অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন...

al-ihsan.net
বাংলা | English

দেশের খবর - ২২ মার্চ, ২০১২
 
মার্চ : স্বাধীনতা অর্জনের মাস
আল ইহসান ডেস্ক:

আজ ২২ মার্চ। একাত্তরের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে ৭৫ মিনিটব্যাপী বৈঠক করেন। সঙ্কট নিরসনে এ বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও জুলফিকার আলী ভুট্টো একে অভিহিত করেন ‘উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা’ হিসেবে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে ঘিরে তৈরি হচ্ছিলো রহস্যময়তা। আলোচনার আড়ালে পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের দমন করতে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা আঁটছিলো। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের বলেন, ৪ দফা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা জাতীয় পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে পারি না।
এদিকে আলোচনা চলার সময় প্রেসিডেন্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা অপেক্ষমান সাংবাদিকদের কাছে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। ঘোষণায় জানানো হয়, পাকিস্তানের দু’অংশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সমঝোতার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ২৫ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করেছেন।
এ ঘোষণার প্রতিবাদে সর্বত্র বিক্ষোভের ঝড় উঠে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার রাজপথ উত্তাল করে রাখে অগণিত মিছিল। স্বাধীনতা অর্জনের দীপ্ত শপথে উদ্দীপ্ত আর ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে মুখর প্রতিটি মিছিলের গন্তব্য ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাসভবন। বঙ্গবন্ধু সেখানে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি ঘোষণা করেন, সাত কোটি মানুষের মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে। এই সংগ্রামে আমরা অবশ্যই জয়ী হবো। বন্দুক, কামান, মেশিনগান কিছুই জনগণের স্বাধীনতা রোধ করতে পারবে না। এদিন প্রতিবাদে উদ্দীপ্ত জনতা গর্জে উঠেছিলো সমুদ্রের মতো। প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল দেশব্যাপী। অসহযোগ আন্দোলনের ২১ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর প্রতিটি পত্রিকায় মুদ্রিত হয় ‘স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ নির্ধারিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ছবি।
এদিন বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে শিশু-কিশোরদের এবং কর্নেল (অব.) এমএজি ওসমানীর পরিচালনায় পল্টন ময়দানে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক বাঙালি সৈনিকদের সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশ থেকেই আসন্ন স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের শপথ নেন উপস্থিত সবাই। বিমান, নৌ ও স্থলবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সব সৈনিকের প্রতি নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগ, সংগ্রাম পরিষদ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা করে অসহযোগ আন্দোলনকে সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
একই দিনে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমান শেরাটন হোটেল) এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভুট্টো বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সন্তোষজনক বৈঠক হয়েছে। একইসঙ্গে আবার আলোচনায় বসার ব্যাপারেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে ন্যাপ ওয়ালি নেতা খান আবদুল (ওয়ালি) খান, কাউন্সিল মুুসলিম লীগ নেতা মিয়া মমতাজ মুহম্মদ দৌলতানা এবং জমিয়তে উলামা-ই ইসলাম নেতা মাও. মাহমুদ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা মন্তব্য করেন, জাতীয় পরিষদ অধিবেশনই হচ্ছে জাতীয় বিষয়াদি আলোচনা ও সমাধানের একমাত্র স্থান।
রাতে প্রেসিডেন্ট ভবনে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠকে মিলিত হয় মিয়া মুসলিম লীগ প্রধান মিয়া মমতাজ মুহম্মদ দৌলতানা, ন্যাপ ওয়ালি প্রধান খান আবদুল ওয়ালি খান, ন্যাপ নেতা মীর গাউস বক্স বেজেঞ্জো, জমিয়তে উলামায়ে মহাসচিব মওলানা মাহমুদ ও সর্দার শওকত হায়াত খান। বৈঠকের পর তারা ঘোষণা করে যে, আলোচনা না করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেছেন।







For the satisfaction of Mamduh Hazrat Murshid Qeebla Mudda Jilluhul Aali
Site designed & developed by Muhammad Shohel Iqbal