভয়ের দিক দিয়ে হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্‌ নাবিয়্যীন, নূরে মুজাস্‌সাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী বা আওলাদ।
হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি সাড়ে সাত বছরে ইলমে যাহিরের উপর শিক্ষা লাভ করে পূর্ণতায় পৌঁছেন। আর সুদীর্ঘ সাড়ে ২০ বছর উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা শামসুল আরিফীন, মুসতাজাবুদ দা’ওয়াত হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতে থেকে ইলমে বাতিন বা ইলমে তাছাউফ উনার তাকমীলে পৌঁছেন। অর্থাৎ বিলায়েত, কামালত ও খিলাফত লাভ করেন।

গুরুত্ব

হাদীছ শরীফ-এর ছহীহ কিতাব ‘আবূ দাঊদ’ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক প্রতি হিজরী শতাব্দীর শুরুভাগে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করেন।
হাদীছ শরীফ-এর ঘোষণা অনুযায়ী হিজরী প্রথম শতাব্দী অর্থাৎ ছাহাবীগণের যুগ বাদ দিয়ে পরবর্তী হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে শুরু করে প্রত্যেক শতাব্দীতে আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্বায়িম-মাকাম হিসেবে একজন মুজাদ্দিদ প্রেরণ করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় হিজরী সপ্তম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ছিলেন সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি।
উনি আল্লাহ পাক উনার এমন খালিছ ও মকবুল ওলী। যিনি উম্মাহ’র জন্য চীশতিয়া তরীক্বা উপহার দিয়ে যান অর্থাৎ উনি ছিলেন এ তরীক্বার ইমাম। ক্বিয়ামত অবধি এ তরীক্বায় যারা দাখিল হবে আল্লাহ পাক তাদের জন্য ক্ষমা ও জান্নাতের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ পাক হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে এত ফযীলত ও মর্যাদা দান করেছেন যে, স্বয়ং উনার মুর্শিদ ক্বিবলা হযরত খাজা উছমান হারূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, আল্লাহ পাক যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন আপনি যমীনে আমার জন্য কি করে এসেছেন? জবাবে আমি বলবো, আল্লাহ পাক! আপনার মাহবুব বান্দা মুঈনুদ্দীনকে রেখে এসেছি। সুবহানাল্লাহ।
সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এমন এক মর্যাদা সম্পন্ন ওলী যাঁকে স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রওযা শরীফ-এর কাছে ডেকে এ উপমহাদেশের লোকদের হিদায়েতের উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছেন। উনি মুবারক নির্দেশ পেয়ে হিন্দুস্থানে আসেন এবং দ্বীনের দাওয়াত ও তা’লীমে মশগুল হয়ে যান। বর্ণিত রয়েছে, উনার দ্বীনি দাওয়াত ও তা’লীম-তরবীয়তের উসীলায় এক কোটি’রও বেশি বিধর্মী দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হন। সুবহানাল্লাহ।
উনি আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ-নিষেধগুলো তথা শরীয়ত ও সুন্নতের এত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পূঙ্খানুপূঙ্খ অনুসরণ, পালন ও বাস্তবায়ন করার কোশেশ করেন যার ফলশ্রুতিতে উনি বিছাল শরীফ লাভ করার পর উনার কপাল মুবারক-এ কুদরতীভাবে সোনালী অক্ষরে লিখিত হয়েছিল “হাযা হাবীবুল্লাহ, মাতা ফী হুব্বিল্লাহ” অর্থ: উনি আল্লাহ পাক উনার হাবীব, আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে বিদায় গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ আওলিয়ায়ে কিরামগণের মধ্যে আল্লাহ পাক তাঁকে হাবীব বা খাছ বন্ধু হিসেবে কবুল করে নেন। সুবহানাল্লাহ।

আমল

গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ হযরত মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী আলোচনা করার মাধ্যমে ইবরত-নছীহত হাছিল করে খালিছ আল্লাহওয়ালা হওয়ার এবং মুসলমানদের মাঝে ঈমানী জযবা ও রূহানী কুওওয়াত পয়দা করতে উনার বরকতময় জীবনী বেশি বেশি পড়া উচিত ও বাংলাদেশসহ সকল মুসলিম দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উনার বরকতময় জীবনী মুবারক সিলেবাসভুক্ত উচিত।
মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকেরই উচিত- মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামী ফযীলতযুক্ত দিন সম্পর্কে অবগত থাকা। তার চেতনাবোধে ও মর্যাদা-মর্তবা অনুধাবনে দেশের নাগরিকদের অনুপ্রাণিত করা। হযরত খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহ পাক উনার খাছ মনোনীত বান্দা। উনাকে যে খাছভাবে মুহব্বত ও অনুসরণ করতে পারবে সেও আল্লাহওয়ালা হবে। মুসলমান হিসেবে প্রত্যেক মুসলমান সরকারের তো অবশ্যই এমনকি গায়ের মুসলমান সরকারেরও উচিত ইসলামী ঐতিহ্য ও ফযীলতযুক্ত দিবসগুলোর মর্যাদা অনুধাবনে ও ফযীলত আহরণের সুবিধার্থে সেদিনগুলোতে সরকারিভাবে ছুটির দিন ঘোষণা করা।

ইসলামের বিশেষ দিনসমূহ

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

পবিত্র আশুরা মিনাল মুহর্‌রম

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ

পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াজদাহম

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয-যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

আফজালুন্ নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র পহেলা রজবের রাত

পবিত্র লাইলাতুর রাগায়ীব

সুলতানুল হিন্দ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র মি’রাজ শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ইমামুল হুমাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

পবিত্র লাইলাতুন নিস্‌ফে মিন শা’বান বা শবে বরাত

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর

পবিত্র ঈদুল ফিতর

পবিত্র ঈদুল আযহা

অডিও

ওয়াজ শরীফ

     ওয়াজ শরীফ ১
     ওয়াজ শরীফ ২

কাছিদা শরীফ

     কাছিদা শরীফ ১
     কাছিদা শরীফ ২