বাংলা | English
পবিত্র ঈদুল আযহা এর ব্যানার

পবিত্র ঈদুল আযহা

পবিত্র যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আযহার দিন। ঈদের দিনগুলোতে আল্লাহ পাক অগণিত নিয়ামত বর্ষণ করেন। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, প্রত্যেক ক্বওম বা সম্প্রদায়ের খুশির দিন রয়েছে; আর মুসলমানদের ঈদ বা খুশির দিন হচ্ছে- ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।
হাদীছ শরীফ-এ আরো উল্লেখ আছে, হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মদীনা শরীফ-এ তাশরীফ এনে দেখেন মদীনাবাসী বৎসরে দুই দিন খুশি প্রকাশ করে থাকে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন- এ দুই দিন কিসের? জবাবে তারা বললো, আমরা জাহিলিয়াতের যুগ থেকেই এ দুই দিন খুশি প্রকাশ করে থাকি। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের (মুসলমানদের) জন্য এর পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম ও ফযীলতপূর্ণ দুটি দিন দিয়েছেন। একটি হলো ঈদুল আযহা, আরেকটি হলো- ঈদুল ফিতর।

গুরুত্ব

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “পাঁচ রাতে নিশ্চিতভাবে দোয়া কবুল হয়- এক. রজব মাসের পহেলা রাত, দুই. বরাতের রাত, তিন. ক্বদরের রাত, চার. ঈদুল ফিতর ও পাঁচ. ঈদুল আযহার রাত।”
হযরত আবু উমামাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ঈদের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দিগীতে কাটাবে; যখন সমস্ত অন্তরগুলো মৃত থাকবে তখন তার অন্তর জীবিত থাকবে।” এর অর্থ হলো, ক্বিয়ামতের দিন অন্যান্য দিল পেরেশানীতে থাকলেও দু’ঈদের রাতে জাগরণকারী ব্যক্তির দিল শান্তিতে থাকবে।
মুসলমানগণ যাতে যথাযথভাবে ঈদ পালন করতে পারে, সেজন্য আল্লাহ পাক তিনি বৎসরে ৫ দিন রোযা রাখা হারাম করে দিয়েছেন। দুই ঈদের দুই দিন আর কুরবানীর ঈদের পর ৩ দিন। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, তোমরা এ দিনগুলোতে রোযা রেখো না; কেননা এদিনগুলো তোমাদেরকে খানা-পিনা ও ঈদ বা খুশি প্রকাশ করার জন্য দেয়া হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ও কুরবানীর দিনের গুরুত্ব, তাৎপর্য, ফাযায়িল, ফযীলত প্রসঙ্গে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আদম সন্তানগণ ইয়াওমুন্‌ নহর বা কুরবানীর দিন যা আমল করে তন্মধ্যে রক্ত প্রবাহিত করা বা কুরবানী করা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক প্রিয়।
মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত দাউদ আলাইহিস্‌ সালাম উনাকে বলেন, হে হযরত দাউদ আলাইহিস্‌ সালাম! আপনি কুরবানী করুন। হযরত দাউদ আলাইহিস্‌ সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি শুধু আমার জন্যই? আল্লাহ পাক তিনি বলেন, না- এটা হযরত আদম আলাইহিস্‌ সালাম উনার থেকে শুরু করে আখিরী রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর্যন্ত জারি থাকবে। হযরত দাউদ আলাইহিস্‌ সালাম তিনি বলেন, আখিরী নবী, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের জন্য কুরবানীর মধ্যে কী ফযীলত রয়েছে ? আল্লাহ পাক তিনি বলেন, দুনিয়াবী হায়াতে প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে দশটি নেকী দেয়া হবে, দশটি গুনাহ ক্ষমা করা হবে এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। (সুবহানাল্লাহ) আর পরকালে কুরবানীর পশুর মাথার প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একজন করে হুর দেয়া হবে। শরীরের প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে বালাখানা দেয়া হবে। প্রতিটি গোশতের টুকরার বিনিময়ে একটি করে পাখি দেয়া হবে আর প্রতিটি হাড়ের বিনিময়ে একটি করে বোরাক দেয়া হবে। (সুবহানাল্লাহ)
কাজেই প্রত্যেকের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো, যিলহজ্জ মাসের হক্ব আদায় করা, ঈদের রাতে দোয়া করা, ঈদের দিন প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কুরবানী করা। কারণ, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আপনার রব তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে নামায আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।” আর হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “কুরবানী করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করবে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।”

আমল

প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, ঈদের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দিগী, তওবা-ইস্তেগফার ও দোয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা এবং ঈদের দিন প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য ইখলাছের সাথে কুরবানী করা।
৯ই জিলহজ্জ ফজর নামায থেকে তাকবীর পাঠ শুরু হয়ে জারি থাকবে ১৩ই জিলহজ্জ আছর পর্যন্ত। মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর তাকবীর বলবে- ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য ফতওয়া হলো- পুরুষ হোক, মহিলা হোক, মুক্বীম হোক, মুসাফির হোক, একা হোক বা জামায়াতে হোক প্রত্যেকের জন্য প্রতি ফরয নামাযের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব আর তিনবার পাঠ করা সুন্নত।
মুসলমানগণ যেন পরিপূর্ণভাবে ঈদুল আযহার হক্ব আদায় করতে পারে সেজন্য প্রত্যেক মুসলিম-অমুসলিম দেশের সরকারের জন্য ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা করা দায়িত্ব ও কর্তব্য। অর্থাৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ২০ দিন আর অফিস-আদালত কমপক্ষে ১০ দিন অবশ্যই ছুটি দেয়া সরকারি ও বেসরকারি সকলেরই দায়িত্ব। পাশাপাশি মুসলমানরা যেন শরীয়তসম্মত ও যথাযথভাবে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করতে পারে সেজন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করাও সরকারের দায়িত্ব-কর্তব্য।

ইসলামের বিশেষ দিনসমূহ

সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

পবিত্র আশুরা মিনাল মুহর্‌রম

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ

পবিত্র ফাতিহায়ে ইয়াজদাহম

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত ফাতিমাতুয-যাহরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

আফজালুন্ নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র পহেলা রজবের রাত

পবিত্র লাইলাতুর রাগায়ীব

সুলতানুল হিন্দ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্‌তী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছাল শরীফ

পবিত্র মি’রাজ শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুশ শুহাদা, ইমামুল হুমাম হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ

পবিত্র লাইলাতুন নিস্‌ফে মিন শা’বান বা শবে বরাত

পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর

পবিত্র ঈদুল ফিতর

পবিত্র ঈদুল আযহা

অডিও

ওয়াজ শরীফ

     ওয়াজ শরীফ ১
     ওয়াজ শরীফ ২

কাছিদা শরীফ

     কাছিদা শরীফ ১
     কাছিদা শরীফ ২