Bengali | English
Banner Image

হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

১৩ হিজরীর এই দিনে (২৩ জুমাদাল উখরা) সোমবার দিবাগত রাত্রিতে সাইয়্যিদুছ্‌ ছাহাবা, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছিদ্দীক্বে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার পবিত্র বিছাল শরীফ সংঘটিত হয় ।
তাঁর নাম- আব্দুল্লাহ। উপনাম- আবু বকর। লক্বব (উপাধি)- আতীক ও ছিদ্দীক্ব্ব। পিতার নাম- উছমান। উপনাম- আবু কুহাফা। মাতার নাম- সালমা, উপনাম- উম্মুল খায়ের। পিতা মাতা মুসলমান তথা ছাহাবী ছিলেন এবং তাঁরা উভয়েই ছিলেন কুরাঈশ।
পৃথিবীর ইতিহাসে যে কয়েকটি বংশ সবার্ধিক পরিচিত, তার মধ্যে আরবের কুরাঈশ বংশ অন্যতম । এ বংশেই সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আফদ্বালুন্‌ নাস বা’দাল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বিলাদত শরীফ লাভ করেন। অর্থাৎ তাঁদের দু’জনেরই উপগোত্র দু’টি হাশিম ও তায়িম উর্ধ্বতন সপ্তম পুরুষ মোররাহ-এর সাথে মিলে যায়। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৫৭০ ঈসায়ীতে যমীনে তাশরীফ নেন। এর দু’বছর তিন মাস পরে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাশরীফ গ্রহণ করেন। আবার হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৬৩২ ঈসায়ীতে যমীন থেকে বিদায় নেয়ার দু’বছর তিন মাস পর হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বিদায় গ্রহণ করেন। অর্থাৎ উভয়ের পবিত্র হায়াতকাল ছিল ৬৩ বছর। স্বাধীন পুরুষদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী।

গুরুত্ব

কালাম পাকে স্বয়ং আল্লাহ পাক একাধিক স্থানে তাঁর ছানা-ছিফত করেছেন। তাঁর প্রশংসায় অসংখ্য হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। মুদ্দাকথা, নবী-রসূল আলাইহিমুস্‌ সালাম-এর পরে যিনি একক মর্যাদার অধিকারী তিনিই ছিদ্দীক্বে আকবর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তাঁর মর্যাদা স্বল্প পরিসরে উল্লেখ করা দুস্কর। এমন কোন ভাষা নেই যে ভাষায় তাঁর জীবনীগ্রন্থ রচিত হয়নি।
নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিছাল শরীফ-এর পর নবীর গুরুভার ও গুরু দায়িত্বকে কাঁধে নেয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিদ্দীক্বে আকবর হযরত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। একজন মানুষের মধ্যে যে অসাধারণ গুণাবলীর সমাবেশ ঘটলে, আল্লাহ পাক-এর অকুণ্ঠ রহমত প্রাপ্ত হলে, তবেই তিনি এহেন নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন। হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাই ইসলাম জগতে এক নজিরবিহীন বিরল ব্যক্তিত্ব।
নুবুওওয়াতের পর তাঁর ইমামত ও খিলাফত সকলেই বিনা দিধায় মেনে নেন। হাদীছ শরীফ-এ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যেই জামায়াতে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উপস্থিত থাকবেন সেখানে তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইমামতি করা উচিত হবে না।” (তিরমিযী শরীফ)। তিনি আরো ইরশাদ করেন, “আমি আমার রব আল্লাহ পাক ছাড়া যদি আর কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম তাহলে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকেই বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম।” (মুয়াত্তা শরীফ) মুয়াত্তা শরীফ-এ আরো বর্ণিত হয়েছে, একদা জনৈক মহিলা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে কোন বিষয়ে কথাবার্তা বলল। তিনি তাকে পুনরায় আসতে বললেন, তখন মহিলাটি বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আবার এসে যদি আপনাকে না পাই, তখন কি করব? উত্তরে তিনি বললেন, তুমি যদি আমাকে না পাও, তবে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর নিকট এসো।
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি আমার (ছওর) গুহার সঙ্গী এবং হাউযে কাওছারে আমার সাথী। (তিরমিযী শরীফ)। তাঁর ছওর গুহার সঙ্গী হওয়ার বিষয়টি মহান আল্লাহ পাক তাঁর কালাম পাকে উল্লেখ করেছেন। এর ফযীলত বর্ণনা প্রসঙ্গে স্বয়ং হযরত উমর ফারূক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি আন্তরিকভাবে এই আকাঙ্খা পোষণ করি যে, আমার গোটা জীবনের আমল যদি হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর জীবনের এক রাত্রির আমলের সমান হত! তা সেই রাত্রি, যেই রাত্রিতে তিনি হিজরতের সফরে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে ছওর গুহার দিকে রওনা হন। (রযীন)
তিনি তাঁর সবকিছু আল্লাহ পাক ও তাঁর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য কুরবান করে উম্মতের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত এক উজ্জ্বল আদর্শ স্থাপন করে গেছেন।

আমল

প্রত্যেক মুসলিম অমুসলিম সরকারের উচিত ২৩শে জুমাদাল উখরায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করা এবং আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মর্যাদা-মর্তবা ফুটিয়ে তোলা। ইসলামী চেতনা ও আদর্শ প্রতিফলনের মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রচেষ্ট হওয়া।

রাজারবাগ দরবার শরীফে আয়োজিত ওয়াজ শরীফ ও দোয়ার মাহফিল

ইসলামের বিশেষ দিনসমূহ

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

পবিত্র আশুরা মিনাল মুহর্‌রম

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ

পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াজদাহম

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয-যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

আফজালুন্ নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র পহেলা রজবের রাত

পবিত্র লাইলাতুর রাগায়ীব

সুলতানুল হিন্দ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র মি’রাজ শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ইমামুল হুমাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

পবিত্র লাইলাতুন নিস্‌ফে মিন শা’বান বা শবে বরাত

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর

পবিত্র ঈদুল ফিতর

পবিত্র ঈদুল আযহা

অডিও

ওয়াজ শরীফ

     ওয়াজ শরীফ ১
     ওয়াজ শরীফ ২

কাছিদা শরীফ

     কাছিদা শরীফ ১
     কাছিদা শরীফ ২