বাংলা | English
পবিত্র ঈদুল ফিতর এর ব্যানার

পবিত্র ঈদুল ফিতর

পবিত্র শাওওয়াল মাসের পহেলা তারিখ পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। রমাদ্বান শরীফ-এর এক মাস রোযা রাখার পর মুসলমানগণ ঈদুল ফিতরের মাধ্যমে আনন্দ উদযাপন করেন। ঈদের দিনগুলোতে আল্লাহ পাক অগণিত নিয়ামত বর্ষণ করেন। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম একটি ঈদ। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, প্রত্যেক ক্বওম বা সম্প্রদায়ের খুশির দিন রয়েছে; আর মুসলমানদের ঈদ বা খুশির দিন হচ্ছে- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।
হাদীছ শরীফ-এ আরো উল্লেখ আছে, হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি মদীনা শরীফ-এ তাশরীফ এনে দেখেন মদীনাবাসী বৎসরে দুই দিন খুশি প্রকাশ করে থাকে। উনি উনাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- এ দুই দিন কিসের? জবাবে উনারা বললেন, আমরা জাহিলিয়াতের যুগ থেকেই এ দুই দিন খুশি প্রকাশ করে থাকি। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনি আপনাদের (মুসলমানদের) জন্য এর পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম ও ফযীলতপূর্ণ দুটি দিন দিয়েছেন। একটি হলো ঈদুল আযহা, আরেকটি হলো- ঈদুল ফিতর।

গুরুত্ব

ঈদুল ফিতর-এর রাতটি যেরূপ মর্যাদাসম্পন্ন তদ্রূপ দিনটিও অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ করেন, “পাঁচ রাতে নিশ্চিতভাবে দোয়া কবুল হয়- এক. রজব মাসের পহেলা রাত, দুই. বরাতের রাত, তিন. ক্বদরের রাত, চার. ঈদুল ফিতর ও পাঁচ. ঈদুল আযহার রাত।”
হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদতে মশগুল থাকবে, যেদিন অন্য সমস্ত দিল মরবে, সেদিন তাঁর দিল মরবে না। এর অর্থ হলো, ক্বিয়ামতের দিন অন্যান্য দিল পেরেশানীতে থাকলেও দু’ঈদের রাতে জাগরণকারী ব্যক্তির দিল শান্তিতে থাকবে।
আর ঈদের দিনের ফযীলত সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, যখন ঈদুল ফিতর-এর দিন শুরু হয়ে যায় তখন আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী খাছ ফেরেশতাগণ উনাদেরকে লক্ষ্য করে বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ! কেউ যখন তার কাজ শেষ করে তখন করণীয় কি? জবাবে ফেরেশতাগণ বলেন, করণীয় হচ্ছে তার পারিশ্রমিক আদায় করে দেওয়া। তখন মহান আল্লাহ পাক উনি বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ আমার বান্দা ও বান্দীগণ তাদের প্রতি নির্দেশিত ফরয পালন করেছে। অতঃপর তারা আমার নিকট দোয়া করার জন্য ঈদগাহে আসছে। হে ফেরেশতাগণ! আমার ইজ্জতের কসম, জালালিয়াতের কসম এবং সুমহান মর্যাদার কসম, আমি তাদের দোয়াগুলো অবশ্যই কবুল করবো এবং তাদের গুনাহগুলোকে নেকীতে পরিবর্তন করে দিব। অতঃপর ঈদগাহ থেকে বান্দারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ঘরে ফিরে। সুবহানাল্লাহ!
মুসলমানগণ যাতে যথাযথভাবে ঈদ পালন করতে পারে, সেজন্য আল্লাহ পাক উনি বৎসরে ৫ দিন রোযা রাখা হারাম করে দিয়েছেন। দুই ঈদের দুই দিন আর কুরবানীর ঈদের পর ৩ দিন। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, তোমরা এ দিনগুলোতে রোযা রেখো না; কেননা এদিনগুলো তোমাদেরকে খানা-পিনা ও ঈদ বা খুশি প্রকাশ করার জন্য দেয়া হয়েছে।
প্রকৃতপক্ষে এ মুবারক দিনটি নেককারদের জন্য খুশির দিন। আর যারা পাপিষ্ঠ তাদের জন্য এ দিনটি খুশির নয় বরং দুঃখের। যেমন কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি এ মাস (রমাদ্বান শরীফ) ইবাদত-বন্দিগীতে কাটিয়ে দিয়েছে তাঁর জন্য এদিন আনন্দ ও খুশির। আর যে অন্যায় কাজে অতিবাহিত করেছে তার জন্য দুঃখ। যে ব্যক্তি ভাল ভাল পানাহার করেছে ঈদ তার জন্য নয়। ঈদ হলো, আল্লাহ পাক উনার সন'ষ্টি লাভের জন্য যিনি ইবাদত করেছেন। নতুন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধানকারীর জন্যও ঈদ নয়। ঈদ হলো, যিনি বিচার দিবসকে ভয় করেন। উদ-সুগন্ধি কাষ্ঠে নিজেকে সুগন্ধি করেছে তার জনও ঈদ নয়। বরং ঈদ হলো ওই ব্যক্তির জন্য, যিনি একনিষ্ঠভাবে তওবা-ইস্তিগফার করেছেন। খাদ্য পাকানো ডেগচি যে উনানে দিয়েছে তার জন্যও ঈদ নয়। ঈদ হলো, যিনি সাধ্যমত পরিশ্রম করেছেন। এভাবে যানবাহনে আরোহণকারীর জন্যও ঈদ নয়। প্রকৃত ঈদ হচ্ছে ওই ব্যক্তির জন্য, যিনি গুনাহকে চিরতরে বর্জন করতে পেরেছেন।’
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, একদা ঈদুল ফিতরের দিনে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট গেলেন। গিয়ে দেখলেন, ঘরের দরজা বন্ধ করে উনি কাঁদছেন। হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি আরজ করলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি কাঁদছেন অথচ লোকেরা ঈদের আনন্দে মুখর। হযরত উমর ফারুক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি বললেন, “আনন্দে মুখর ব্যক্তিরা যদি জানতো, তাহলে তারা আনন্দ-উৎসব করতো না। অতঃপর পুনরায় উনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তাদের আমল যদি কবুল হয়ে থাকে তবে তারা আনন্দ করুক। আর যদি কবুল না হয়ে থাকে তথা বর্জিত হয়ে থাকে তবে তারা কাঁদুক। কিন্তু আমি জানি না, আমার আমল কবুলের পর্যায়ভুক্ত না বর্জিতের অন্তর্ভুক্ত।”
ঈদ মুসলমানদের জন্য মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত। এ দিনগুলোকে সম্মান করা ও এর পবিত্রতা রক্ষা করা সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব।

আমল

ঈদের দিন অতিশয় সম্মান ও মর্যাদার দিন। এদিন হতে কা’বা শরীফ-এ হজ্জের প্রস্থতি শুরু হয়। এদিনে রোযার পূর্ণতার জন্য নির্ধারিত পন্থায় হামদ-তাকবীর পাঠ করার আর হালাল উপার্জিত মাল হতে ব্যয় করার নির্দেশ হয়েছে।
কাজেই ঈদ আনন্দের নামে হৈ-হুল্লোর, অশ্লীল পোশাক, অশ্লীল আনন্দ যেমন গান-বাজনা, সিনেমা-নাটক, টিভি চ্যানেল, বেপর্দা-বেহায়ায়ী ইত্যাদি পরিহারে মুসলমানকে অনিবার্যভাবে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি সরকারকে তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারের জন্য আরো দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- মুসলমানদের শরীয়তসম্মত ও যথাযথভাবে ঈদ পালন করার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারসহ প্রত্যেক মুসলিম অমুসলিম সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- কমপক্ষে ৭ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা। পাশাপাশি মুসলমানরা যেন শরীয়তসম্মত ও যথাযথভাবে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করতে পারে সেজন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করাও সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য।

ইসলামের বিশেষ দিনসমূহ

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

পবিত্র আশুরা মিনাল মুহর্‌রম

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ

পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াজদাহম

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয-যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

আফজালুন্ নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র পহেলা রজবের রাত

পবিত্র লাইলাতুর রাগায়ীব

সুলতানুল হিন্দ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র মি’রাজ শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ইমামুল হুমাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

পবিত্র লাইলাতুন নিস্‌ফে মিন শা’বান বা শবে বরাত

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর

পবিত্র ঈদুল ফিতর

পবিত্র ঈদুল আযহা

অডিও

ওয়াজ শরীফ

     ওয়াজ শরীফ ১
     ওয়াজ শরীফ ২

কাছিদা শরীফ

     কাছিদা শরীফ ১
     কাছিদা শরীফ ২