দেশের খবর - ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১২
বিরোধীদলীয় নেতা ‘লাশের রাজনীতি’ করছেন দাবি করে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেছেন, লাশ ফেলবেন। লাশের ওপর পা দিয়ে ক্ষমতায় যাবেন। আপনার সবসময় লাশ চাই। লাশের রাজনীতি বন্ধ করুন। গণভবনে রোববার পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।গত ২৯ জানুয়ারি চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে গণমিছিলের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির চার জন নিহত হয়। খালেদা জিয়া গত এক সপ্তাহে দুটি জেলায় গিয়ে নিহতদের প্রতিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ক্ষমতায় গেলে এর বিচারের আশ্বাস দেন। বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেই লাশ ফেলবেন, আবার মায়াকান্না করবেন, এগুলো বাদ দেন। জনগণ এসব বোঝে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ আতঙ্কে ছিল। বিএনপি চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সরকার উৎখাতের ধমক দিচ্ছেন। আন্দোলন করছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য। যে তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে আপনারা সোচ্চার ছিলেন, আবার তা চাচ্ছেন কেন? আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে যোগ হয়েছিল। তবে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এই পদ্ধতি বাতিল করে। এখন তা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করেছিলাম, তখন ১০টা হোন্ডা আর ১০টা গু-া দিয়ে নির্বাচন ঠা-া করে দেওয়া যেত। বিএনপি আমলে মাগুরা উপ-নির্বাচন এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছিলো, তখন তার যুক্তি ছিল। এখন নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির যৌক্তিকতা কোথায়? তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে বিএনপির আন্দোলন কার্যত যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে তারা সরকার উৎখাত করতে চাচ্ছে। দুর্নীতির দায় থেকে রক্ষা পেতে তাদের এই আন্দোলন। এগুলো করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে পারবেন না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে, যোগ করেন হাসিনা। বিরোধীদলীয় নেতার বেশ কিছু বক্তব্য প্রসঙ্গে তাকে উদ্দেশ্য করেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, বাজে কথা বলবেন না। মানুষ আপনার মুখ থেকে বাজে কথা আশা করে না। এসব বলার আগে আপনার নিজের চেহারা আয়নায় দেখে নেবেন। সংসদের কয়েকটি আসনের উপনির্বাচন এবং স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হওয়ার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনও দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু হবে। শেখ হাসিনা বলেন, এবার সর্বসাকুল্লে সাড়ে পাঁচ হাজার নির্বাচন হয়েছে। কোনো নির্বাচন নিয়ে টু শব্দটি হয়নি। কেউ কোনো অভিযোগ করতে পারেনি। দলকে শক্তিশালী করতে পঞ্চগড় তথা তৃণমূল নেতাদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে তৎপর হতে বলেন তিনি। সভায় পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম সুজন ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল হক প্রধানের নেতৃত্বে বিভিন্ন শাখার নেতারা অংশ নেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, কাজী জাফর উল্যাহ ও সতীশ চন্দ্র রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সভায় ছিলেন।
|