অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ২২ মার্চ, ২০১২
 
৬৫ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত
চাষীদের পাওনা, বেতন ও সার ক্রয় নিয়ে বিপাকে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল
আইএনবি:

নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের গুদামে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার চিনির মজুদ নিয়ে বিপাকে পড়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় অর্থাভাবে আখচাষীদের পাওনা, চিনিকলের কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন পরিশোধ এবং আখ ক্ষেতে প্রয়োগের জন্য সার ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব ব্যায় মেটাতে চিনিকলটির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার প্রয়োজন। চিনিশিল্প কর্পোরেশনের নির্ধারিত ডিলাররা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত চিনি নিয়মিত উত্তোলন না করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল সূত্রে জানা যায়, ২০১০-২০১১ আখ মাড়াই মৌসুমের ২ হাজার মেট্রিক টনসহ মোট ১১ হাজার ৮’শ ২.৪৫ মেট্রিক টন চিনি বর্তমানে চিনিকলের গুদামে মজুদ রয়েছে। যার মূল্য ৬৪কোটি ৯১লক্ষ ৩৪হাজার ৭’শ ৫০টাকা। প্রায় ৬মাস ধরে চিনিশিল্প কর্পোরেশনের নির্ধারিত ডিলাররা তাদের জন্য বরদ্দকৃত চিনি নিয়মিত উত্তোলন করছেন না। সেপ্টেম্বর ২০১১ মাস থেকে জানুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত ২হাজার ২শ’ ৬৬.৮৫ মে:টন টন বরাদ্দের মাত্র ৪শ’ ১মে:টন চিনি উত্তোলন করেছেন তারা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ১৪শ’ মেট্রিক টন চিনি খোলা বাজারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে মাত্র ২০ মে: টন চিনি বিক্রি হয়েছে। এদিকে, অর্থ সংকটের কারণে আখ ক্রয় বাবদ আখচাষীদের পাওনা প্রায় ৩কোটি টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। মার্চ মাসের ২১ তারিখ পেরিয়ে গেলেও চিনিকলের কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারী মাসের বেতন ভাতা বকেয়া রয়েছে। বেতন ভাতা প্রদানে প্রয়োজন প্রায় ১কোটি টাকা। এছাড়া মিলের নিজস্ব আখ ক্ষেতে প্রয়োগ এবং আখচাষীদের মাঝে ঋণ হিসাবে বিতরণের জন্য ফেব্রুয়ারী মাসের বরাদ্দকৃত ৫শ’ মে:টন ইউরিয়া সার উত্তোলন করতে না পারায় ২৯মার্চ পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। এ মৌসুমের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৫০ মে:টন এমওপি সারও উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এজন্য দরকার দেড় কোটি টাকা। সব মিলে এই মূহুর্তে চিনিকলটির প্রায় সাড়ে ৫কোটি টাকার প্রয়োজন। চিনিকলের কৃষি মহাব্যবস্থাপক আকতার জামিল জানান, এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সার উত্তোলন সম্ভব না হলে যথা সময়ে আখ ক্ষেতে উপরি সার প্রয়োগ বিলম্বিত হবে। এতে করে আখ গাছের বাড়ন্ত (বৃদ্ধি) কম হবে। ফলে ফলনও কমে যাবে।
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবর রহমান জানান, ডিলাররা নিয়মিত চিনি উত্তোলন করছেন না। আবার খোলা বাজারে চিনি বিক্রির ঘোষনাতেও ব্যবসায়ীদের উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে চিনি বিক্রি না হওয়ায় চিনিকলটি অর্থ সংকটে পড়েছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় চিনি ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন জানান, বর্তমানে পাইকারী বাজারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত চিনির মূল্য কেজি প্রতি ৫৩ টাকা। অথচ চিনিকলে প্রতি কেজি চিনির মূল্য ৫৫ টাকা তার সাথে রয়েছে পরিবহন খরচ। ফলে চিনিকল থেকে চিনি ক্রয় করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal