 |
আধুনিক ও টেকসই জাতীয় পরিচয়পত্র আসছে
আইএনবি
জালিয়াতি ও অপব্যবহার রোধে টেকসই ও আধুনিক জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য ৫ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে ইসি। তাদের অনুরোধে ঋণ কিংবা অনুদানের জন্য যোগাযোগ শুরু করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ইসির। ২০০৮ সালে দেশে প্রথম জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা হয়। অফসেট কাগজে ছাপানো ওই পরিচয়পত্র লেমিনেটিং করে দেওয়া হয় ৮ কোটি প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিককে। ওই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছিলো ৫৪৭ কোটি টাকা। কিন' ওই পরিচয়পত্র জাল করা সহজ হওয়ায় এখন অত্যাধুনিক পিভিসি (ম্যালামাইন পেপারে), পিইটিজি (ট্রান্সপারেন্ট শিট) বা পলি কার্বনেট (প্লাস্টিক জাতীয়) দিয়ে পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইআরডি সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া শনিবার বলেন, "ইসি সচিবালয় সিটিজেন আইডেন্টিটি অ্যান্ড সার্ভিস ডেলিভারি : সাপোর্ট টু ন্যাশনাল আইডেন্টিটি নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঋণ-অনুদান সহায়তা সংগ্রহে দাতা সংস্থা ও দেশের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি।" গত ২ মার্চ ইআরডি সচিবের কাছে দেওয়া পত্রে জানানো হয়, বর্তমানে বিতরণ করা অফসেট কাগজে লেমিনেটেড পরিচয়পত্রের অপব্যবহার বা জালিয়াতির সুযোগ রয়েছে। তাই জাতীয় পরিচয়পত্রের স্থায়িত্ব, সঠিকতা, মান, নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমপ্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অপরাধী ও রোহিঙ্গারা পরিচয়পত্র জাল করছে এমন সত্যতা মিলে। রাজধানীর নীলক্ষেতসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক জাল পরিচয়পত্রও উদ্ধার করে পুলিশ। হালনাগাদ ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার ভোটারের নিবন্ধনও বাতিল হয়। অনুদানের জন্য ইউএনডিপি, ডিএফআইডি, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য ইআরডি বিভাগকে অনুরোধ করে ইসি সচিবালয়। দাতাদের কাছ থেকে সহায়তায় আশ্বাসও মিলেছে বলে ইআরডি সচিব জানান। বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতেও সরকারের পাশাপাশি নয়টি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা/দেশের যৌথভাবে অর্থায়ন করে। ইসি সচিব মুহম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, "ভোটারদের জন্য টেকসই অত্যাধুনিক জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করতে চায় ইসি। এ লক্ষ্যে ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল মেয়াদের একটি প্রকল্পও তৈরি করা হচ্ছে। কিন' এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার খাতে কারিগরি সহায়তায় বড় আকারের অর্থ প্রয়োজন।" পরিচয়পত্রের জন্য পৃথক উইং: জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা, পরিচয়পত্র তৈরি, বিতরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের সব দায়িত্ব ইসির। নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন শনিবার জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের পুরো কার্যক্রম দেখভাল করতে একজন মহাপরিচালকের তত্ত্বাবধানে 'ন্যাশনাল আইডেন্টিটি উইং' নামে ইসি সচিবালয়ের আলাদা অনুবিভাগ থাকবে। "জনগণকে সেবা দেওয়া নিশ্চিত করতে আলাদা উইং সৃষ্টি করে এবং এর ১২৫ জন লোকবল চেয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোরও সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। শিগগির তা পাঠানো হবে", বলেন নির্বাচন কমিশনার। সরকার ও দাতাদের অর্থায়নে প্রকল্প শুরু হলেই ফি নির্ধারণ ও অত্যাধুনিক পরিচয়পত্র বিতরণের সময়সূচির বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান সচিব। |
|
 |